Wednesday, April 27, 2022

গল্প: প্রেমকথা

গল্প: প্রেমকথা
কলমে: পুলক সাঁপুই 

দীঘির পাড়। দূরে সারি সারি তাল গাছ। মৃদুমন্দ বাতাস। জল তরঙ্গে ঝিলমিল করছে বিকালের পড়ন্ত রোদ।
দুটি প্রাণ প্রেমে অন্তরঙ্গ হয়ে বসে।
সবুজ ঘাসের ঝোপে সবুজ শাড়ি, লাল পাঞ্জাবী ও লাল ফুল গাছের সাথে মিশে। নয়নাভিরাম দুজনে। 

- ঐ দেখো বাঁদিকে দীঘির পানিতে সাদা শাপলা ফুল, যেন আমি।
- ডান দিকের জলে দেখো প্রিয়, লাল পদ্ম ফুটে আছে, আমি মনে করো।
- আমি আছি বাঁপাশে, তুমি আছো ডানে,
প্রেম তরঙ্গ বহে বাতাসে ও মনে।
- তোমরা যাকে পানি বলো, আমরা বলি জল,
ধর্মের কারণে, অকারণ গেঁড়াকল।
- শুনেছি সাদা যতো সুগন্ধী ফুল আছে, সবই আমার ধর্মে বলে; বেলী, রজনীগন্ধা ইত্যাদি। 
- গাঁদা, জবা, ইত্যাদি লাল কমলা হলুদ ফুল আমার ধর্মে পড়ে। নিল বেগুনী ফুল জানি না কোন ধর্মে পড়ে। 

- তোমার লাল পাঞ্জাবির পকেটে আমার ভালোবাসার সাদা গোলাপ ফুল দিলাম, আমার প্রতীক। সুন্দর লাগছে তোমায়।
- তোমার এই ঘন কালো মখমলের মতো চুলে গুঁজে দিই রক্তজবা প্রেমের প্রতীক লাল রঙে।
- শুনেছি খেজুর, আখরোট আমাদের ধর্মের,
কলা, নারকেল তোমাদের।
আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি কোন ধর্মে পড়ে; এখনো ও কোথাও কিছু শুনিনি।
- লাল লাল সবজি যতো; আমার ধর্ম মতে,
সবুজ সবজি তোমাদের পড়ে। বেগুন কোন দিকে যাবে বেগুনী রঙের হলে?
- সরে এসো এই দিকে, নইলে কামড় দিবে।
দেখো পাশে লাল পিঁপড়া, তোমার ধর্ম।
ঐ যে দূরের কালো ছোটো নিরীহ পিঁপড়া; আমার ধর্ম। গাঁজাখুরি ধার্মিকেরা বিকৃত মনোবৃত্তিতে বলে।
- দূরে ছাগল চরে; তোমরা বকরী বলো।
- আমাদের উট; গোরু তোমাদের শুভ। কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধার্মিকেরা ছাড়েনি কিট-পতঙ্গ পশুকেও।
-উটের দুধের চা খেয়েছো কখনো? সুস্বাদু। রাজস্থানে গিয়েছিলাম উটের পিঠে চড়েছিলাম। বেশ মজা লেগেছিল।
- এক ধর্মশালায় পিতলের থালায় নারকেল নাড়ু ও পায়েস খেয়েছিলাম।
কি অপূর্ব স্বাদের! ঐ গুলি তোমার ধর্ম মতে।
- তোমার চোখে কাজল। কপালে দিয়েছো টিপ। তুমি অপরূপা সুন্দরী।
তোমার হাতে মেহেন্দি এঁকেছ প্রেমের যুগোল দেবতা, 
পায়েতে দিয়েছো টুকটুকে লাল আলতা। 
প্রকৃতির ডাকে প্রেম অভিসারে দুজনে আমরা।
- আমাদের মধুচন্দ্রিমায় খাট ও পালঙ্কের মিলন হবে। রজনীগন্ধা ও বেলী ফুল, গাঁদা ফুল ও চন্দ্রমল্লিকা দিয়ে সাজানো হবে।
- এবার চলো উঠি ক্ষুদা লাগে। ক্ষুধার্তের কি কোনোও ধর্ম আছে?
- তরমুজ খাওয়া যাবে। বাহিরে সবুজ; ভিতরে লাল। একই ফলে দুই ধর্মের সহবাস।
- আমি খাবো বিফ হ্যামবার্গার
- আমি খাবো পোর্ক সালামি
- আমি খাবো বিফ বল
- আমি খাবো পোর্ক আফ্রিটাডা। 
- দুজনেই ভাগ করে খাবো সমান সমান।


