Wednesday, March 31, 2021

Lino cut.

মিথ্যা ভুবনে সত্যের ঠিকানা একটি।

'এই ভুবনের' ধারক ও বাহক সমাজ ও ধর্ম,
'সেই ঠিকানায়' পৌঁছাতে চলতে হবে চেতনার আলো জ্বেলে।।


 

"পথ"

"পথ"
পুলক সাঁপুই।

প্রতিদিনের চলার পথ আমার,
আসা যাওয়া সকালে সন্ধ্যায়,
প্রতিদিনই একটু বসি, চারিধার দেখি, একটু গান গাই।
ভীষন আপন আমার এ পথ, প্রতি ঋতু-ই আমার দরকার।
এ পথে ময়ূর নাচে, কোকিল ডাকে, হরিণ ঘাস খায়।

নিস্তব্ধ বিরাজ করে চারিধার, বাতাস স্তব্ধ সেথায়, প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
শব্দ তরঙ্গ আকাশে বাতাসে ছেয়ে যায়,
গুড়ু গুড়ু রব ওঠে কালো কালো মেঘ ছায়।
বুঝি ঝড় আসে আমার এই রাস্তায়।
মোকাবিলার নেই কিছুই, প্রকৃতির কাছে সমর্পন বাধ্যতায়।

পথ ভেঙেচুরে একাকার, পুরানো পথ আছে- নেই ও আবার,
এখন পুরানো পথে বুঝি বাস করে হায়না,
এ জানোয়ার বিশ্বাসী নয় সকলেরই পরিচয়।

নতুন পথ ধরি, চলতে সেই একই ঠিকানায়,
দেখি, কুয়াশা ভরা কাদামাটি ঘাস, জল থৈ থৈ,
কচ্ছপ ঘুরে বেড়ায় এই রাস্তায়,
শক্ত আবরণে ঢাকা, তিন'শ বছর বাঁচে এ প্রাণী প্রায়।

আনন্দ ঝর্ণাধারায়, নদী বয় কলকল রবে,
দেখি কিশলয়! মধ্যাহ্ন কিরণে আলো বিচ্ছুরিত হয়।

 

Tuesday, March 30, 2021

"একটি আত্মার অপমৃত্যু"

"একটি আত্মার অপমৃত্যু"
-পুলক সাঁপুই।

দেখা হয় এক মৃত্যুর পূর্ববর্তী আত্মার সাথে,
ধীরে ধীরে আসে আমার কাছে
আমাকে আমন্ত্রণ জানায় তার মৃত্যু দেখার,
বসে, বলে তার ইতিহাস-
জানায় তার জন্মবৃতান্ত,
কেমন করে কেটেছে তার শৈশব, কৈশোর
কেমন করে হয়েছে দোষী সে বারবার,
কেমন করে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে অতঃপর।
বাঁচার অধিকার আছে কি তার আর? প্রয়োজন কোথায়?
ইচ্ছা মৃত্যুর সফলতা কোথায় বুঝতে চায়।
কল্প-গল্পের উপাখ্যান কেমন করে পথ পায়? জানতে চায়।
আমি অপেক্ষায় উদগ্রীব রই,
দেখিতে ওই আত্মার মৃত্যু কেমন করে হয়।

 

"পাখি"

"পাখি"
-পুলক সাঁপুই।

এক ডানা কাটা পাখি বাসায়,
ছানা নিয়ে সংসার সমাজের পেশায়,
ক্ষেত্র পরিবর্তনের চেষ্টায়
মনের আকাশে শুধু ডানা ঝাপটায়,
স্বপ্ন তার চোখে,- ছানাকে যুবতী বেশে
আসিবে সময় উড়িতে বাস্তব আকাশে,
সহসা হটাৎ দক্ষিনা হাওয়ায় প্রাণ ফিরে পায়,
এক আত্মার সাথে তার আত্মার দেখা পায়।
পাখি বোঝে তার হয়েছে সময়,
প্রানপন করে চেষ্টা, সফল হয় প্রায়!
হায়! সে সুযোগ আর নাহি তার,
তুফানের মাঝে পাখিটি ঘুরপাক খায় হতবুদ্ধি প্রায়।
সে নিরুপায়, তার মনের শক্তি ক্ষয়, আসে সমঝোতায়,
ধরা দেয় নিজেকে, পায় প্রাপ্য কিছু দানা ও বাসায় থাকার,
অতি আবেগপূর্ণ প্রেম দিয়ে ডানা কাটে- মালিক,
সমাজের নামে অতি সন্তর্পনে নতুন চুক্তির স্বাক্ষর হয়।
পাখির স্বপ্ন ছানাটিকে ঘিরে,- সবকিছু মেনে নেয়,
আজও পাখিটি গুন গুন গান গায়।


