Monday, February 28, 2022

"পাগল ভৈরব- ৫"

"পাগল ভৈরব- ৫"
- পুলক সাঁপুই। 

পূর্ণিমার চাঁদ অপরূপ স্নিগ্ধতায় মায়াময়
শান্ত নদী কলকল শব্দে বয়ে যায়,
মৃদুমন্দ বাতাস, নৈসর্গিক দৃশ্য- আহাঃ!
প্রকৃতির এ রূপে নিজেকে হারাই। 

হটাৎ চিৎকার, পাগল ভৈরবের আবির্ভাব,
ছেঁড়া পোশাক যেমন হয়, অতিরিক্ত আজ
হাতে লাঠি ও মাথায় কাগজের তাজ। 

লাঠি উঁচিয়ে বলে;- 
"আমি এই নদীর বারি বিভক্ত করে রাস্তা বানাতে পারি,
সেই পথ ধরে হেঁটে যা- জনে জনে অনায়াসে অপর প্রান্তে,
হা হা হা আমি ঈশ্বর সমান।" 

শান্ত আবার,
নিস্তব্দ আবার ফিরে পাই,
পাগলের কথার সারমর্ম বুঝতে চেষ্টা করি। 

কিছু পরে আবার ওঠে রব:-
"চাঁদকে দ্বিখণ্ড করবো এখুনি; আঙুলের ইশারায়,
ওই তোরা দেখে যা আমার ক্ষমতা, 
আমি ঈশ্বরের দূত;- হা হা হা..."
আবার সব নিঃশ্চুপ। 

এক পেঁচা উড়ে যায় নদী তীরে, হয়তো তৃষ্ণা মেটাতে। 

কিছু পরে আবার গুরু গম্ভীর ধ্বনি;-
"আমি বিশ্বরূপে দর্শন দিতে পারি। 
অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপ্ত, 
আদি অনন্ত রূপ;- হয়ে বিশ্বেশ্বর,
হা হা হা, আমি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। 

আমি অলৌকিক, আমি সর্বজ্ঞানী,
আমার কথা যদি না করিস বিশ্বাস-
এই অধুনিক যুগে হাতে মুঠোফোনে
তোরা মুনাফেক, তোরা জাহান্নামী,
তোরা পাপিষ্ঠ, তোরা নরকগামী।" 
এই বলে পাগল থামে,
গিয়ে শুয়ে পড়ে এক ভাঙ্গা নৌকার খোলে। 

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক নিস্তব্দ বাড়ায়,
প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরের অস্তিত্ব কোথায়? খুঁজি তাই। 

নির্মল নিল আকাশ, কোদাল কাটা সাদা মেঘ
এরোপ্লেন ভেদ করে যায় বিকট শব্দে। 

বাড়ী ফেরার সময় উঁকি দেই পাগলের কাছে,
"কিরে ব্যাটা, কি চাই? এখানে কেন?" -
ভৈরব শান্ত স্বরে বলে।
জানতে চাই তার কাছে, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক কি?
"বিশ্ব চরাচর চলে নিজের খেয়ালে,
প্রকৃতি, তোর আমার সকলের সম্পূর্ণতা দেয়।
ঈশ্বরের নামে, ধর্মের ভেক ধরে মানুষ স্বার্থের তাগিদে
কাড়াকাড়ি বাড়াবাড়ি হানাহানি করে মরে।
চেতনার চৈতন্যে মানবতা প্রতিষ্ঠা পায়
ঈশ্বর সেথায় মৃত্যুর পদযাত্রী।

 

Saturday, February 26, 2022

"পাগল ভৈরব- ৪"

"পাগল ভৈরব- ৪"
- পুলক সাঁপুই। 

নদীর পাড়ে সন্ধ্যায়, পাশে কবরস্থান
ঐ পারে ধোঁয়া ওঠে শ্মশানে-
আকাশ লাল, বাদুড় ওড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে।
পাগল ভৈরব এক পাথরের ওপর বসে কি যেন বলে;
ধীর পায়ে যাই তার পাশে, শুনতে কান পেতে। 