 

পাগল ভৈরব -১৩

পাগল ভৈরব -১৩
- পুলক সাঁপুই।

দিন যায় মাস যায়,
পাগল ভৈরব তুই কোথায়?
বড়ো অসহায় আমি আজ,
ঠিক ভুলের পথ খুঁজি বার বার।
প্রকৃতির পথে প্রেম ভেসে আসে
আমি ভিজচ্ছি উল্লাসে
রোপণ করছি আমার সৃজন যাহা,
তুই বলে যা -
কেমনে রাখবো এই অবিরাম ধারা?
আগামী ভবিষ্যতে দেখাতে দ্যুতি
সাজিয়ে দীপ জ্বালিয়ে আলো
পুড়িয়ে আগরবাতি সুগন্ধী ছড়ায়।
ধর্ম জাত কুসংস্কার ছুঁড়ে ফেলে;
মিলিতে মানুষের সাথে মানুষে
নিরীশ্বরের দেশে মানবধর্মের মালা গেঁথে।

"প্রকৃতির প্রেমে জনম যেমন
প্রকৃতির মাঝে হইবো বিলীন,
তবে কেন শঙ্কা আসমানে যে রহে
কল্পনার ঈশ্বর।
যার নামে রাজনীতি ও ব্যাবসা করে,
নিরীহ ধার্মিকের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গে।
লিখে যা তুই , এঁকে যা তুই
সত্য যা মানুষের মাঝে মানুষের প্রয়োজনে।
আমি ভৈরব আছি সাথে তোর হৃদয়ের মাঝখানে।"


 

Saturday, April 23, 2022

"এক ও ভিন্ন"

#অনুগল্প
"এক ও ভিন্ন"
- পুলক সাঁপুই। 

বিধু ও রনি দুই ল্যাংটা বেলার বন্ধু। জোড়া পায়রা। দুই প্রাণ এক আত্ম। রাস্তা ঘাটে, খেলার মাঠে সর্বত্র একসঙ্গে। প্রায় পনেরো বছর বয়স পর্যন্ত। এর পরে ছেদ পড়ে বন্ধুত্বের।
বিধু কর্ম জীবন শুরু করে ঈশ্বরের নামে মানুষের জীবন যাপনের শিক্ষা দিতে। মৃত্যুর পরে মানুষের স্বর্গ, বেহেশত, হেভেন নামক কল্পনার দেশে যাওয়ার ভিসা দিতে।
রনি তার কর্ম জীবন বেছে নিয়েছে মানুষকে শিক্ষা দিতে। কোনো উপকার নয়, প্রয়োজনে ক্ষতি করে। তার প্রয়োজনে সে মানুষকে স্বর্গে, বেহেশতে, বা হেভেন- এ পাঠাতে দ্বিধা না করে।
সময় চলে নিয়তির পথে। 

বিধু দেশে বিদেশে ধর্ম প্রচার করে বেড়ায়।
টিভিতে ধর্মকথা শোনায় ধর্মীয় চ্যানেলে।
রনি দেশে বিদেশে চোরাচালানে ব্যাস্ত। শ্রীঘর অথবা গনিকালয় তার ঠিকানা। টিভিতে তার খবর পাওয়া যায় ক্রাইম নিউজে। 

প্রায় পঞ্চাশ বছর পর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়।
যেথায় বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়।
যার মানদণ্ড ক্ষমতা। তার নাম রাজনীতি। 

সমাজের নামে যাকে প্রতিষ্ঠা বলে, তারা দুজনেই সমান মর্যাদায় ভূষিত।
জমিজমা, বাড়ি, গাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স ইত্যাদি ইত্যাদি।
দুজনেই আজ রাজনৈতিক নেতা। 
আজ তারা দুই প্রাণ এক আত্মা। 

