Monday, June 20, 2022

"পাগল ভৈরব" - ২০

"পাগল ভৈরব"-২০
#পুলক_সাঁপুই।

পাগল হেঁটে চলেছে -
নদী জঙ্গল মাঠ ঘাট ঝোপঝাড় পেরিয়ে,
লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে হতে,
হাজার হাজার মানুষের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে,
শত শত মানুষের প্রশ্নে উদাসীন হয়ে -
অন্যের সংস্পর্শে নয়, নিজের প্রশ্নের সাথে নিজের জবাবে। 
পটভূমি খোঁজে মানুষদের দেখে; -  
মানুষ কি যন্ত্র চালিত? অথবা অশরীরীর আজ্ঞাবহ?
সুখের তাড়নায় আদিম ভাবনায় অধুনিক উপকরণে অন্ধ মননে পথ চলেছে।
এরা ফুলের মধু খায়। কুঁড়ি ছিঁড়ে ফুলদানি সাজায়। পাতা কেটে ঠোঙা বানায়। ডাল কেটে ডান্ডা বানায়। কান্ড থেকে পালঙ্ক করে। শিকড় উপড়ে অট্টালিকার ভিত গড়ে।
নিজের সুখ পরখ করতে পড়শীর জীবন যাত্রার সাথে সাদৃশ্য খোঁজে।
আর নিজের সুখ পেতে অন্যের দুঃখের সহমর্মীর ভান করে উপদেশ দেয়।
পরশ্রীকাতর হয়ে অদৃষ্টের দোষ দেয়।
স্রষ্টার নামে জীবনকে উৎসর্গ করে, আর -
অর্থের লোভে ঈশ্বরের পার্থনা করে।
মানুষ জনমের মূল্য না বুঝে
জাত-পাত গোত্র-ধর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
গ্রাম, নগর, শহর কোলাহল কল্লোল -
পাগল ভৈরবের হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে।


 

Tuesday, June 14, 2022

"সোনার পাথর বাটি"

"সোনার পাথর বাটি"
- পুলক সাঁপুই।

এক অন্ধ মেয়ে
ভিক্ষা করে পথের ধারে,
প্রতিদিন একটি ছেলে ভিক্ষা দেয়,
একদিন ছেলেটি বোঝে মেয়েটি অন্ধ নয়।
তাই, ছেলেটিও না বোঝার ভান করে অন্ধ মেয়েটির কাছে।
মেয়েটি অন্ধত্ব অভিনয় ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করে ছেলেটির কাছে।
ছেলেটিও মাঝে মাঝে পরীক্ষা নেয়; - মেয়েটি অন্ধ কি না তার পরীক্ষা করে।
মেয়েটি আরো বেশি সাবধান হয়ে অন্ধের অভিনয় করে যায়। 
মেয়েটি ছেলেটিকে ঠাকানোর আনন্দ ও আত্মগ্লানি দুটি একই ভাবে পোষণ করে।
 ছেলেটির না বোঝার অভিনয় ও মেয়েটির অন্ধত্বের অভিনয় দুটোই ভালো চলছিল।
একদিন, মেয়েটি বুঝতে পারলো যে ছেলেটিও বুঝেছে মেয়েটি অন্ধ নয়, তবু ও মেয়েটিকে অন্ধ মনে করে ভিক্ষা দেয়।
মেয়েটি বাধ্য হয়ে ছেলেটিকে প্রশ্ন করে - সে জেনেও কেন এমন না জানার ভান করে থাকে।
ছেলেটি মেয়েটিকে বলে - সোনার পাথর বাটিতে ভিক্ষা দিই ভালোবেসে।




 

"পাগল ভৈরব - ১৯"