 

"আমাতে"

"আমাতে"
-পুলক সাঁপুই।

রাতের আঁধারে মন গহনে
ধ্রুবতারা হয়ে বসে আছে যারা,
শুধু দেখায় দিক,
মহান বাণীতে ছেয়ে রাখে মন,
অন্ধকারে স্বচ্ছ আকাশের উত্তরে
ঝলমল হয়ে দেখায় ভালো তাহা।
দিতে পারে না সে আলো,
দিতে পারে না সে উষ্ণতা,
পারবে না ঘটাতে সালোকসংশ্লেষ,
পারবে না দিতে জলরাশি থেকে মেঘপুঞ্জ,
মেঘপুঞ্জ থেকে বৃষ্টিধারা,
বহিবে না নদী, সমুদ্র তরঙ্গ,
বন-বনানী প্রকৃতির খেলা,
শুধুমাত্র উৎস সেথায় সূর্য কিরণ।
আঁধার ও আলো, কাটে দিন কাটে রাত অনন্তকাল।
প্রকৃতির খেলা ঘরে ক্ষুদ্র আমি হেথায়,
আত্মা আমার ইষ্টদেবতা।

 

Saturday, March 27, 2021

"প্রকৃতি"

"প্রকৃতি"
-পুলক সাঁপুই

আগ্নেয়গিরির প্রেমের গলিত লাভা
শীতল হয়ে ভালোবাসার পাথর জমে,
আজ সেথায় কিছু সবুজ দেখা যায়
কিছু পাখি আসে মল ত্যাগ করে
প্রজাপতির আসে ফুলে মধু খেতে
ভ্রমরা পরাগ ছাড়ায়,
প্রেমিক থাকে বসন্তের অপেক্ষায়।


 

"স্বপ্ন"

"স্বপ্ন"
-পুলক সাঁপুই।


টেবিলের উপর পিঁপড়ার ঝাঁক
কবিতার খাতায় করল অ্যাটাক
কাছে গিয়ে দেখি, চামকাই, একি!
তারা যে কবিতার শব্দ খুঁটে খুঁটে খায়।

অতি মনোযোগে, অতি গর্ব ভরে
অতি সাবধানে, অতি সন্তর্পনে
অতি ভাবাবেগে, অতি যত্ন নিয়ে
লিখেছিলাম কবিতা দুর্ধর্ষ দুরহ শব্দ বেছে বেছে।

আলো-ছায়া, ধরা-ছোঁয়া, লুকোচুরি
চোখ ধাঁধানো জটিল বাক্যের ফুলঝুরি,
সবকিছু মিলে এক কবিতার মিশেল,
পিঁপড়ারা দেখি সব খেয়ে করে দেয় শেষ।

প্রেম-ভালোবাসা, পরিশ্রমী মানুষ, ধর্মীয়, সামাজিক,
সব নিয়ে লিখি যা মানবিক সঠিক,
লিখি সকলের মাঝে থেকে সহজাত প্রাকৃতিক,
কবিতা যেমন পাখা মেলতে চায়।

পিঁপড়ার সারি ফিরে যায় দেখি
কাছে যাই ধীর পায়ে, তাকাই খাতায়,
হায় হায়! সব যে ওলটপালট, লেখা পাল্টায়!
কঠিন বাক্য ও শব্দ সবই সহজ হয়ে যায়।

পিঁপড়ার কামড়েই ঘুম ভাঙে ভোরে
উঠে বসি, ভাবি একি সংযোগ দেখি?
প্রতিদিনের কথা বলা, চলাফেরা,
সবই যদি হয় স্বাভাবিক,
 কবিতার ভাষা কেন হবে ব্যতিক্রমী?




