Tuesday, August 31, 2021

"ঈশ্বর"

"ঈশ্বর"
-পুলক সাঁপুই।

ভিন্ন ভিন্ন ধার্মিকেরা এক নৌকা যোগে
চলেছে নদী পথে ধর্ম সম্মেলনে।
প্রত্যেক ধার্মিক প্রার্থনা করে,
আপন ধর্মের ঈশ্বরে।
আজই সম্মেলনে দেখাইতে হবে
আপন ধর্ম মহান অন্য ধর্ম হতে।
বর্ষা নদীতে কুল নাহি দেখা যায় দুই পারে,
ঘনঘটা মেঘে উঠিল ঝড়, আসিল তুফান।
ধার্মিকের ঈশ্বর প্রার্থনা হইল আরো প্রবল।
মাঝি মল্লার করে আপ্রাণ চেষ্টা, বিফল হইল শেষে!
ডুবিল নৌকা, ধার্মিকেরা গেল ভেসে নদী তলে।
ধার্মিকদের সাথে সাথে ধর্মের হাহাকার দুর্যোগে।
প্রাণে বাঁচিল মাঝি মল্লার সাঁতার কেটে,
শিখেছিল তারা সাঁতার, জীবন যুদ্ধে বাঁচতে হলে নদী পথে।
ঈশ্বর আছে সেথা, যেথায় আছে আত্মনির্ভরতা,
প্রেমের মাঝে নিজেকে ভালোবেসে অন্তরাত্মায়।

 

Sunday, August 29, 2021

"ঈশ্বর এবং ধার্মিক"

"ঈশ্বর এবং ধার্মিক"
-পুলক সাঁপুই

ধার্মিক করে জাতের বিচার
ঈশ্বর দেখে কাঁদে।
ধার্মিকের কুসংস্কার
ঈশ্বর দেখে হাসে।
ধার্মিকের নিম্ন মন
ঈশ্বর ভগ্নহৃদয়ে
ধার্মিক যায় ধর্মগৃহে
ঈশ্বর মানুষের মাঝে।।

 

Friday, August 27, 2021

"পঞ্চভূতে"

"পঞ্চভূতে"
-পুলক সাঁপুই।

ভূমির সাথে আকাশের প্রেম জাগে;
দোঁহে মিলিতে চায় একে অপরে।
রবি কিরণে ও তাপে
বারি বাষ্পীভূত হয়ে যায় আকাশ পানে।
মেঘে মেঘ পুঞ্জীভূত হয় নীলে;
বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে দিক দিগন্ত জুড়ে,
বৃষ্টির ধারাপাতে ভূমিতে এসে মেলে,
প্রেমের মিলন হয় ভূমি ও আকাশে।
প্রকৃতির অনন্ত প্রেম কিশলয় সবুজে।।

 

Thursday, August 26, 2021

"ঈশ্বর"

"ঈশ্বর"
-পুলক সাঁপুই।

ঈশ্বরকে দেখি ফুটপাতে জুতা সেলাই করে।
ঈশ্বরকে দেখি ঘরে ঘরে ঝি, বুয়ার কাজ করে।
ঈশ্বরকে দেখি মাঠে, ক্ষেতে চাষ করে।ঈশ্বরকে দেখি নাই মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায়।
ঈশ্বর আছে মনে, দেখি তারে চেতনায়।

 

"সুখ"

"সুখ"
-পুলক সাঁপুই।

স্বাভাবিক পরিস্থিতির থেকে উন্নতি করতে চাহিদা তৈরী হয়।
ছোট ছোট চাহিদা পরিপূর্ণ করতে জাগে আশা।
ছোট ছোট আশা পরিপূর্ণ করতে আসে লোভ।
লোভ পরিপূর্ণ করতে জাগে স্বার্থ ।
ছোট ছোট স্বার্থ পরিপূর্ণ করে পেতে চায় সুখ।
এমন সুখের অ-সুখে পড়ো না, হবে নির্মূল।
কর্ম প্রেমে পাবে আত্মসুখ।।


 

Tuesday, August 17, 2021

"প্রকৃতি"

"প্রকৃতি"
- পুলক সাঁপুই।

নিস্তব্দ চারিধারে
থমথমে ভাব, কি হয়! কি হয়?
মেঘে মেঘে জমে, ঘন কালো-
ঝড় উঠিল এবার, ছিন্নপত্র ওড়ে;
ধুলোয় ধূমায়িত; ধূসর চারিধার,
সাঁই সাঁই রবে ঝটিকা বাতাস
গুরু গুরু মেঘের ডাকে সাথে বজ্রপাত।
ধারাবর্ষণ ঘটে, শীতল প্রকৃতি দেখি,
ধুয়ে যায় ধূলি, কিশলয় সবুজ।
অঙ্গগ্লানি দূর হয়, মনগ্লানি হয় নাই দূর,
তুষের আগুন নেভেনি এখনও-
আচ্ছাদন উদাসীন দেখায়।
পুনরাবৃত্তির পথে পথ দেখা যায়...
আমি আছি প্রেমে প্রকৃতির সাথে
দেখি নবরসে, নবরূপে, নবরচনায়।