দেশে অরাজকতার জোয়ার বইছে। হাঙ্গামা হুল্লোড়ে মেতে মানুষ।
এক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, রাজকীয় পরিবেশ। পিজি হাসপাতাল, উডবার্ন ব্লক।
দুজনে মুখোমুখি। দুই প্রাণ এক আত্মা হয়ে কথা কয়।
"বিধু তুই ধর্মব্যসায়ী। দেশের বোকা ধার্মিকেরা অন্ধ হয়ে তোর কথা শোনে।
তোর ইশারায় তারা কাঁঠাল পাতা চিবায় ছাগলের ন্যায়। তোর মৃত্যুর পর ঈশ্বরের মেহেরবানীতে স্বর্গ বা বেহেশত বা হেভেন- এর সুখ পাবি।"
"রনি, মৃত্যুর পর কি হবে তা জীবিত মানুষের অজানা। তুই পেয়েছিস জীবদ্দশায় অপ্সরা, হুরপরী ও এঞ্জেলদের মতো সুন্দরী নারীদের সুখ। তবে, সাথে  পেয়েছিস মানুষের ঘৃনা অনেক।" 

দুজনেই শিকারুক্তি করে ওঠে এক সাথে;-
"আমরা ভন্ড, আমরা অমানবিক নিজেদের পথে। জীবনের শেষ পথে এসে বলি, নিজের কাছে নিজেকে ঠকিয়েছি। নিজেরা হেরেছি নিজেদের কাছে। এমন আফসোস আগামী প্রজন্ম না করে।"

 

Wednesday, April 20, 2022

"ঈশ্বর চিন্তিত"

#অনুগল্প
#ঈশ্বর_চিন্তিত
- পুলক সাঁপুই। 

ঈশ্বর চিন্তিত।
সময়ের সাথে সাথেই পৃথিবীতে লোকসংখ্যা বেড়ে চলেছে। এবং ধার্মিকের সংখ্যা।
জন্ম হলে মৃত্যু হবেই।
প্রত্যেক ধার্মিক মৃত্যুর পর জান্নাতবাসী হবেই।
সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন লাখ লাখ ধার্মিক জন্ম নেয়।
সারা পৃথিবীর ধার্মিক এক দিনে হাজার হাজার জান্নাতবাসী হয়।
ধার্মিকেরা তাদের ধর্মীয় প্রথায় নিজস্ব বিশ্বাসে নিজস্ব জ্ঞান ও বুদ্ধিতে পুণ্য অর্জন করে। জান্নাতবাসী হবার লোভেই।
তারা ভালো ভালো কাজ করুক অথবা বিধর্মীকে মারুক, কাটুক, ঘৃনা করুক অথবা ভালোবাসুক। 
সকলেই জান্নাতে যাবেই।
সবই ভালো।
জান্নাতে পৃথিবী থেকে আসা ধার্মিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।
সমস্যা এখানে নয়।
সমস্যা তবে কোথায় ?
সমস্যা পুরুষ জান্নাতবাসীদের নিয়ে
- সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন এক হাজার ধার্মিকপুরুষ জান্নাতবাসী হলে, ঈশ্বরকে ঐ একই দিনেই বাহাত্তর হাজার হুর পরী প্রভাইট করতে হবে ঐ জান্নাতবাসী পুরুষদের জন্য। 

ধর্মের উদ্ভবের সাথে সাথে ধার্মিকেরা জান্নাতি হয়ে চলেছে।
জান্নাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন জান্নাতি পুরুষ আয়াশে দিন কাটিয়ে চলেছে যুগের পর যুগ হতে।
তারা সর্বক্ষণ মত্ত থাকে হুরেদের সাথে আরামে।
তারপর, এই জান্নাতবাসীরা হুরেদের সাথে সুরা পান করে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আহ্লাদে আটখানা হয়ে সময় অতিবাহিত করে। 
এর ফলস্বরূপ, নিঃসৃত উছলে পড়া তরল ও  সুরা মিলে মিশে গড়িয়ে পড়ে এক সাগরের উদ্ভব হয়। 
জান্নাতবাসী পুরুষ ভালোবেসে সেই সাগরের নাম দেয় বিচিত্রবীর্য সাগর।
ঈশ্বর বুঝি এইসব দেখে এক সমাধানে এসেছে।
পৃথিবীর মানুষদের পৃথিবীতেই জান্নাত-জাহান্নাম বানিয়ে দেবে।
মানুষের মানবিক ও নৈতিক কাজকর্মের
বিচারে।