 

Thursday, March 25, 2021

"পুনর্মিলন"

"পুনর্মিলন"
-পুলক সাঁপুই।

সেই পরিচয়ের প্রথম থেকে
কবিতায় বেঁধেছিলেম চিত্ত,
কতো মুহূর্ত পেরিয়েছে
কতো সন্ধ্যা গড়িয়েছে
কতো রাত্রি গেছে অভিসারে,
কতো স্বপ্ন হারিয়েছে। শেষে-
বাস্তব অঙ্গনে স্থির বিচরণ।

যা গেছে, গেছে, যা আছে-
রাখি জতনে, যতটুকু পাই।
ধূসর বর্ণ হতে রাঙাতে চাই রঙে
রংধনু হয়ে মন হতে মনে,
সময়ের সাথে অমোঘ অঙ্গীকারে।
এসো এসো তুমি, হয়ে মনের মণি
নিঃসঙ্গতার বারি ঝরাও তোমার-
আমার হৃদয়ের মরু দেশে, সঙ্গোপনে।


 

Wednesday, March 24, 2021

"আমাতে"

"আমাতে"
-পুলক সাঁপুই

মাটির আকাশ গড়ি
গড়ি ধাতব জল,
দুয়ারে ফাগুন আসে
করি টলমল।

মাটি পুড়ে ইট হয়
ইট টেরাকোটা লাল,
লাল মাটি মেঠো সুর
সুরে হরতাল।

কাল ছিলাম হরবোলা
আজ আমি বধির,
গুরু থেকে চেলা হই
জ্ঞানী থেকে পাপী।

সাদা কালো খুঁজে মরি
আপনার অন্তরে,
পাষাণ হাওয়ায় ওড়াই
দেখাই সোনার পাথর বাটি।

ঝর্ণা কলম হারাই
ধরি সিলেট-পেন্সিল,
অহং-এ দহন হোক
মুখ পড়ুক সত্যিই।

বৃক্ষের ফল হোক
সবার প্রয়োজনে,
মাকাল ফল হয়ে রই
ঘৃণ্য এ জীবনে।

জমিদার পাখি ওড়ায়
মুক্তি দেওয়ার সুখে,
চিড়িয়াখানায় ভিড় দেখি
হাজার মানুষের।

ছলনায় ভেক ধরে
করি জল ছলাৎ ছলাৎ,
কামনার আগুন জ্বলে
ফাগুনে পলাশ।

কাকের বদান্যতায় কি?
বসন্তে কুহু ডাক শুনি-
সমাজে ঠাঁই রাখি
মনে ঝালমুড়ি।

দুপুর জুড়ে বকম বকম
জোড়া কবুতর ডানা ঝাপটায়,
চুলায় ভাত পোড়ে
বাতাসে গন্ধ ছড়ায়।

কালো মনে কালি দিয়ে আঁকি
লক্ষ তারার তিমির,
তিমিরে মাঝে আশা রাখি
প্রেমের স্পন্দনের ফুলকারী।

 

Monday, March 22, 2021

"চিনি- তুমি কার?"

"চিনি- তুমি কার?"
-পুলক সাঁপুই।

পিঁপড়ার লাইন চলেছে সারি
আমি মেঝেয় উপুড় হয়ে শুয়ে দেখি,
চলেছে লক্ষ কালো ছয় পেয়ে আর্মি
আমার চিনির বয়ামে দিয়েছে পাড়ি।
খাওয়ার টেবিলে চলেছে সারি সারি
এক একটি দানা, কেউ নেয় একা,
দুই-তিন সাথে মিলে নিয়ে যায় বাসায় আবার।
আমি যাই রেগে, ভাবি ছিটাই 'হিট-স্প্রে',
আমার চিনির হামলাকারীদের করি জলাঞ্জলি।
পরক্ষনে নিজেরে সামলাই, গভীর চিন্তায় মগ্ন হই:
আর ভাবি:- "চিনি- তুমি কার?"
যে চাষী ঝরিয়েছে ঘাম, ইক্ষু চাষ করে, তুমি কি তার?
বা যে জমিতে ফলেছে ইক্ষু সেই জমির? অথবা সেই জমির মালিকের?
কিংবা চিনি ফ্যাক্টরির মালিক, যে কিনেছে ইক্ষু?
সেই শ্রমিকদের, যারা মেশিন চালিয়েছে দিনরাত চিনি তৈরির কারখানায়?
নতুবা, গুদামজাত করেছিল যে ব্যবসায়ী?
নহিলে, পাইকারি বা খুচরা বিক্রেতার?
না হয়, আমি কিনেছি আমার প্রয়োজনে,- আমার?
তবে কি! ঐ পিঁপড়াদের?
যারা সমাজের তরে এক যোগে মিলে বয়ে নিয়ে চলেছে বয়াম হতে?
বলো চিনি- "তুমি কার?"
তুমি নয়তো ইক্ষু'র চিনি আর,
ইক্ষু হতে জন্ম হলে ও 'তুমি-ই-তোমার'।
চিনি তুমি সকলার, যার যেমন রহে ব্যবহার।
তবে, 'চিনি'- সুগার রোগীর জন্য তুমি বড়োই বেদনার।