"এই ভাগ শালা হেতা থেকে।" 
- রক্তবর্ণ চোখে চিৎকার করে বলে ওঠে;-
"বিরক্ত করিস কেন আমাকে?"
আমি বলি ভয়ে;- একটা প্রশ্নের উত্তর জানার আছে,
যদি অভয় দিস, বলতে চাই তবে।
"বল; কি তোর সাওয়াল?"
- ভৈরব আমার দিকে ঘুরে চোখে চোখ রেখে বলে।
আমার জানার ইচ্ছে এই, - ঈশ্বর কি সত্য?
- এইটুকু বুঝতে চাই।
পাগল গম্ভীর হয়ে চোখ বুঁজে কি যেন ভাবে
চোখ চেয়ে মুচকি হেসে সুরু করে;-
"মিথ্যা যেমন শব্দে সত্য; ঈশ্বর তেমন শব্দে সত্য।
মিথ্যাকে যেমন সত্য সাব্যস্ত করতে সহস্র মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়;
ঈশ্বর সত্য প্রমাণ করতে, প্রাচীন প্রথার সাথে আধুনিক পরিস্তিতির খিচুড়ি পাকাতে হয়।
ব্যক্তি বিশেষে;- কেহ বলে এক, কেহ বলে ভিন্ন, কেহ বলে শূন্য
এই বুজরুকিতে ঈশ্বর সত্য। 

এই মনে কর; এক ঈশ্বর বিশ্বাস করে যারা;-
তারা রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষপাতি করে,
রাজার আদেশ ও প্রজাদের বশ্যতা সেথায় শেষ কথা।
রাজা যদি কালোকে সবুজ বলে; -
তা অবশ্যই সকল প্রজা মানতে বাধ্য হয়,
নেই অবকাশ; অন্যথা মৃত্যুদণ্ড সুনিশ্চিত। 

যারা বহু ঈশ্বর বিশ্বাস করে,
তারা গণতন্ত্র রাষ্ট্র পদ্ধতি চায়।
রাজা থাকতে পারে, তবে মন্ত্রক নেতৃত্বে রাষ্ট্র চলে,
প্রতিটা ক্ষেত্রের দ্বায়িত্বে ভিন্ন ঈশ্বর নামে প্রতিষ্ঠা পায়। 

আর যারা নিরীশ্বরবাদী;- তাদের বিশ্বাস মানুষ হয়ে মানব ধর্ম পালন,
সেথায় মানুষের মাঝে ঈশ্বর পূরণ,
কর্মের মাঝে ঈশ্বর গঠন,
প্রেমের মাঝে ঈশ্বর ধারণ।"
এই বলে; পাগল ভৈরব অট্ট হেসে চলে যায় অন্ধকারে মিশে।

 

Thursday, February 24, 2022

"জীবনের লক্ষ্য"

"জীবনের লক্ষ্য"
- পুলক সাঁপুই।

প্রতিদিন জিততে চাই, যে কোন ভাবেই
তৎপর থাকি সারাক্ষণ; এই না হেরে যাই, প্রায় প্রতি সময় জিতি; হারি খুব কম। আমার প্রতিদিনের জেতা আত্মতৃপ্তি ঘটায়,
তবে; দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে যাই।

এমন করেই:-
প্রতি সপ্তাহে কাজের ফল নির্ণয় করা,
এক দুই তিন চার দিন করি কাজ মাথা গুজে ,
ভরসা আসে পাঁচ ছয়- এ
সপ্তাহ শেষে সফলতার ফসল খুঁজে পাই।
মাসে চারবার জিত,
মাস শেষে ক্লান্ত হয়ে যাই। যথাক্রমে-
মাসে একবার, বছরে বারোবার জেতা
তিন মাসে একবার, বছরে চারবার- পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ইত্যাদি মূল্য ঘটায়।
জীবনধারায় সকলেই জিততে চায়,
হারা ও জেতার মাঝেই জীবনধারণ
অনেকেই জেতে; আবার অনেকেই করে হায় হায়!

