Tuesday, June 14, 2022

"পাগল ভৈরব - ১৯"

পাগল ভৈরব - ১৯
- পুলক_সাঁপুই।

রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়া, ধুলো ওড়ে দমকা বাতাসে
বিস্তীর্ণ ধূ ধূ মাঠ, ঝোপঝাড় বাবুলের কাঁটা বন।
কোথাও সবুজ ক্ষেত, তামাক পাতার চাষ।
কালো মাটির দেশ, জল বিহীন জলাশয়।
দুর্গন্ধ বাতাসে, দুটি মানুষ বসে পাহাড় সমান ভাগাড়ের পাশে।
এক শিশু, প্রায় বয়স বারো,
কেঁদে কেঁদে কথা বলে পাগলের সাথে; -
 এক পোষা কুকুর মরেছে কিছুদিন আগে
সেই শোকে প্রতিদিন সময় কাটায় নিরবে,
চিল, শকুন, কাক, কুকুর খুবলে খায় মৃতদেহটি।
স্মৃতির পাতায় নিজেকে ভাসায় বেদনার বিহ্বললে।
ভৈরব এবার বলে; -
ঐ যে দূরে, ক্যানাল পাড়ে, 
মাঝে মাঝে আশ্রয় নিই দিনে রাতে,
কখনো ছিটিয়ে ছিলাম কিছু উচ্ছের দানা,
জল বাতাস আলোয় অঙ্কুরোদগম হয়; -
সবুজে হলুদে বাহারে ফল ফুল পাতায় সাজে।
একদিন দেখি ফড়িঙের দল আসে 
উচ্ছে খায়, করে বসবাস।
পাশের লেবু গাছে বুলবুলি পাখির বাসা,
কিচিমিচি আওয়াজে চোখে পড়ে,
বুলবুলি ঐ ফড়িং ধরে খাওয়ায় ছানাদের টুকরো টুকরো করে।
এক জীবনের প্রয়োজন অন্য জীবের মরণ।
ছোটো ছোটো পাখিছানা উড়তে শেখে এক ডাল হতে আর এক ডালে।
এক ছানা যায় পড়ে
মুহূর্তেই বিড়ালের মুখে, অপেক্ষায় ছিল বুঝি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে।
হায়! সময় যায় এমনই...
একদিন দেখি এক কুকুর থাবা বসায় বিড়ালটির ঘাড়ে, 
বিষাদময়!
কয়দিন আগে এলাকার প্রচুর কুকুর নিয়ে গেছে ধরে,
সরকারী গাড়ি এসে, সেই কুকুরটি ও ধরা পড়েছে সাথে।
শুনেছি, তাদের ছেড়ে দেয়া হবে জঙ্গলে চিতা বা সিংহের খাদ্য হিসাবে।
এই ঘটনা গুলির প্রতিটা পদেই আছে দুঃখ, আছে নৃশংসতা, আছে বেঁচে থাকার লড়াই।
উচ্ছে, ফড়িং, বুলবুলি, বিড়াল, কুকুর একে একে হারাই।
বিজ্ঞান বলে খাদ্য শৃঙ্খল, বস্তু তন্ত্রের পরিভাষা।
তাদের অস্তিত্ব আমার হৃদয়ে লালন করি,
প্রকৃতি জানান দেয়।
ভালোবাসার পরিমাপ বিষয়ের চাহিদার,
সেই ভালোবাসার বিয়োগ বেদনার প্রতিফলন।
সময়ের আপেক্ষিকতা ম্লান হয় স্মৃতির অতল।
আবেগের ধারা নির্লিপ্ত থেকে -
জীবনধারায় পথ চলো সময়ের সাথে।



 

No comments:

Post a Comment

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...