 

Sunday, March 21, 2021

"স্পাইক" ও "টম"

"স্পাইক" ও "টম"
-পুলক সাঁপুই।


পাশের বাড়ির 'রিনী'
চতুর্থ শ্রেণী পড়ে,
পুষেছিল বিড়াল ছানা এক,
নিজের সাথে নাম মিলিয়ে নাম রেখেছিল তার 'মিনি'।
সোহাগ করে দিনে রাতে তারে,
দুধ বিস্কুট খাওয়ায় তাকে,
দেয় মাছ, আর যা খেতে ভালোবাসে।
তার সাদা সাদা লোমে হাত বুলিয়ে আদর করে,
জড়িয়ে ঘুমায় একই লেপের তলে,
'মিনি' ছানা বেজায় সুখের বেড়ে ওঠে প্রেম ও ভালোবাসার মাঝে।
'রিনী' এখন নবম শ্রেণী পড়ে, হয়েছে ডাগর,
পথে ঘাটে চলাচলে অসুবিধায় পড়ে,
-সমাজের চ্যাংড়া ছেলেদের মাঝে।
অনেক ভেবে শেষে, বডিগার্ড প্রয়োজন বোঝে,
রিনীর দাদা নিয়ে এলো এক বিশাল ল্যাব্রাডর, 
মাত্র চার মাস বয়স তার,
বেশ ভয়ঙ্কর, ঘেউ ঘেউ ডাকে।
ছোটাছুটি ঘর ময়, নতুন জায়গা পায়,
হুল্লোড় চলে দিনে রাতে, 'মিনি' দূর হতে তাকিয়ে রয়।
'রিনী'র হাঁকডাক বাড়ে ল্যাব্রাডরের নাম 'নিনি' হয়।
মিনির আদর কমে, দ্যাখে দূরের জানলা দিয়ে,-
'রিনী' চলেছে সগর্বে 'নিনি'র গলায় দড়ি বেঁধে।
মিনির জায়গা এখন চিলেকোঠার টেবিলের নীচে,
'নিনি' ঘুমায় 'রিনী'র ঘরের বাহিরের বারান্দায়।
"স্পাইক" ও "টম"-এর খেলা জমে ওঠে,
কার্টুন ক্যারেক্টার হয়ে ওঠে রিনীর ঘরে,
শুধু 'জেরি' নেই সেখানে।
'মিনি' বুঝেছে তার পরিণতি,
সময়ের পথে দাঁড়িয়ে সে,
নিঃশব্দে বিদায়ের ইচ্ছায়।


 

Saturday, March 20, 2021

"কাঠবেড়ালী"