জীবনের লক্ষ্য থাক এক ন্যায়সঙ্গত।
উদ্দেশ্য সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো,
লক্ষ্য হবে স্থির, পথ হতে পারে ভিন্ন,
দুঃখ কষ্টের ভয়ে নয়; অভিষ্টলক্ষ্যে পৌঁছানো।
সুখ স্বার্থ পূরণ নয়; সকলের মাঝে,
অংক কষে নয়; প্রাকৃতিক পথে,
ঈশ্বরে ধর্ম নয়; মানব ধর্মে,
ধর্মগৃহে নয়; ঈশ্বর রেখে মনে।


 

"পাগল ভৈরব"- ৩

"পাগল ভৈরব"- ৩
- পুলক সাঁপুই

চার রাস্তার মোড়ে,
পাগল ভৈরব আঁকিবুঁকি কাটে -
কাট-কয়লা ও খড়িমাটি দিয়ে।
এক কিংক্তব্যবিমূঢ় নারী -
জীবন সংসারে দিয়ে পাড়ি
হতাশা নিয়ে চলেছে পথে;-
উৎসুক মনে কথা বলতে যায় পাগলের সাথে।
বলে নারী;- "কিসের হিসাব করিস হেথায়?
সাদা-কালো রঙে কি লিখিস আবোল তাবোল!?"
পাগল; গোঁফে দিয়ে তা- একগাল হেসে বলে;-
"অঙ্ক কষি- মেলাই জীবনে বেঁচে থাকার মানে।
যা প্রয়োজন হয়; রাখি হাতে,
যদি হয় নিষ্প্রয়োজন; দিয়ে বিয়োগ,
যাহা অত্যাবশ্যক দরকারী; গুণফল করি,
সকলের স্বার্থে করি ভাগ,
এমন করেই খুঁজি সমাধানের পথ।
আর যা থাকে বাকী; বন্ধনীর মধ্যে রাখি,
ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে-
প্রয়োগ করতে অঙ্কে; সঠীক সমাধানের জন্যই।"
নারী বিস্ময়ে কয়;- "তাই বুঝি!?
তোর এই অঙ্ক আমাকে বোঝা তো দেখি।"
বুনো হাসি হেসে পাগল বলে ওঠে;-
"তোমার সত্য ও বাস্তবের অঙ্ক; তুমি জানো,
অঙ্ক কষে দেখো তোমার আত্ম চেতনায়।
আমি পাগল ভৈরব; আমার কথায় করো না দিকপত।"

 

Friday, February 18, 2022

"৩টি অবোধ কবিতা।"

"৩টি অবোধ কবিতা।"
#পুলক_সাঁপুই 

বেগুন ক্ষেতে এক ব্যাঙ বাস করে
এক মুরগী ডিম পেড়ে যায় ক্ষেতে
ব্যাঙ উল্লাসে তা দেখে বেগুন ভাবে
সেই থেকে eggplant নাম হয় বেগুনের।
_________________________________
মন ভরে কলা খাই
খোসা ফেলি রাস্তায়,
ফট করে পা পিছলাই
সেই খোসায় পা ফেলেই,
অবুঝ আমি তবু ও শিক্ষা নাহি পাই।
__________________________________
বেকুব হও সুবিধা সকলের
দাম্ভিক হও অসুবিধা নয় অন্যের
দুটোই হও বিপর্যয় তোমার সাথে যে,
এই তিন সত্য যে তোমার জানবে
সেই প্রকৃতি বন্ধু তোমার জীবনে।

 

Thursday, February 17, 2022

"অঙ্গ ও মন"

