Wednesday, March 30, 2022

"পাগল ভৈরব- ৯"

"পাগল ভৈরব- ৯"
- পুলক সাঁপুই।

বেলা দ্বিপ্রহর,
বিশাল তেতুঁল গাছ, বাঁধানো রক
বসে পাগলা ভৈরব, আপেল খায়
যাই তার কাছে, অকপটে জিগাই 
পাপ কারে কয়?
আপেলে কামড় বসায়, চিবায়
থু থু করে ছিটায়, বলে;-
"পাপ!
ধর্মের জন্ম যেদিন হতে
পাপের সংজ্ঞা সেই থেকে শুরু-
খাদ্যে, পরিধানে, বাসস্থানে,
আচার আচরণে, নিয়মকানুনে-
পাপ, পাপ, পাপ- সবই ধর্মের নামে।
হত্যা পাপ, যুদ্ধ পাপ
ধর্মের তাগিদে যুদ্ধ - ধর্মযুদ্ধ পাপ নয়,
হাস্যকর তাই! 
ধর্মের নামে মানবতা খোয়াই, মনুষত্ব হারায়।"
এবার জিগাই তারে; পুণ্য কারে কয় -
হাসির রোল তোলে অদ্ভুত আওয়াজে
খ্যাঁক খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে বলে;-
"পাপের বিপরীত পুণ্য হয়
যা তোরা তবে স্বর্গে অথবা জান্নাতে,
বেধর্মিকে মেরে, ঘৃনা করে।"
হা হা হা হেসে চলে পাগল
লুটিয়ে পড়ে মাটিতে
গড়াগড়ি দেয় ধুলায়। 

"শোন, বলি চুপি চুপি
মানবতা হতে বিচ্যুতি হয় পাপ,
মানুষের মাঝে ঈশ্বরের সেবা হয় পুণ্য
বলে আমার এই শূন্যবাদ।"


 

Tuesday, March 29, 2022

"পাগল ভৈরব- ৮"

পাগল ভৈরব- ৮
 - পুলক সাঁপুই 

জলাভূমি, ধুধু প্রান্তর, 
দিগন্তরেখা আকাশ ছোঁয় ভূমি।
ক'য়েকটি মহুয়া গাছ, একটু ঝোপঝাড়,
জনশূন্য, অপার অনুভূতি জাগে মুক্তির স্বাদ।
উল্লাস প্রকাশ করি চিৎকারে
হালকা বোধ করি ঘাসে শুয়ে
চোখ বন্ধ করে স্বাধীনতার স্বাদ নিতে থাকি।
মৃদুমন্দ বাতাস; পাখির ডাক,
গাছের পাতা নড়ে; ঝরে পড়ে; শব্দ শুনি-
আহঃ! এযে স্বর্গ- জান্নাত অনুভূতি। 

"কিরে ছোঁড়া, কি করিস হেথায়?"- 
পাগল ভৈরব বলে খিলখিলিয়ে হেসে।
বিরক্ত হই, ভাবি মনে, হায়!
এখানেও পাগলের আলাপন।
"মুক্তি খুঁজিস বুঝি? স্বাধীনতা যাকে বলে?
স্বাধীনচেতা মন থাকলে নিজ মাঝে
মুক্তির স্বাদ নিতে পারিস
বদ্ধ ঘরে অথবা কারাগারে অথবা জনারণ্যে।
স্বাধীনতা নেই স্বর্গ বা জান্নাতে -
লোভ লালসা লিপ্সা চরিতার্থ করার প্রবনতায়
নেই স্বাধিনতা, থাকে না মুক্তি সেথায়।
স্বাধীনতা পেতে গেলে-
স্বাধীন চেতনায় পথ চলে
মনের দৃঢ়তায় নিজেকে ধরে,
অপরের সাথে নিরপেক্ষ কর্ম সাধনে।
স্বাধীনতা সহজাত ধারা
উত্তরণ হইবে জাগরণে।"


 

Tuesday, March 22, 2022

"ঈশ্বর"

"ঈশ্বর"
- পুলক সাঁপুই

চেতনায় ঈশ্বর খুঁজে পাই প্রকৃতিকে,
প্রকৃতির কোলে জনম আমার
পরিণামে মিলবো এই পঞ্চভূতে।
বৃথা কেন কল্পনা?
এক ও অনেক দ্বন্দ্বে ঈশ্বর খুঁজে ধর্মের নামে
নিসর্গ প্রেমে ঈশ্বর আছে
কর্মের সাথে মানুষের মাঝে।


 

Saturday, March 12, 2022

"পাগল ভৈরব -৭"

"পাগল ভৈরব" -৭
- পুলক সাঁপুই।

হৈচৈ চার রাস্তা, থৈ থৈ জনতা
পোষাক দেখে বুঝি রকমারি ধর্মের ধার্মিকের ভিড়,
বুঝে উঠতে সারা, এমন কেমনে হয়?
যারা লড়াই করে মারে ও মরে একে অপরে!
উৎসুক মনে কাছে যাই ব্যাপার জানতে ;
বিকট আর্তনাদ শুনতে পাই, আরে! এ যে পাগল ভৈরব,
জনগণকে ক্ষান্ত করি, বুঝতে চাই তার কি অন্যায়;-
সমস্বরে বলে;- "ঐ পাগল মানে না ঈশ্বর, নাস্তিক বেটা।
তাই সমুচিত শিক্ষা দিয়েছি মিলে সকলে।"
এই পরিস্থিতির স্বীকার ভৈরব
এমনই করে সমাজে চলে চেতনার কণ্ঠ রোধ!
ছেঁড়া পোষাক, চোখে কালসিটে, কপাল গিয়েছে থেঁতলে,
ঠোঁট মুখ ফেটে, চুলে জট বেঁধে রক্ত ও ধুলার আস্তরণে আপাদমস্তক। 

