Wednesday, August 31, 2022

"পাগল ভৈরব - ২৭“

“পাগল ভৈরব - ২৭“
- পুলক সাঁপুই।

আজ এসেছি পাগলের ডেরায় সন্ধ্যার অন্ধকারে
উপরে পেঁচা নিচে বিড়ালের চোখ জ্বলে,
বলি চুপি চুপি উতলা মনের সংশয় ঘুচাও -
ভালোবাসা, ঘৃণা ও সন্দেহ বিষয়ে একটু তথ্য দাও।
ভৈরব বলে; -
"আত্ম পরিতৃপ্তি থেকে সুখ দোঁহে মিলে রূপান্তর ভালোবাসার।
যেমন, তৃষ্ণার্থ জল পান করে তৃপ্তি পায়,
অন্তরঙ্গতার মর্যাদা ভালোবাসাতে সম্পূর্ণ হয়।

স্বার্থের অপূর্ণতা থেকে ক্ষোভ,
ক্ষোভ থেকে ঘৃণা, ঘৃণা থেকে বর্জ্য,
তাই যেথায় ঘৃণা সেথায় সন্দেহ শূন্য।

স্ব-বিরোধিতা সন্দেহের জন্ম দেয়,
যুগলের পরিপূর্ণতায় সন্দেহ দূর হয়।
জীবনে বাঁচার প্রথম প্রয়াস
উৎকৃষ্টের উপযুক্ত সম্মান।"


 

Sunday, August 28, 2022

"পাগল ভৈরব - ২৬“

"পাগল ভৈরব - ২৬"
- পুলক সাঁপুই।

গোধূলী বেলায়, সিঁদুরে মেঘ পশ্চিম আকাশে
নিস্তব্ধ, জনমানব শূন্য অরণ্য,
পাথর খন্ডের উপরে বসে ভৈরব
খোলা দীর্ঘ চুলদাড়ি ওড়ে সন সন বাতাসে।
দুই নারী পৌঁছায় পাগলের কাছে;
এক নারী, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত, সংসারে ক্লান্ত,
অন্য নারী, কলস্রোতা প্রেমী,
এসেছে আকুতি নিয়ে, প্রেমের তাৎপর্য জানতে চায়।

সংসারে নির্ভরশীলতার চাপে কি প্রেম হারায়?
প্রেম কি অতিথি, জীবনে বারবার আসে আর যায়?
ভৈরব মৃদু হেসে বলে; -
"চর্মচক্ষুতে যাহা প্রেম তা বাসনার উদ্গার,
অবিদিত মনের ক্ষুদা, সাময়িক বাঁচার আশা।

প্রেম প্রবাহে মাধ্যম প্রয়োজন হয়,
জন্ম থেকে প্রেমের শুরু মাতৃ প্রেমের সাথে।
প্রেম মননশক্তি, মনকে সুনিদিষ্ট ভাবে উদ্দীপনা যোগায়।
প্রেম জীবনীশক্তি, দেহে পরম উদ্যম প্রাপ্ত করে
প্রেম কর্মশক্তি, কর্মই ধর্ম আজীবনের উচ্ছাসে।
প্রকৃতিক নিয়মে স্বতন্ত্র মনে প্রেমের প্রবাহ ঘটে।
জ্ঞানতৃষ্ণার আধারে প্রেম,
উদ্ভাবনী ধারায় প্রেম, 
তত্ত্ব অনুধাবনে প্রেম।

প্রেম অহংকারের পাষাণ ভেঙে সদানন্দে ভাসে।
প্রেম চঞ্চল চিত্ত থেকে সংকল্পে নিবিষ্ট করে।
প্রেম ধর্মের রঙ ছেড়ে ধাবিত হয় মানোবতার পথে।
"মননশক্তি, জীবনীশক্তি, কর্মশক্তি"; -
এই তিন শক্তির উদ্দীপনায় প্রেম প্রবাহিত হয় আপন মহিমায় মরণোত্তরে।"


 

Saturday, August 27, 2022

পাগল ভৈরব -২৫

পাগল ভৈরব -২৫
- পুলক সাঁপুই।

ভোরে, পশ্চিমে অন্ধকার কাটেনি তখনও
পূবের আকাশ লাল কমলা হলুদে।
এক বিশাল পাথর খন্ডের উপরে ভৈরব দাঁড়িয়ে,
আলোর দিকে তাকিয়ে দুই হাত উপরে
গুরুগম্ভীর নিনাদে বলে; -
"আমি পাগল ভৈরব,
আমিই জীবন আমিই মৃত্যু,
আমিই উর্বর আমিই ঊষর,
আমিই সম্পুর্ণ আমিই শূন্য,
আমিই যতন আমিই যাতনা।
আমিই রূপ আমিই রেখা ,
আমিই ধারক আমিই বাহক,
আমিই প্রেম আমিই যৌবন,
আমিই জ্ঞান আমিই কর্মময়।
আমাকে যেমন রাখিবে হৃদয়ে
প্রকট হইবো তেমন; তব কর্ম জীবনে।
আমি সূর্যের মতো দিতে পারি তেজ
চন্দ্রের মত স্নিগ্ধতা,
আমি বজ্রের মতো শক্তি ধরিব
বৃষ্টি ধারায় অঙ্কুরোদগম ঘটাব।
এই সৃষ্টির মাঝে আমিই স্রষ্টা
হইব বিলীন এই প্রকৃতিতে।"