 

Monday, April 18, 2022

"হারু বাদশা"

#গল্প
হারু বাদশা
- পুলক সাঁপুই। 

হারু ডাকাত। ইয়া বড়ো গোঁফ, ঝাঁকড়া চুল, গামছা দিয়ে ফ্যাট্টী বাঁধা।
হারু ডাকাতের বিশ জন সাগরেদ নিয়ে একটি ডাকাত দল।
হারু ডাকাত নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান বলে নিজেকে ঘোষণা করে।
ঈশ্বর তাকে যা যা স্বপ্নে বলে, হারু ডাকাত সেই ভাবেই পথ চলে।
হারু ডাকাতের দল ধনী ব্যক্তিদের ধন-সম্পদ লুঠ করে ও প্রয়োজনে হত্যা করে।
হারু ডাকাত গরীবদের সাহায্য করে, যারা তাকে ঈশ্বর ভাবে।
বেশ কয়েকটা গ্রাম জুড়ে হারু ডাকাতের আধিপত্য।
হারু ডাকাত এখন হারু বাদশা নামে বিখ্যাত।
হারু বাদশা যা যা স্বপ্নের মধ্যে ঈশ্বরের বার্তা পায়, সেই সমস্ত রীতি পদ্ধতি ও আইন কানুন প্রয়োগ করে তার রাজত্বে চালায়। 
সেই আইন কানুন না মানলে কল্লা যেত মানুষের।
এক অবাধ্য সাগরেদ হারু বাদশার এমন ঈশ্বরীয় ক্ষমতার বিশ্বাস করত না।
তাই, গোপনে হারু বাদশার খাবারে বিষ প্রয়োগ করে।
হারু বাদশা অসুস্থ হয়ে কয়েক বছের পরে মারা যায়।
হারু বাদশার সাগরেদের মধ্যে লড়াই চলে ক্ষমতার মসনদে।
পরিশেষে, সকলে আলাদা আলাদা হয়ে হারু বাদশার নামে রাজত্ব বিস্তার করে চলে।
হারু বাদশা এখনও বেঁচে আছে আমাদের মনে।

 

পাগলা ভৈরব- ১২"

"পাগলা ভৈরব- ১২"
- পুলক_সাঁপুই। 

নিয়ন আলোয় আলোকিত ঝকঝকে শহর
চকচকে মানুষের অভিব্যক্তি,
হরেক ধর্ম, হরেক জাতি, হরেক ভাষার মানুষ
মানব মেলার প্রাঙ্গণে উৎসবে উঠেছে মেতে।
মাঝে এক ডাস্টবিন; মানুষের অপ্রয়োজনীয় আবর্জনার স্তূপ,
স্তূপের মাথায় পাগলের উপস্থিতি;
চোঙা মাইক নিয়ে চিৎকার করে বলে; - 

"আমার প্রিয় পরিজন সকল,
আমি পাগল ভৈরব খ্যাত তোমাদের মাঝে
হেথায় মানুষের ভিড় কোলাহল;
নয় কোনো ধর্ম সম্মেলন।
এই সুযোগে তোমাদের করি কিছু সত্য বর্ণন। 

ধার্মিক নিজের ও ধর্মের স্বার্থে মিথ্যাবাদী হতে পারে;
তবুও তারা ধার্মিক বলে গর্ব করে নিজেকে। 

নাস্তিক মানব বিজ্ঞানের স্বার্থে চলে সত্যের পথে,
তাই তাদের বিধর্মী বলে ধার্মিকে। 

ধর্ম সমাজে বহুরূপীর মুখোশ ধারণ, 
লগিয়ে রঙের প্রলেপ করে অন্ধ আচরণ। 

ধার্মিক বিজ্ঞান খুঁজতে গিয়ে দিশাহারা হয় ধর্ম পুস্তকে,
ভুলে ভরা গোঁজামিলে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্য রাখে অন্ধ বিশ্বাসে। 

ধার্মিক স্বর্গ বা জান্নাতের লোভাতুর স্বপ্ন দেখে  মৃত্যুর পরে হায়! 

