পাগল ভৈরব -৩৪
প্রায় সন্ধ্যা নামে, কেউ কোথাও নেই
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, বালুচর,
বাতাস বহে জোরে, ভাঙা নৌকায় বসে
পাগল ভৈরব গুনগুনিয়ে গান গায়।
অনেক দিন পর পাগলকে পেয়ে পাগল হই
কাছে গিয়ে বলি; -
কি করিস পাগল এই অন্ধকারে?
খিকখিকিয়ে হেসে আমার দিকে চেয়ে বলে; -
ওহে; বই পোকা নয়, শ্যামা পোকা হ
অন্ধকারে নয়, আলোর পথে যা।
অবাক হয়ে বলি; -
এ কেমন কথা! বুঝিয়ে বলতো দেখি।
পাগল মাথা ঝাঁকিয়ে দাড়ি নেড়ে দাঁত বার করে বলে; -
শিক্ষার সততা প্রকাশ না করে, ডিগ্রিধারি হয়ে
আপন আত্মাকে অন্ধকারে রেখে সমাজ নষ্ট করে যে,
সেই ই বই পোকা, বইয়ের মহত্ত্ব খেয়ে।
একটু থেমে, পকেট হাতড়ে এক পোড়া বিড়ি বার করে।
পুবের আকাশে সোনালী চাঁদ
জলে সোনা গলে চকচক করে।
জ্বালিয়ে বিড়ি সুখটানে, ধোঁয়া ছেড়ে বলে; -
অনন্ত অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যা
সত্যিকারের মানুষ হতে।
কার্তিক মাসে ঘুটঘুটে অন্ধকারে
শ্যমাপোকা যেমন আসে ধেয়ে
দীপাবলির আলোর উৎযাপনে।
- পুলক সাঁপুই।