"অঙ্গ ও মন"
- পুলক সাঁপুই। 

কোনো এক কারণে; দ্বন্দ্ব লাগে অঙ্গ ও মনে
হয়তো সুখের জন্য স্বার্থ নিয়ে,
অঙ্গ খেতে চায় রুস্টার রোস্ট -
মন বলে; বিড়াল তা খেয়ে পালিয়ে গেছে।
তাই আজ তারা দুজনে আলাদা হয়।
মন যায় মীনাবাজার কিনতে ফুল
অঙ্গ থেকে যায় চাঁদনীচক; ঘুরিয়ে মুখ,
মন ফুল নিয়ে অঙ্গ সাথে মেলে
ফুল থেকে এক পোকা হুল ফোঁটায় অঙ্গে।
বিষের জ্বালায় অঙ্গ যায় কবিরাজের কাছে
মন ঘরে বিছানায় শুয়ে আরাম করে,
কবিরাজ দেখেশুনে; ফর্দ লিখে দেয়
মনকে রাখতে হবে অঙ্গ সাথে এক জায়গায়।
উন্মুক্ত মনে দুই জন এক সাথে মিলে
যাহা করিবে কাজ দৃঢ়তার সাথে,
সফল হইবে তুমি সুখের সাথে বাস্তবের জমিতে
কখনোই করো না পৃথক অঙ্গ ও মনে।


 

Wednesday, February 16, 2022

"আমি- ২"

"আমি"
- পুলক সাঁপুই

স্বতন্ত্র আমি, তুমি অনেক দামী
বিরাম দাও তাই, নিরবে ফিরিতে চাই,
আপন ভুবনে, নিরীশ্বরবাদীর দেশে
ঈশ্বর রহিবে প্রেমে, কর্ম মাঝে আপন খেয়ালে।
বিজয় পতাকা থাক তোমার হাতে,
আমার সপথ রাখি আপনার মাঝে।
তোমার সত্য প্রতিষ্ঠা করো
হাজার সূত্রের আঙ্গিকে 
আত্ম পরিতৃপ্তি লাভে;-
লিপিবদ্ধ করো তোমার আচরণে যা বলে।
বলো আমায়- 'পাষণ্ড হৃদয়',
তবে;- স্বত্ব চাই,
আপন অনুভূতি; সত্য যারে কয়,
আমি নীরবে দেখে যাই।




 

Tuesday, February 15, 2022

"আমি"

"আমি"
- পুলকসাঁপুই।

আমি কায়া, আমি ছায়া
আমি হৃদি, আমি মায়া
আমার মাঝে আনন্দধারা।

আমি শক্তি, আমি শূণ্য
আমি জ্ঞান, আমি বন্য
মম কর্মে হয়ে প্রতিপন্ন।

আমি প্রেম, আমি দ্বেষ
আমি মিত্র, আমি তিক্ত
সর্ব কর্মে হয়ে ধনাত্বক।

আমি সৃষ্টি, আমি বৃষ্টি
আমি বিবেক, আমি উদ্মাদ
আমি আমাতে করি দিকপাত।

আমি আধার, আমি স্বার্থ
আমি অপার, আমি সুপ্ত
আমার মাঝে আমি নির্বিকার।

আমি ভাবনা, আমি যাতনা
আমি শ্রদ্ধা, আমি ত্যাগ
ঈশ্বর আমার নিজ পথ।








 

Monday, February 14, 2022

"১৪ই ফেব্রুয়ারী"

"১৪ই ফেব্রুয়ারী"
- পুলক সাঁপুই। 

ফাগুন বহিছে ভুবনে
ভালবাসার দিন উদযাপন ১৪ই ফেব্রুয়ারী,
ভ্যালেন্টাইন ডে নামে সকলেই জানে।
এই ভালোবাসা পাওয়া ও না পাওয়ার অনুভূতি
প্রতিদিন কত সহস্র মানুষের হৃদয় জোড়ে ও ছেঁড়ে।
ভালবাসার হরেক ধারা, প্রকারভেদ ইত্যাদী
লক্ষ কেতাবে স্থান পায়।
প্রয়োজনে প্রেমিক প্রেমিকা সেই ধারা স্থাপন করে
একে অপরকে বোঝাতে চায় ভালোবাসা কারে কয়!
ভালবাসা চলে নিজের খেয়ালে
যেথায় স্বার্থের সঙ্গম সুখের ঠিকানায়,
যেথায় বিশ্বাস ও ভরসার মূল্য নির্ধারণ হয়। 