"কাঠবেড়ালী"
-পুলক সাঁপুই।

কোনো এক সকালে
মটর সাইকেলে চেপে-
অজানা পথে বেরিয়েছিলাম,
শহর, মাঠ, ঘাট, গ্রাম ছেড়ে
এক বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে এসে দাঁড়াই।
দিকচক্রবাল জুড়ে ধুধু প্রান্তর,
সেথায় একটি অশ্বত্থ গাছ জীবনের গান গায়।
দাঁড়াই অশ্বত্থের ছায়া তলে, দিন শেষে,
গামছা বিছায়ে পিঠের ব্যাগ মাথায় রেখে শুই,
চোখ বন্ধ করি, অজানা স্বপ্নের দেশে দিই পাড়ি।
কাকলির কলতানে ঘুম আসে,
ঘুম ভাঙে কাঠবেড়ালীর ডাকে।
ক্লান্তি কাটে, ক্ষিদে পায় জোরে,
ব্যাগ থেকে বের করি খাবার যা আছে।
কিছু মুড়ি, কিছু সন্দেশ ও 'থেপলা' সাথে।
খাই গোগ্রাসে, সাথে শালিক, চড়ুই, ছাতারে, ফিঙে, দোয়েল ভিড় করে চার পাশে।
দুই কাঠবেড়ালী এদিক ওদিক চায়,
কূট কূট খায়, লেজ উঠিয়ে দৌড় দেয় আবার ফিরে আসে, যেন বন্ধু হতে চায়।
শরীর গাছের গায়ে হেলাই, 
আরো একটু তন্দ্রা যাই।
পশ্চিমের আকাশে হয়েছে লাল, পূবের আকাশে নামে অন্ধকার,
চাঁদ ওঠে দেখি রুপালি থালার রোশনাই।
ভিন্ন ফড়িং ডাকে ভিন্ন বাঁশির সুরে, 
পাখিদের কলতান কমেছে প্রায়,
উঠি, চোখে মুখে জল দিই,
সকলের সাথে আমিও ফিরি বাসায়,
মোটর সাইকেল করি স্টার্ট,
পিঠে নিই রুকস্যাক, কাঁধে গামছা জড়াই,
অশ্বত্থরে জানাই বিদায়।
ফিরি ঘরে, দরজা খুলে আলো জ্বালাই
স্নান করি, সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়।
ব্যাগ খুলে বাকি কিছু বের করার তাগিদে, চমকাই!
এ'যে দেখি সেই কাঠবেড়ালী দুটি
উঁকি দেয় আমারই ব্যাগের ভিতর হতে।
নেই ভয়, ঘোরে মেঝেতে, বিছানায়।
চড়ে টেবিলে, চেয়ারে, দেওয়ালে, গায়ে ও ওঠে দেখি।
আর সব শেষে নেয় আশ্রয় সেই রুকস্যাকে।
পরের দিন সকালে সেই অশ্বত্থ তলায় যাই, ব্যাগ খুলি, ফিরিয়ে দিতে সেই পুরাতন জায়গায়।
না! ফিরিবে না দুজনে বের না হতে চায় রুকস্যাক হতে।
ফিরে আসি তাদের নিয়ে আবার, রাখি ঘরের বাগানে,
সেই রুকস্যাক ঝোলাই আম গাছের ডালে,
আমার প্রিয় রুকস্যাক, এখন আর নেই যে আমার,
সেই দুটি প্রাণ করে সংসার সেই রুকস্যাকে, আমার হতে নিয়েছে কেড়ে পরিস্থিতির পথে।


 

Wednesday, March 17, 2021

"ঘুঘু"

"ঘুঘু"
- পুলক সাঁপুই।

ঘরের বারান্দায় বসি প্রতিদিন
লিখে রাখি খাতায় রোজনামচা।
কুব কুব ডাক দেয় ঘুঘু এক জোড়া
কার্নিশের ধারে গুলমোহর গাছে।

দিন যায় মাস যায় বন্ধু হয়ে সাথে
কাছে এসে বসে টবে লাগানো গাছে,
জল দিই, দানা দিই ভালোবেসে
সময় কাটে তাদের সাথে আনন্দে।

একদিন দেখি এক ঘুঘু ঘোরে,
সাথে নেই অপর জুড়ি তার, বেচেরা!
একা ঘোরে, বড়ো একা লাগে তারে
সে ঠাঁই নেয় টবের এক কোনে।

কাঠি, তৃন, পাতা দিয়ে বাসা বানায়
বারান্দায় ছড়িয়ে থাকে কর্মকাণ্ড যত,
সাফ করি, দানাপানির সাথে দিই সময়।
ফল পাই দুটি ডিম, এ যে দেখি বিস্ময়!