এই মানব জনমে মানবতার পথে 
ধরিত্রীকে গড়ে তোলো সবে নন্দনকাননে।
প্রকৃতির প্রেমে মানবের জনম ধারণ
প্রকৃতর কোলে মোদের লালন পালন
প্রকৃতর সাথে মিলিব মরণের পরে
ভেবে দেখো তাই বারবার; -
নয় কল্পনায় জীবন যাপন
নেই স্বর্গ, নেই জান্নাত নেই জাহান্নামের ভয়
নেই ঈশ্বর এক ও ভিন্ন ভিন্ন 
এই প্রকৃতিই ঈশ্বর তোমার আমার অভিন্ন অবিচল
মানুষ জনমে করো এই মানবধর্ম পালন।

 

Saturday, April 16, 2022

"রাখাল"

#গল্প
#রাখাল
- পুলক সাঁপুই। 

গল্প পড়েছিলাম ছেলেবেলায় গরুর পালে বাঘ পড়েছে।
এক রাখালের অহেতু চিৎকারে গ্রামের মানুষ বাঁচাতে ছুটে আসতো। বেশ কয়েকবার এই অবস্থা ঘটে। একদিন সত্যিই গরুর পালে বাঘ পড়েছে, রাখালের চিৎকার ও আকুতি মিনতী শুনে কোনো প্রতিবেশী গ্রামের মানুষ রাখালকে দেখতে এলো না।
এরপর:- 
একটা গরু বাঘে খেলো। সমস্ত গরু গুলি ছত্রভঙ্গ হল। রাখাল ছেলে কোনো ক্রমে প্রাণ বাঁচালো।
রাখাল গরু চরানোর সাহস আর কখনোই করলো না। 
বাঁচার তাগিদে সে কাকতাড়ুয়ার কাজ নিল। ফাঁকা মাঠে মুখোশ পরে মাথা ঢেকে দুই হাত সোজা করে ক্ষেতের মাঝে ফসলের পাহারা দেয়।
রাখালের বাঁশি এখন লাঠির কাজ করে।
রাখাল আজ কাকতাড়ুয়া।
রাখাল ছেলে গাছের তলে বসে গান গায় না আর। কাকতাড়ুয়া হয়ে ফাঁকা মাঠে এক ঠায়ে দাঁড়িয়ে থাকে এক জায়গায়।

 

Monday, April 11, 2022

"পাগলা ভৈরব - ১১"

"পাগলা ভৈরব -১১"
পাগল ও পাখি
 পুলক সাঁপুই। 

কোকিলের কুহু সুর শুনি না এখন আর আগের মতো, 
মন তাই বিক্ষিপ্ত, বনে বনে খুঁজি সেই কোকিল পাখিটিকে।
গাছে গাছে হরেক পাখি দেখি;
দেখি কাকেদের আনাগোনা, বাসা বাঁধে বুঝি
ওহ্! তাই বুঝি কোকিল ব্যাস্ত?
কাক ও কোকিলের রসায়ন বোঝাই শক্ত। 

বহুদিন ধরে পাগল ভৈরবকে দেখিনা
রাস্তা-ঘাটে বনে-জঙ্গলে নদীর পাড়ে।
হয়তো সে কোথাও ঘুমিয়ে আছে;
কোনোও গুহায় অথবা তেপান্তরের মাঠে।
তাই এই ক'দিন মনটা ভালো নেই।
ভৈরব বলেছিলো কোনো এক সময়; -
"সময় নিপুণতার সহিত ব্যবহার ভীষন প্রয়োজন।
সম-তা বজায় রেখে মায়া-ময় পথে এগিয়ে চলার নাম সময়।"
কথাটি বলেছিলাম আমার প্রেমিকাকে।
সে বলেছিল; - "পাগলের বুলি রাখিব মনে যতনে।
প্রকৃত পথে এমন রীতি জীবনের মহা ঔষধ।"
নেই কোকিলের গান আর পাগল ভৈরব
প্রেমিকার প্রেমে ভাটা পড়ে আজ।
আহ্বান করি তাদের আমার ভুবনে
রাখবো ধরে আদর করে সহজাত পথে,
প্রকৃত পন্থায় তারা আমার জীবনের মহা ঔষধ।