তবে বলি গল্পকথা; বুঝে নিও যথা তথা;-
প্রেমিক প্রেমিকা ফুল দিয়ে করে আদান প্রদান প্রতিদিন,
প্রেম উড়িতে থাকে বিশ্ব ভুবন সুগন্ধী ভরা -
আবেগ যেথায় সম্পূর্ণতা পেতে চায় শেষ সীমানায়।
একদা প্রেমিক চায় প্রেমিকার কাছে;-
"প্রিয়তমা, তুমি ফুল দাও রোজ- আমিও তোমারে,
আজ ফুল ও ফল সাথে দুজনে করি বন্টন,
উভয়ের ভালোবাসার ফল নির্ণয় করি-
আমাদের প্রেমের সত্য ফলাফলে।"
আঁতকে উঠে নারী, বোলে ওঠে;-
"আমাদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় ফুল দিই তাই,
ফল চাও কোন সে আস্পর্ধা!? তুমি স্বার্থপর
যাও দূরে চলে যাও, তা সম্ভব নয়।"
পুরুষ বুঝি ভালোবাসার মর্ম উপলব্ধি করতে চায়!
তাই বলে;- "প্রিয়তমা, তুমি কোন নিঃস্বার্থ মনে
ফুল সাথে ফল দিতে নাহি চাও!?
কোন্ সে স্বার্থ ব্যাঘাত ঘটায়
তোমার এই নিঃস্বার্থ প্রেম রচনায়?"
এমন করে ভালোবাসা ভাঙে- গড়ে জীবনের বাস্তবতায়;
তাই বুঝি ভালোবাসার ভিত্তি স্বার্থপরতায়।


 

Friday, February 11, 2022

"ধার্মিক"

"ধার্মিক"
- পুলক সাঁপুই।

ঐ দেখি ধার্মিকেরা ঈশ্বরের নাম নেয়, আর
খাদ্য, পোশাকে, ধর্ম, কর্মে, নামে-
একে অপরকে গালি দেয়।
মানুষ জনমে জানোয়ার স্বভাব-
শৃগাল চিৎকারে; সিংহ নাদ; সর্প দংশনে-
মানবতার মাকে নির্বাসন দেয়।
রাজনৈতিক নেতা, ধর্মব্যসায়ীরা আহ্লাদে আটখানা হয়ে-
ধর্মের সলাকা দিয়ে শত্রুতার আগুন জ্বালায়-
ঈশ্বর ও ধর্মের নামে দেশ দেশান্তরে।
নির্বোধ ধর্মান্ধ ইন্ধন যোগায় হানাহানি করে দাঙ্গায় মেতে,
ধর্মান্ধ চতুরের দল রুটি সিঁকে খায়-
যখন যেমন সুযোগ পায়; সেই আগুনে।
- হায়! এ খেলা ঈশ্বরের নামে প্রহসন।
ধর্ম ঈশ্বরের রঙে নয় মানবতায় হোক
ঈশ্বর থাক মনে ও জনে জনে।

 

Wednesday, February 9, 2022

"সত্য মিথ্যা"

"সত্য মিথ্যা"
- পুলক সাঁপুই 

নদীর পাড়ে এক প্রকাণ্ড তেঁতুল গাছ
মৃদুমন্দ বাতাস বয়, আমি বসি সেথায়,
দেখি বিকেলের দৃশ্য; যতদূর চোখ যায়।
অনতিদূরে তিন শিশু, বয়স প্রায় আট- নয়;
অদ্ভুত সব গল্প করে, শুনতে পাই স্পষ্ট ভাবেই,
আমার প্রতি তাদের নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ।
"চল আমরা খেলি সত্যি করে মিথ্যা বলার খেলা"-
প্রথম বলে; - ঐ দেখ সূর্য নীল সাগরে ডুব দিয়ে ঘুমায়
আমার অনুমতিতে ওঠে, তাই সকাল হয়।
তিনজনে অট্টহাসে, আমি মৃদু হেসে দূরে তাকাই।
দ্বিতীয় বলে;- "ধার্মিকের ঈশ্বর সত্য ও বিজ্ঞানসম্মত,
নাস্তিকরা পাগল আমার মতো।"
আবার হাসির রোল ওঠে, আমি গম্ভীর হই অকারণ।
তৃতীয় বলে উঠে দাঁড়িয়ে, হাত উপরে তুলে;-
"আমি সদা সত্য কথা বলি; আমার সত্যের পথে জীবনযুদ্ধ; আমিই সত্যবাদী।"
দেখি; তিনজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাড়িয়ে তাকায় আমার দিকে,
আমি উঠে কাছে আসি তাদের; বলি হেঁসে-
নিঃস্বার্থ ভাবে আমি ও আছি তোমাদের সাথে,
স্বার্থপর কেউ নয় এই জগতে।
এসো চারে মিলে মনের পরিতৃপ্তি খুঁজি
এই সত্য ও মিথ্যার ভুবনে।