চিঁ-চিঁ সাড়া পাই, ডানা ঝাপটায় দুই ছানা
ঝটপট ঝটপট ওড়ার ইচ্ছা জানায়,
ভোর সকালে হাতে নিয়ে কফি, ঘুরি বারান্দায়।
দেখি ফিরেছে সেই সাথী ঘুঘু, একত্রে হয়ে চার।

দুই দিন পরে গেল উড়ে সকলে
পড়ে আছে পরিত্যক্ত ডিম, কাঠি কুটি যত,
মরেছে টবের প্রিয় গাছ চন্দ্রমল্লিকা, 
যেথায় ঘুঘু বাসা করে ছিল।

কিছু প্রাণ যায়, কিছু প্রাণ বাঁচাতে
এ ভবের দেশে এমনি খেলা চলে,
আমি দেখি বসে, প্রিয় খাতা নিয়ে
আরো নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে।


 

Tuesday, March 16, 2021

"Metamorphosis" "রূপান্তর"

"Metamorphosis"
"রূপান্তর"
-পুলক সাঁপুই।

সজনে ডাটা গাছ
ভরে আছে শুয়োপোকা,
কিলবিল কিলবিল করে
চারিধার বেয়ে বেয়ে
গাছের পাতা খেয়ে শেষ করে।
একে একে ধাপ পরিবর্তন চলে
 অগোচরে নিজেরে তৈরী করে, 
 সময়ের সাথে বদলায় পিউপায়।
গুটি গুটি কৌশল গুটির ভিতরেই
আকারে রঙে পরিবর্তনে
অতি সন্তর্পনে আভাস ইঙ্গিতে,
এসেছে সময় দুচোখ ভরে দেখার।
নেচে নেচে উড়ে বেড়ায় প্রজাপতি,
হাজার বর্ণছটায় ফুলে ফুলে মধু খায়।
জীবনচক্রের পথে নতুন প্রজন্ম দেখি
ডালে ডালে, পাতায় পাতায়, কুড়িতে
প্রজাপতি ডিম দেয়, ডিম থেকে লার্ভায়,
শেষ থেকে শুরু এমন ভাবেই হয়।


 

"পথের বাঁকে"

"পথের বাঁকে"
-পুলক সাঁপুই।

কোনো এক ভোরে হাঁটি অজানা পথে
স্নিধ বাতাস গায়ে-মনে মেখে,
কিচির-মিচির, কা-কা, পিউ-পিউ পাখি ডাকে,
ক্যানেলের জলের স্রোত, কলো-কলো রবে বয়ে যায়।
দ্বিধাহীন মনে, প্রকৃতির মাঝে পাই আত্মসুখের ডাক।
পথের বাঁকে পুকুর পাড়ে বক, পানকৌড়ি, পাতিহাঁস, ঘুরে বেড়ায় মনের খেয়ালে।
দেখে থেমে যাই। বসি কিছুক্ষণ,
মন হারায়! তাদের ভিড়ে মিশে যাই।
মন ফিরে পাই হটাৎ করে পিছু ডাক শুনে, 
বলে- "শোন ছেলে, কেন ওদের মাঝে ভিড় বাড়াও?
ওরা থাক ওদের মতো,
তুমি হতে পারবে না তাদের মতো করে,
তোমার নিজের কাজে যাও।"
কে ডাকে এমন করে? খুঁজে ফিরি তারে, পাই না কোথাও।
শেষে দেখি, আমারই প্রতিচ্ছবি জলে।

 

"অভিন্নতা"

"অভিন্নতা"
-পুলক সাঁপুই।

পলাশ ফুলের মাঝে
কুহু-কুহু ককিলের ডাক,
বসন্ত এসে গেছে।

কাক ভোরে কা-কা
ছানাদের হেতু খাদ্য খোঁজে,
ক্ষুধার্ত তারা বাসায়।

প্রকৃতির ডাকে এ ধারা বহে
নিজ নিজ কাজ করে,
ভিন্নতা কিছুই নাই।


 

Sunday, March 14, 2021

"দুইয়ের মধ্যেই একত্ব"

"দুইয়ের মধ্যেই একত্ব"
-পুলক সাঁপুই

এক কার্তিকের ভোরে
কুয়াশা গায়ে মেখে ঘুরি,
পুকুর পাড়ে ঝোপঝাড়ে
শালুক ফুল বাতাসে দোলে।

হটাৎ দেখি মাকড়সার জালে
ফড়িং নাচে প্রানের দায়ে,
শিকারি তা সময় করে
এই বুঝি ধরল বলে!