 

Thursday, April 7, 2022

"গল্পসল্প"




"গল্পসল্প"
- পুলক সাঁপুই।

এক ছিল ছাগল।
এক ছিল পাখি।
একটা ফুল গাছ ছিল।
একটি ছিল লাঠি।
পাখি উড়ে এলো ফুল গাছে ফুলের মধু খেতে।
ছাগল এলো গাছের পাতা খেতে।
পাখি ছাগলকে বলে তুই পাতা খাবি না।
ছাগল বললো ব্যা, পাতা খেতে সুরু করলো।
পাখি বললো মারবো লাঠি, এবার পাতা খেলে।
ছাগল ব্যা, ব্যাএ বলে পাতা খেতে থাকলো।
পাখি রেগে গেল। 
লাঠি দিয়ে মারের ক্ষমতা নেই। 
এক মাত্র মানুষই এটা পারে।
পাখি উড়ে ছাগলের পিঠে বসলো। ছাগলকে খুব করে ঠোকর দিল পাখির ঠোঁট দিয়ে। 
পাখির ধারালো নখ দিয়ে আঁচড়ে দিল।
ছাগল ব্যাএ ব্যাআ করতে করতে দৌড়ে পালালো।
ছাগলের পাতা খাওয়া হল না।
পাখি এবার ফুলের মধু খেতে লাগল।


 


"পাগল ভৈরব -১০"

"পাগল ভৈরব -১০"
- পুলক সাঁপুই 

ঘন জঙ্গল, প্রাচীন ভগ্নস্তূপ, বট অশ্বত্থ পাকুর গাছ,
ভাঁট ফুল থোকা থোকা পুটুস ফুলের রঙের বাহার,
আরো কতো গাছ গাছালি ফুলে ফলে
সূর্যের আলো আসে না সেথায়, দুপুরে সন্ধ্যা নামে।
বাদুড় অজস্র; গাছে গাছে আছে ঝুলে
পালে পালে বক বসে ডালে ডালে,
উৎকট গন্ধে ভরে, গা ছমছম করে।
ঘুঘু, ছাতারে, টুনটুনি, বুলবুলি, আরো কতো পাখিদের কূজন, 
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর সরীসৃপের ব্যস্ততার শব্দ।
আযানের ধ্বনি ভেসে আসে কেঁপে কেঁপে বহু দূর থেকে
অদূরে কালো ধোঁয়া নদী তীরে শ্মশান হতে।
পাগল ভৈরবের খোঁজে আজ এখানে,
এক চালতা গাছের নিচে দেখি পাগল ঘুমিয়ে।
অজানা ভয়ে ঘামে ভিজে কাঁপা গলায় ডেকে বলি; -
কিছু জানার ইচ্ছেতে এসেছি বনে,
ভীত হয়ে থাকার কারণ কি? 
ভয়ের উৎপত্তি কোথা থেকে?
ধন্য হবো এর জবাব পেলে,
ভৈরব ওঠে বসে; পাশে রাখা এক ভাঁড় থেকে জল খায়,
অগ্নি সংযোগ করে তার বিড়িতে,
একটু ভেবে, মাথা চুলকে, এক গাল হেসে
বিড়িতে সুখটান টান দিয়ে, নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বলে; 
"ভয়ের কারণ -
ধার্মিক ধর্মান্ধ হয়ে ঈশ্বর, শয়তান, ভুত ইত্যাদির বিশ্বাসভাজন,
ভয়ের কারণ - কুঁড়ের আস্থাভাজন,
ভয়ের কারণ - 
আত্মবিশ্বাসের অভাব, নেতিবাচক মনন,
ভয়ের কারণ - লোভ ও স্বার্থের প্রতিপালন,
ভয়ের কারণ - মিথ্যার আশ্রয়, সত্য গোপন,
তাই; মানুষ ভয়কে সাথী করে, করে লালনপালন। 
মনে রাখিস,
তলোয়ার নয়, সাহসের প্রতীক লাঠি,
নির্ভয়ে চলতে পথ আজীবন।"


 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...