 

Monday, February 7, 2022

কালিমা

কলঙ্কের কালিমায় হয়ে কাল
সত্যের আধারে আমি আমাতে,
দিন শেষে আমি একা-
মিলিব এই পঞ্চভূতে।

 

"সমাপ্তি"

"সমাপ্তি"
- পুলক সাঁপুই 

সমুদ্রতটে একাকী 
আশমানে তাকিয়ে বলি-
কেড়ে নাও আমার সুখ-দুঃখ-
আনন্দ-ব্যাথা আছে যা কিছু,
কেড়ে নাও আমার হৃদয়, কামনা-বাসনা
আরো যদি কিছু থাকে সবই।
রহিতে চাই পাষাণ হয়ে নীরবে নিভৃতে
হেথায় লোনার মিলন হোক
সমুদ্র ও আঁখি জলে,
খুঁজে পেতে চাই নিজেকে 
কলকল ধ্বনি স্বাক্ষী রেখে।
আমার সবকিছুই বিলীন হোক
তোমার বালুচরে মিশে,
নিজ অবসান দেখিতে চাই
আপন চোখে এই পরিবেশে।


 

Tuesday, February 1, 2022

"সুখ"

"সুখ"
- পুলক সাঁপুই


এক সন্ধ্যায় কথা হয় প্রেমিকার সাথে
প্রেমে মাখোমাখো হয়ে বলে আমায়,
তুমি কি আমাকে সুখে রাখিতে পারিবে?
আমি ভাবি হায়! পড়ি চিন্তায়-
এ আবার কি কথা কয়?
সুখের সংজ্ঞা খুঁজি তাই।
বলি প্রেমিকারে; তুমি সুন্দর যেমন-
ঐ চাঁদ আছে গগনে;-
মানুষ দিয়েছে পাড়ি সেথায়-
কোন সে সুখের স্বার্থে?
এভারেষ্টের চূড়ায় অনেকেই চায় যেতে
কোন সে সুখ খুঁজে আনতে?
হরেক দুঃসাহসিক অভিযানে মানুষ চলেছে
কোন সে সুখ চায় পেতে?
রকমারি প্রযুক্তির উন্নতির ব্যবহারে
প্রতিটা মানুষ সুখ চায় সমানে,
পরিস্তিতির উপরে নির্ভর বাহ্যিক সুখ-
বাস্তবের মাটিতে মানুষের জীবন কাটে যেমন। 

স্বাভাবিক অবস্থান থেকে উন্নতি করতে চাহিদা তৈরী হয়,
সেই চাহিদা পূরণ করতে জাগে মনে আশা,
মনের আশা পূরণ করতে জাগে লোভ,
লোভ পূরণ করতে স্বার্থ জাগে মনে,
সেই স্বার্থ পূরণ করেই আসিবে সুখ। 

আমি বলি প্রেমিকারে; তুমি কি এমন চাও?
এমন অ- সুখের সুখ দিতে পারব না তোমায়। 

সুখ চলে আপন পথে-
তুমি ধারন করিতে চাইবে যেমনে যতনে,
সেথায় থাকবে না তুলনা ধনসম্পদের
বিবেকের সাথে আপন যোগ্যতায় মনকে রেখে সেই পথে,
এসো; কাজ করি সাথে মিলে প্রেমে,
কর্ম সুখের মাঝে পাইবো সুখ মননে দুজনে।

 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...