আমি ভাবি কিছু করি
খাদ্যের! না খাদকের-ই!?
এমন সময় এসে ফিঙে
উড়ে গেল ফড়িং নিয়ে।

জীবনের এই চলার পথে
সবই দেখি একই সাথে,
ভালো-মন্দ দুইই সত্য
দুইয়ের মধ্যেই একত্ব।



 

Saturday, March 13, 2021

"এক কাপ কফি"

"এক কাপ কফি"
-পুলক সাঁপুই।

এক কাপ কফি,
ভীষন জরুরী।
সাথে বসে তুমি
নোটবুক হাতে,
লিখি আজেবাজে
বিমূর্ত ইতিকথা।

বারান্দার ঘুলঘুলিতে
চড়ুইয়ের অট্টলিকা,
কিচিরমিচির ডানা ঝাপটায়।
দূরে খেজুর গাছ সারি
বাবুইয়ের কুঁড়ে দোলে-
উল্টো কুঁজোর মতো ঝোলে
মনে হয় যাবে খসে পড়ে।
যুগ যুগ ধরে এ খেলা চলে
ঝড়, বৃষ্টি ও রোদে,
এরা আছে সুখে
দুজন দুজনের পথে-
খুশি হয়ে ওড়ে আকাশে।

মস্তিষ্ক তরঙ্গে মানুষ
ভিন্ন ধারায় চলে সমাজে,
আমি আছি বেঁচে-
তোমার সাথী হয়ে
সমাজ হতে দূরে, মনে-
একা হয়ে চরাচরে।


 

হৃদয়ের নামে মস্তিষ্ক খেলা করে"



"হৃদয়ের নামে মস্তিষ্ক খেলা করে"
- পুলক সাঁপুই

ক্লান্ত হেথায় আমি।
হৃদয়ের নামে মস্তিষ্ক খেলা করে,
এ কি সত্যিই দেখি!?
বেচারা হৃদয় অসুখে ভোগে।
গণিতের হিসাবে মেলেনা-
আবার বাস্তবে টিকে না এ ধারা,
যত জ্বালা সব নিজের নিজেই।
কি হবে লাভ লোকসানের বিচার করে?
ধনাত্মক কিছু না ঘটলে, লোকে নিয়তির কথা বলে।
তাই তুমি নিয়তির পথে গিয়ে,-
দোষী করো গো আমায়,
আমি সব দোষ নিলাম মাথা নত করে।
আমি আছি, থাকিব তেমনই ভাবে,
তুমি বুঝে নাও, তোমার মতো করে।


 

Thursday, March 11, 2021

প্রেম রোগ


প্রেমের ভাষা কবিতা
প্রেমের বাসা মন
প্রেমের গান প্রকৃতি
প্রেমের ভেলা স্বপ্ন
প্রেমের কান্না বিরহ
প্রেমের ভয় ছায়া
প্রেমের খিদে কায়া
প্রেমের সাহস বিশ্বাস
প্রেমের ভার অঙ্গীকার
প্রেমের বাঁধন ভরসা
প্রেমের সুখ চাটুলতা
প্রেমের তুমি-আমি
রহিব সমান-সমান


 

"ফিরে দেখা"

"ফিরে দেখা"
-পুলক সাঁপুই

বিদায়ের পথে গোধূলি বেলায়
আকাশের মেঘ নীল হতে কমলা
কমলা হতে রক্তাভ লাল হয়ে-
সন্ধ্যার মেঘ ধূসর হওয়ার আগেই,
তোমার আকুতি সেথা,- মন ফিরে চায়।

হৃদির ভালোবাসার সন্তর্পনে
মেঘ হয়ে বৃষ্টির ধারাপাতে ঝরে পড়ে,
প্রকৃতি ভেজায় এক যোগে দুজনায়।
ধুয়ে যায় ধূলিকণা, সবুজে প্রাণ পায়
মাটির সোঁদা গন্ধে প্রেম উৎজীবিত হয়।

এসো, তোমার আহ্বানে হাঁটি কিছুদূর একসাথে
অনন্ত প্রেম রহে অন্তরে অন্তরে
জোনাকির সাথে এক হয়ে মিশে
লক্ষ তারার তিমিরে করি আলিঙ্গন,
সরিষা ক্ষেতের মাঝে ফুল তোলে আলোড়ন।