 

Sunday, August 15, 2021


পালঙ্কের আত্মকথায়
পলক ভারী হয়,
কত সহস্র রজনীতে
রজনীগন্ধা সুগন্ধি হারায়।

 শরীরের গোপনীয়তা থেকে

মনের গোপনীয়তা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ,

মনের সাথে প্রেম করো, দেহতে মত্ত হয়ো না। 

ঈশ্বর কাঙাল সেথায়

ভক্তির তরে,

ধর্ম অন্ধ হয়

ভক্তের ভিড়ে।


 

"মনে রেখো"

"মনে রেখো"
-পুলক সাঁপুই।

মনে রেখো প্রতিদিন এমনই করে;-
সংসারে কাজের ফাঁকে, বা
কাজের মাঝে ঘামে ভেজা শরীরে।
মনে রেখো দুপুরে বিছানায়-
কবুতরের বকমবকম প্রণয় কাহিনীতে।
অথবা, যদি লিখে থাকো কোনো-
সামাজিক বা প্রণয় কাহিনী; সেখানে।
বা সন্ধ্যায়, ঝুলায় ঝুলিতে আনমনা হয়ে প্রেমের অতীত উপাখ্যানে।
হয়তো বা গাছেদের সাথে কথা বলে আমাকে মনে রেখো।
বা রাতের আঁধারে কোনো আত্মগ্লানিতে অথবা সোহাগে।
মনে রেখো আমি আছি তেমনই আগের মতো,
শুধু বদলে গেছে সময়ের সাথে প্রকৃতি, সবই আপেক্ষিকতা!!

 

Thursday, August 12, 2021

"স্বর্গ-নরক"

"স্বর্গ-নরক"
- পুলক সাঁপুই।

বেঁচে থেকে যেতে পারবে না কখনো সেথায়,
মৃত্যুর পরে জানাতে পারবে না কাহাকেও কি হয়।
স্বর্গ-নরকের খোঁজ দিয়েছে কে তবে!?
পাপ-পুণ্য কে বিচার করে? - শুধুমাত্র অন্তরাত্মা।
অলীক গল্পের বিশ্বাস এই বিজ্ঞানের যুগে!?
স্বর্গ-নরক মননের মাঝে, মানুষ বুঝে ও না বোঝে।।

 

Saturday, August 7, 2021

"ঈশ্বর"

"ঈশ্বর"
- পুলক সাঁপুই।

মনের মন্দিরে ঈশ্বর ক'রে আছে বাস।
তবু, খুঁজে মরি পাথরে, মূর্তিতে, কাঠে,
মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায়, গুরুদ্বোয়ারে।
হায় মানুষ! খোঁজে না নিজেকে নিজে,
নিজের আস্থাকে তারা বিশ্বাস না করে।
তারা চায় ঈশ্বরের আস্থা? তারা চায় ঈশ্বরের কৃপা?
বোঝে না যে, ঈশ্বর আছে তাদেরই মাঝে।
অন্তর্যামি তা দ্যাখে অনন্তকাল হতে।

যদি খুঁজি ধার্মিক মানুষ;-
লক্ষ কোটি মানুষ আসিবে দলে দলে
ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের ধার্মিক সেজে,
বুক ফুলিয়ে, মুষ্টি উঁচিয়ে আসিবে
প্রমান দিতে, কে কতো ধার্মিক সমাজে।
তবু মানুষ খুঁজে পাবে না সমাজে -
যারা মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে;-
মানবধর্ম পালন করে। যদি দেখা পাও তাদের!
সাবধানে রক্ষা করিও ধার্মিক হতে দূরে।
চেতনার পথে যদি চলো সত্য অবলম্বনে,
ঈশ্বর নামটি স্বার্থক হবে, ঈশ্বর নাহি মেনে।


 

Wednesday, August 4, 2021

"মন ও কথা" (কথা)

"মন ও দেহ"
-পুলক সাঁপুই।

মন ও দেহ এক ও ভিন্ন এই মানুষ জীবনে।
যা দেখি তা সত্য 'শরীর'। আর যা দেখি না কিন্তু ধ্রুব সত্য হয়ে আছে কল্পনার বাহিরে, তাহাই 'মন'।
আমরা শরীরকে যতটা প্রাধান্য দিই এক'এ অন্যের প্রতি সমাজে ও ধর্মে। মনেকে প্রাধান্য দিই না ততটা।
শরীর সামাজিক পরিস্থিতিকে মেনে চলতে বাধ্য করে। মন দিগদিগন্তে পাখা মেলে দেয়।
ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মানুষ মনকে উৎসাহিত করে না, মনকে দমন করার পর্যায়ে নিয়ে যায়, মানসিক ও শারীরিক ভাবে।
কিন্তু মনকে বাঁধা যায় না। যত দিন শ্বাস চলবে শরীরে, মানুষের মনের খেলা চলবে নিস্তব্দে।
শরীর আজ্ঞাবহ, মন স্বাধীন।
আমরা শরীরে একে অন্যের সাথে হার জিতের খেলা খেলতে পারি, যা সহজেই বোঝা যায়। মন তা অন্য ভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
দেহে ধর্মীয় পোশাক পরলেই ধার্মিক হয় না।
শরীর ও মনকে একত্রে মানবিক মূল্যবোধের পথে চালাতে পারলে, সেই প্রকৃত ধার্মিক।