পাগল ভৈরব - ১৯
- পুলক_সাঁপুই।

রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়া, ধুলো ওড়ে দমকা বাতাসে
বিস্তীর্ণ ধূ ধূ মাঠ, ঝোপঝাড় বাবুলের কাঁটা বন।
কোথাও সবুজ ক্ষেত, তামাক পাতার চাষ।
কালো মাটির দেশ, জল বিহীন জলাশয়।
দুর্গন্ধ বাতাসে, দুটি মানুষ বসে পাহাড় সমান ভাগাড়ের পাশে।
এক শিশু, প্রায় বয়স বারো,
কেঁদে কেঁদে কথা বলে পাগলের সাথে; -
 এক পোষা কুকুর মরেছে কিছুদিন আগে
সেই শোকে প্রতিদিন সময় কাটায় নিরবে,
চিল, শকুন, কাক, কুকুর খুবলে খায় মৃতদেহটি।
স্মৃতির পাতায় নিজেকে ভাসায় বেদনার বিহ্বললে।
ভৈরব এবার বলে; -
ঐ যে দূরে, ক্যানাল পাড়ে, 
মাঝে মাঝে আশ্রয় নিই দিনে রাতে,
কখনো ছিটিয়ে ছিলাম কিছু উচ্ছের দানা,
জল বাতাস আলোয় অঙ্কুরোদগম হয়; -
সবুজে হলুদে বাহারে ফল ফুল পাতায় সাজে।
একদিন দেখি ফড়িঙের দল আসে 
উচ্ছে খায়, করে বসবাস।
পাশের লেবু গাছে বুলবুলি পাখির বাসা,
কিচিমিচি আওয়াজে চোখে পড়ে,
বুলবুলি ঐ ফড়িং ধরে খাওয়ায় ছানাদের টুকরো টুকরো করে।
এক জীবনের প্রয়োজন অন্য জীবের মরণ।
ছোটো ছোটো পাখিছানা উড়তে শেখে এক ডাল হতে আর এক ডালে।
এক ছানা যায় পড়ে
মুহূর্তেই বিড়ালের মুখে, অপেক্ষায় ছিল বুঝি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে।
হায়! সময় যায় এমনই...
একদিন দেখি এক কুকুর থাবা বসায় বিড়ালটির ঘাড়ে, 
বিষাদময়!
কয়দিন আগে এলাকার প্রচুর কুকুর নিয়ে গেছে ধরে,
সরকারী গাড়ি এসে, সেই কুকুরটি ও ধরা পড়েছে সাথে।
শুনেছি, তাদের ছেড়ে দেয়া হবে জঙ্গলে চিতা বা সিংহের খাদ্য হিসাবে।
এই ঘটনা গুলির প্রতিটা পদেই আছে দুঃখ, আছে নৃশংসতা, আছে বেঁচে থাকার লড়াই।
উচ্ছে, ফড়িং, বুলবুলি, বিড়াল, কুকুর একে একে হারাই।
বিজ্ঞান বলে খাদ্য শৃঙ্খল, বস্তু তন্ত্রের পরিভাষা।
তাদের অস্তিত্ব আমার হৃদয়ে লালন করি,
প্রকৃতি জানান দেয়।
ভালোবাসার পরিমাপ বিষয়ের চাহিদার,
সেই ভালোবাসার বিয়োগ বেদনার প্রতিফলন।
সময়ের আপেক্ষিকতা ম্লান হয় স্মৃতির অতল।
আবেগের ধারা নির্লিপ্ত থেকে -
জীবনধারায় পথ চলো সময়ের সাথে।



 

Friday, June 10, 2022

"প্রেমিকের প্রতি প্রাপ্তি স্বীকার"

"প্রেমিকের প্রতি প্রাপ্তি স্বীকার"
পুলক সাঁপুই।

তোমার থেকে আড়াল হতে জনসমুদ্রে ভাসি
মানুষের আড়াল হতে সমুদ্র তটে তোমার সাথে হাঁটি,
নিজের আড়াল নিজে সাথে, কল্প জগতে থাকি,
এমন খেলায় আমি রাজা, আমিই প্রজা সাজি।
তোমায় আমি সাক্ষী রাখি, তোমায় দিয়ে ফাঁকি।
তোমার অভিপ্রায়ে ধরা দেবো না, তোমাকে অন্তরে ধরি।
তোমার হতবিহবলে আমার কল্লোল
তোমাতেই আমি আছি।
তোমায় দমিয়ে আমি জয়ী হই, তুমি ছাড়া সফলতা হারাই।
তুমি ভাবনা, তুমি যাতনা, তুমিই আমার রবি।
কামনার কামিনী হয়ে সুগন্ধ দিতে চাই,
সন্ধ্যার আলোকে তোমাতে আমি।
তুমি জ্ঞান, তুমি বিজ্ঞান, তোমার সাথে রচনা গড়ি।




 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...