 

মস্তিষ্ক ও হৃদয়

মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃদয় জটিল ও স্বতন্ত্র।
অন্তরাত্মা-ই এর সত্যতা বিচার করতে পারে।
সেই আত্মাই অপরের প্রতি সত্যের শিকার, সন্দেহের পথ, ভরসার অবক্ষয়।
অতএব, মানুষ মিথ্যা জগতের আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়।।



 

Wednesday, March 10, 2021

"আরশির প্রতিবিম্বরে জিজ্ঞাস্য"

"আরশির প্রতিবিম্বরে জিজ্ঞাস্য"
- পুলক সাঁপুই

মনে আছে কি প্রিয়?
মন লুভায়ে প্রেম আলিঙ্গনে,
সহস্র গভীর রাত মুঠোফোনে
কাটিয়েছি সঙ্গপনে কায়া-মনে অন্তিম কামনায়।
আজ হায়! সময়ের সাথে মন বয়ে যায়,
ভিন্ন ধারায়, ভিন্ন পথে, তোমাতে-আমাতে,
কাল যা ছিল বাস্তব বিশ্বাসে
আজ নেই আর সেই ভরসা।
কৃত্রিম বিবরণের পাহাড় দেখি, লাগে ছলনা,
পাই না খুঁজে পুরানো সেই প্রিয়তমা-
প্রেম যেথায় আবেগ মাখা স্বার্থে ভরপুর,
ভালোবাসার নামে তাহা হৃদয় কাঁদায়।
প্রণয়ী আমার,- হারিয়েছি তোমার ফেলে আসা মন ও কায়া,
মন গহনে আছো তুমি, রহিবে চিরকাল প্রেম-বেদনায়।
আরশির সম্মুখে দাঁড়াও, প্রতিবিম্বরে জিজ্ঞাস্য-
আমাদের প্রেমের বাস্তবতার ইতিহাস।


 

Tuesday, March 9, 2021

Linocut

মিথ্যা সমষ্টির ধারা
ধর্ম ও সমাজের কোলাহলে,
সত্য এককে স্থির
একা হয়ে এ চরাচরে।।


 

"পথ চলা শুরু"

"পথ চলা শুরু"
- পুলক সাঁপুই

ক্ষমা করো মোরে
আর চাহি নাহি কিছু-
তোমা হতে যাহা...
থাকো তুমি সুখী হয়ে।

কখনো যদি সত্যিই প্রয়োজন পড়ে
বাঁচার তাগিদে জীবনের তরে,
ডাকিবে আমায়, আসিব ফিরে
আগের মতোই হাত বাড়িয়ে...

এসেছে সময় আমার
ফিরিতে হবে সেই দেশে,
আসমানী রঙ মেখে
নিরীশ্বরবাদী পাগলের বেশে।


 

"আপন পথে"


"আপন পথে"
- পুলক সাঁপুই।"

সময়ের সাথে মন বয়ে যায়
ভিন্ন ধারায়, ভিন্ন প্রয়োজনে,
কি হবে আর অহংকে বেচাকেনা করে?
তোমার পথে তুমি চলো, আমার পথে আমি,
স্বার্থের সাথে সকলে আমরা নিজের কাছে দামী,
সেথায় সকলেই সত্য হয়- আপন অন্তর্যামী।।


 


Thursday, March 4, 2021

"নয়নতারা"

"নয়নতারা"
-পুলক সাঁপুই

প্রতিদিনের ফুলবাগানে
নয়নের মনি করে রাখি
নয়নতারা গাছ এক।
ফুল ফোটে হেসে-খেলে
শোভা দেয় মনে-প্রানে।
একদা বাগানে ফুল ফুটিল না
প্রজাপতি উড়িল না
ভ্রমরা গাইলো না গুন গুন গান।
একা আমি মনে থেকে
বলি তাই নয়নতারা গাছেরে-
ফোটাও ফুল প্রেম ভরে
পেতে পারি শোভা তোমার
ভীষন আপন করে।
গাছ হেসে কয়-
ফুল ফোটে ঠিকই,
ফুল পায় পূজারী
তোমার শোভা দেখার হয় নি সময়।


 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...