"মন ও দেহ"
-পুলক সাঁপুই।
মন ও দেহ এক ও ভিন্ন এই মানুষ জীবনে।
যা দেখি তা সত্য 'শরীর'। আর যা দেখি না কিন্তু ধ্রুব সত্য হয়ে আছে কল্পনার বাহিরে, তাহাই 'মন'।
আমরা শরীরকে যতটা প্রাধান্য দিই এক'এ অন্যের প্রতি সমাজে ও ধর্মে। মনেকে প্রাধান্য দিই না ততটা।
শরীর সামাজিক পরিস্থিতিকে মেনে চলতে বাধ্য করে। মন দিগদিগন্তে পাখা মেলে দেয়।
ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মানুষ মনকে উৎসাহিত করে না, মনকে দমন করার পর্যায়ে নিয়ে যায়, মানসিক ও শারীরিক ভাবে।
কিন্তু মনকে বাঁধা যায় না। যত দিন শ্বাস চলবে শরীরে, মানুষের মনের খেলা চলবে নিস্তব্দে।
শরীর আজ্ঞাবহ, মন স্বাধীন।
আমরা শরীরে একে অন্যের সাথে হার জিতের খেলা খেলতে পারি, যা সহজেই বোঝা যায়। মন তা অন্য ভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
দেহে ধর্মীয় পোশাক পরলেই ধার্মিক হয় না।
শরীর ও মনকে একত্রে মানবিক মূল্যবোধের পথে চালাতে পারলে, সেই প্রকৃত ধার্মিক।
এক মজার বিষয় এই মুঠোফোনের যুগে।
আমরা মানুষের মন খুঁজতে ও বুঝতে social media-র profile-এ তার মন বুঝতে চেষ্টা করি।
আর তার ফলে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম কলহ আর সংসারে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধের রূপ নেয়।আমারা মানুষকে দেখে ও বুঝে ও বুঝতে চেষ্টা করি না। মানুষের মনের পিছনে ধাওয়া করি, মরিচাকার পিছনে ছোটার বৃথা চেষ্টায়। বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। সমস্যা তৈরি করে, সমস্যার আগুনে ঘী ঢালতে শুরু করি, প্রলেপের নামে আগুনের শিখাকে প্রজ্বলতায় সাহায্য করি।
একজন আর একজনের মনকে কখনোই বুঝতে পারে না, সম্ভব নয় কখনো, বৃথা চেষ্টা অন্যের মন বোঝার।
মা, বাবা, স্ত্রী, স্বামী, সন্তান প্রত্যেকের মন আলাদা সত্বা।
মন নিজের আয়না। মন নিজেকে গঠন করে, মন দিয়ে অন্যকে গঠন করা যায় না।
নিজের মন দিয়ে অন্যের মনের ঠিকানা খোঁজ মানেই, - মন-সমুদ্র হতে এক আঁজলা জল ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা মাত্র।