কোনক্রমে খাড়া হয় নিজ পায় পাগল,
গগনভেদী নিনাদে বলে ওঠে;-
"ওরে মূর্খ ধার্মিকের দল, শান্তির দূত,
তোরা ভীত সন্ত্রস্ত চিরকাল, সত্য যেথায়।
অলীক ফাঁদে শিকলে বাঁধা জনম জনম
ঈশ্বরের নামে ধর্মের বেড়াজালে
তোরা অসহায় নির্বোধ।
ঈশ্বর তোদের ব্যক্তিগত নয় রে মূর্খ, 
ঈশ্বর সকলের যে যেভাবে দ্যাখে।
যেথায় ব্যাক্তি স্বাধীনতা নাই, উন্মুক্ত মন ব্যক্ত করার;-
সেথা জাহান্নামের চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট
তোদের এই পৈশাচিক জীবন যাপন।
তোরা অন্ধ মন কুয়ার ব্যাঙ ধর্ম পুস্তক মাঝে
ঘ্যাঘ্যোর ঘ্যাঘ্যোর ডাকে আওড়াস উচ্ছাসে।"
টলতে টলতে চলে যায় পাগল ।
এই দেখে প্রমাণ পাই অস্তিত্বহীন সকল ধর্মের ঈশ্বরের।

 

Monday, March 7, 2022

"পাগল ভৈরব- ৬"

"পাগল ভৈরব- ৬"
- পুলক সাঁপুই। 

নদীর পাড়ে; জঙ্গল ধারে; 
বিশাল পাঁচিল সীমানা; জমিদার বাড়ি,
সময়ের ভারে ক্ষতবিক্ষত; হয়ে নতজানু
সাক্ষী দেয় ঐতিহ্যের ইতিহাস,
বিবর্তনের চক্রে আজ সে অতীত এই বর্তমানে।
এখানে দেখা পাই পাগল ভৈরবের,
ইঁটের টুকরো, কাঠকয়লা, চুন ইত্যাদি সাথে
ছবি এঁকেছে পাঁচিলের গায়,
তারই নিচে বসে বিড়িতে সুখটান দেয়। 

যাই তার কাছে, দিই এক সিগারেট;- 
জ্বালাই এক সাথে দুজনে
ধোঁয়া ছেড়ে বলি;- ভৈরব, কি অপূর্ব ছবি এঁকেছিস তুই,
কিছু বল, এই ছবির কথা জানতে চাই।
চোখ গোল্লা পাকিয়ে, গোঁফে হাত বুলিয়ে,
দুই হাত নেড়ে দার্শনিক ঢঙে বলে;- 
"আলতামিরা, লসকক্স, ভিমবেটকা গুহাবাসী
হাজার হাজার বছর অতীতে আমি পৌঁছিয়ে গেছি,
ঐ দেখ ময়ূর নাচে মাঠে, গন্ডার ধেয়ে আসে
গুহাবাসী শিকার করে আনে শুকর,বাইসন
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে।
দেখ ভালো করে, এখনও সেথায় হয়নি ভূমিষ্ঠ ঈশ্বর,
তাদের জীবনধারার সাক্ষ্য দিয়ে গেছে পাথরের গায়।
- আর আজ! এই অধুনিক বিজ্ঞানের যুগ,
এর মাঝে কত ইতিহাস, কতো ঈশ্বরের আবির্ভাব; কতো ঈশ্বর হয়েছে মৃত।
মায়া, মেসোপটেমিয়া, ইনকা, মিসরের ঈশ্বর আজ
ভিক্ষা পায় না কোথাও, 
ইতিহাসের পাতায় খুঁজে পাই তাদের।
নিরীহ অজ্ঞ ধার্মিক আজ হাতের পুতুল 
ধুরন্ধর রাজনৈতিক নেতা ও ধর্ম ব্যসায়ীদের মুঠোয়,
অরাজকতার বাজনা বাজায় ধর্মের নামে, এই বর্তমানে।
ঈশ্বরের নামে ধর্মের ভেদাভেদ আজ নেই প্রয়োজন
এই বিশ্বায়নে; বিশ্ব এক পরিব্যাপ্ত সমাজ,
এখানে মানুষের ধর্ম মানবতা, ঈশ্বর থাক অন্তরাত্মায়।"


 

Tuesday, March 1, 2022

"প্রেম"

"প্রেম"
-পুলক সাঁপুই 

মন রেখে, প্রেম অনুভুতি মেখে দুজনায়,
তুলাদণ্ডে মেপে নিরীক্ষণ করি
একে অপরের কাছে সমান সমান দামী।

আমার কল্পনায়;-
এক অজানা কালো মেঘ 
উঁকি মারে তোমার মনে
আমার সনে সমর্পনের 
শুভক্ষণের মুহূর্ত কালে। 

বাস্তবতার নিরিখে-
মানসিক পরিস্তিতিতে
নিজের মনে জ্বালাও আলো
তোমার মাঝে নিজেকে রাখো
নিজের মতো করে। 

অন্তর্নিহিত মনে সমর্পণের আকুতি নিয়ে ভালোবেসে এসো আমার কাছে;
মেখে নেবো দুজনে হৃদ অঙ্গে একই সঙ্গে,
অপেক্ষায় থাকিবো সেই দিনের তরে।


 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...