 

Tuesday, August 23, 2022

"পাগল ভৈরব -২৪"

"পাগল ভৈরব -২৪"
- পুলক সাঁপুই।

বৃষ্টির ধারা অবিরত, আকাশ বুঝি ভেঙ্গে পড়ে
পথ ঘাট এক হয়ে চারিদিক জলময়,
বর্ষাতি পরে চলেছি, প্রকৃতির রূপ প্রাণভরে দেখতে।
ঝমঝম বৃষ্টিতে ধূসর চারিদিক, যতদূর চোখ যায়,
রাস্তার পাশে এক পরিত্যাক্ত টিনের চালায়
পাগল ভৈরব বসে মাচায়, বৃষ্টি দ্যাখে,
প্যাঁচা আড়কাঠে বসে ঝিমায়, পাসে বিড়াল ঘুমায়। 
কাছে যাই, কিছু কথা বলি, শেষে জিজ্ঞাসা করি; - 
ভৈরব আমাকে বল, দৈনতা কাকে বলে? 
দৈনতার তাৎপর্য কি?
পাগল বুক ভরে শ্বাস নিয়ে বলে; -
দৈনতা মনের চোরা গলি, 
মনের দারিদ্রতায় সর্বহারা, কোথাও ঠাঁই নাহি পায়,
পরিস্থিতির চলমান প্রবাহে সন্তুষ্টি মেলে না সেথায়
দৈনতায় নেই ধনী ও দরিদ্র ভেদাভেদ।
দৈনতা আখাঙ্খার পর্বত; আসমান ছুঁতে চায়,
লালসার মহাতরঙ্গ জাগে সাত সমুদ্রে,
চাহিদার বালুঝড়ে মরুভূমি লজ্জা পায়,
সুখ থাকে হামেশা ভবিষ্যতের আশায়।
অতীতের দিনগুলি আফসোস মনে হয়,
পড়শীর প্রতি ঈর্ষায় বর্তমানের সময় করে ব্যয়। 
দৈনতা দুঃখ বিলাসী বানায়
না পাওয়ায় বেদনায় ক্ষত দেখা দেয়,
দৈনতা সঠিক কর্মপথ হারায়
আলস্য মনে উৎকণ্ঠা বাড়ায়,
দৈনতা প্রেম হারায়, ভরসা হারায়,
দৈনতা বাস্তবতার সুখ ছেড়ে অন্ধকারে ঝাঁপায়,
অনুযোগ অবিরত বিপরীতের প্রতি প্রতিষ্টা করতে চায়।

দৈনতা থেকে মুক্তি পেতে যদি চাও; -
আত্মবিশ্বাসী হও, নিজেকে মর্যাদা দাও,
অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রেখে -
প্রেমপূর্ণ মনে বর্তমান পরিস্থিতিকে সামাল দিয়ে
বাস্তবভিত্তিক পথে নিজেকে গড়ার লক্ষ্যে 
এগিয়ে চলো তুমি যা চাও।


 

Thursday, August 18, 2022

পাগল ভৈরব -২৩"

"পাগল ভৈরব -২৩"
পুলক সাঁপুই।

বৃষ্টিতে ভিজে পাগল ভৈরব হেঁটে চলে
গাছপালা ঘরবাড়ি পিছে ফেলে সবই,
জল থৈথৈ রাস্তাঘাট, জনমানব শূন্য প্রায়,
এক রমণী সেথায় পথ আটকায়।
বলে, - "পাগল দাঁড়া একটু,
কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাও, -
সত্য কি? 
বিশ্বাস? উপলব্ধি?
পুরো মানবজাতি যা ভাবছে এই নিয়ে..."
ভৈরব দাঁড়ায়, রমণীর মুখ পানে তাকিয়ে বলে
"পুরো মানবজাতি কি ভাবে, তা আমি বুঝি না,
আমি কি ভাবছি ও কি বলতে চাইছি তা আমার সম্পুর্ণ নিজস্ব।
আমার নিজের মনোভাব মানবজাতির নামে বলতে পারি না।
নিজের সত্য নিজেই জানি, নিজের সত্য অন্যের জন্য নয়।
সামনের ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের মধ্যে যা সত্য আছে তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে সত্য সম্পর্ক। 
আর সেই সম্পর্ক থেকেই বিশ্বাস জন্ম নেয়।
সেই বিশ্বাসকে প্রতিপালন করেই সম্পর্কের পরিস্তিতি ও পর্যায় নির্ধারণ করা হয়।
  
আমার কাছে 'সত্য' বিশ্বাস নয়
'সত্য' পরিস্থিতির বিষয় বা নির্বন্ধ, -
এরপর 'সত্য' উপলব্ধিতে ধায়।

সত্য প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা,
সেই সত্য ঘটনার উপলব্ধি তার আপন মনকে নাড়া দেয়,
তবে সেই উপলব্ধি অন্যের সাথে ভাগ করে নিতে যদি চাও 
তাহা সম্পুর্ণ আপনার নিজস্ব ব্যাপার।
সত্য এককে স্থির।
মিথ্যা অনেক, কাল্পনিক কথামালার সমাহার।"



 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...