এক মজার বিষয় এই মুঠোফোনের যুগে।
আমরা মানুষের মন খুঁজতে ও বুঝতে social media-র profile-এ তার মন বুঝতে চেষ্টা করি।
আর তার ফলে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম কলহ আর সংসারে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধের রূপ নেয়।আমারা মানুষকে দেখে ও বুঝে ও বুঝতে চেষ্টা করি না। মানুষের মনের পিছনে ধাওয়া করি, মরিচাকার পিছনে ছোটার বৃথা চেষ্টায়। বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। সমস্যা তৈরি করে, সমস্যার আগুনে ঘী ঢালতে শুরু করি, প্রলেপের নামে আগুনের শিখাকে প্রজ্বলতায় সাহায্য করি।
একজন আর একজনের মনকে কখনোই বুঝতে পারে না, সম্ভব নয় কখনো, বৃথা চেষ্টা অন্যের মন বোঝার।
মা, বাবা, স্ত্রী, স্বামী, সন্তান প্রত্যেকের মন আলাদা সত্বা।
মন নিজের আয়না। মন নিজেকে গঠন করে, মন দিয়ে অন্যকে গঠন করা যায় না।
নিজের মন দিয়ে অন্যের মনের ঠিকানা খোঁজ মানেই, - মন-সমুদ্র হতে এক আঁজলা জল ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা মাত্র।

 

"ঈশ্বর" (কথা)

 "ঈশ্বর"

প্রতিটি মানুষের চিন্তা ভাবনা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের, ঈশ্বর মানুষ বানিয়েছে না মানুষ ঈশ্বরকে বানিয়েছে!? সত্যিই ভাবার বিষয়!?
ঈশ্বর এক অবলম্বন মাত্র , ঈশ্বর বিশ্বাসীদের কাছে ''আছে"। তাতে জীবন নির্বাহ সোজা হয়ে যায়।
ঈশ্বর নাস্তিকদের কাছে ''নেই''।
তাদের কাছে মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব প্রধান হয়ে যায়।

মহাভারতে, একালব্যের গুরু যেমন দ্রোনাচার্যকে ঈশ্বর রূপে পূজা করে ও নিজের শতভাগ পরিচর্যা করে, অনুশীলন করে তীরন্দাজ হয়ে ছিলেন শুধুমাত্র দ্রোনাচার্যের অস্তিত্বকে মেনে। সেখানে দ্রোনাচার্য ঈশ্বর। আর তাই দ্রোনাচার্যের কাছে গুরুদক্ষিণা দিতে হয়েছিল তার বুড়োআঙুল।
মানুষের কাছে ঈশ্বর ও তেমন।
ঈশ্বরের অস্তিত্ব  কাঠ, পাথর, মাটি, মূর্তি হতে পারে, আবার ঈশ্বরের অস্তিত্ব "নেই" ও হতে পারে। যে যেভাবে নিতে পারে তাদের মানসিক পরিকাঠামোর উপরে।

"পথ ভাবে আমি দেব রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব-হাসে অন্তর্যামী।''
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই পঙক্তিগুলোর খুবই মনে পড়ে।।




Monday, August 2, 2021

"প্রেম"

"প্রেম"
- পুলক সাঁপুই।

তুমি আছো থাকো, যেমন তুমি চাও।
কত কথা বলতে ইচ্ছে করে,
ভাষা আসে, ভাষা হারিয়ে যায়-
আমি থাকি তোমার প্রতীক্ষায়।
প্রেম আমার সত্তা, তুমি উপলক্ষ মাত্র।
তোমার ধরন, - হোক সে তোমার মতো,
অমর প্রেম আমার অন্তরাত্মায়-
বহিছে ভুবনে পঞ্চভূতে।

 

Sunday, August 1, 2021

"প্রেম"

 "প্রেম"

-পুলক সাঁপুই

প্রকৃতির প্রেমে সূর্য ওঠে।
মেঘ ভাসে আকাশে প্রেমে।
বাতাস বইছে ভুবনে প্রেমে।
বৃষ্টি ঝরে প্রেমে।
অঙ্কুরদগমন হয় প্রেমে।
কিশলয় সবুজ প্রেমে।
ফুল ফোটে প্রেমে।
ফল হয় প্রেমে।
প্রেমই জীবন।
প্রেম বহমান।
প্রেম ধরে রাখতে হয় মনে।
আমরা সকলে আছি প্রেমে
যতদিন প্রানের সাথে আছে মন, ততদিন সাথে আছে প্রেম।
সময়ের সাথে প্রেম করি, সময় আপেক্ষিক, তাই সময়কে প্রেম করা নয়, প্রেমের সফলতার ফসলকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রেম করি।
প্রেমেই আছি, প্রেমেই যেন মরি।



"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...