"কাঠবেড়ালী"
-পুলক সাঁপুই।
কোনো এক সকালে
মটর সাইকেলে চেপে-
অজানা পথে বেরিয়েছিলাম,
শহর, মাঠ, ঘাট, গ্রাম ছেড়ে
এক বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে এসে দাঁড়াই।
দিকচক্রবাল জুড়ে ধুধু প্রান্তর,
সেথায় একটি অশ্বত্থ গাছ জীবনের গান গায়।
দাঁড়াই অশ্বত্থের ছায়া তলে, দিন শেষে,
গামছা বিছায়ে পিঠের ব্যাগ মাথায় রেখে শুই,
চোখ বন্ধ করি, অজানা স্বপ্নের দেশে দিই পাড়ি।
কাকলির কলতানে ঘুম আসে,
ঘুম ভাঙে কাঠবেড়ালীর ডাকে।
ক্লান্তি কাটে, ক্ষিদে পায় জোরে,
ব্যাগ থেকে বের করি খাবার যা আছে।
কিছু মুড়ি, কিছু সন্দেশ ও 'থেপলা' সাথে।
খাই গোগ্রাসে, সাথে শালিক, চড়ুই, ছাতারে, ফিঙে, দোয়েল ভিড় করে চার পাশে।
দুই কাঠবেড়ালী এদিক ওদিক চায়,
কূট কূট খায়, লেজ উঠিয়ে দৌড় দেয় আবার ফিরে আসে, যেন বন্ধু হতে চায়।
শরীর গাছের গায়ে হেলাই,
আরো একটু তন্দ্রা যাই।
পশ্চিমের আকাশে হয়েছে লাল, পূবের আকাশে নামে অন্ধকার,
চাঁদ ওঠে দেখি রুপালি থালার রোশনাই।
ভিন্ন ফড়িং ডাকে ভিন্ন বাঁশির সুরে,
পাখিদের কলতান কমেছে প্রায়,
উঠি, চোখে মুখে জল দিই,
সকলের সাথে আমিও ফিরি বাসায়,
মোটর সাইকেল করি স্টার্ট,
পিঠে নিই রুকস্যাক, কাঁধে গামছা জড়াই,
অশ্বত্থরে জানাই বিদায়।
ফিরি ঘরে, দরজা খুলে আলো জ্বালাই
স্নান করি, সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়।
ব্যাগ খুলে বাকি কিছু বের করার তাগিদে, চমকাই!
এ'যে দেখি সেই কাঠবেড়ালী দুটি
উঁকি দেয় আমারই ব্যাগের ভিতর হতে।
নেই ভয়, ঘোরে মেঝেতে, বিছানায়।
চড়ে টেবিলে, চেয়ারে, দেওয়ালে, গায়ে ও ওঠে দেখি।
আর সব শেষে নেয় আশ্রয় সেই রুকস্যাকে।
পরের দিন সকালে সেই অশ্বত্থ তলায় যাই, ব্যাগ খুলি, ফিরিয়ে দিতে সেই পুরাতন জায়গায়।
না! ফিরিবে না দুজনে বের না হতে চায় রুকস্যাক হতে।
ফিরে আসি তাদের নিয়ে আবার, রাখি ঘরের বাগানে,
সেই রুকস্যাক ঝোলাই আম গাছের ডালে,
আমার প্রিয় রুকস্যাক, এখন আর নেই যে আমার,
সেই দুটি প্রাণ করে সংসার সেই রুকস্যাকে, আমার হতে নিয়েছে কেড়ে পরিস্থিতির পথে।