Sunday, August 9, 2026

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা"

রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার
তোমারই জন্য,
এসো দেখো চেয়ে
প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ।
পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে
নিও ফুল সুগন্ধি পেতে,
কণ্টক, গরল, পঙ্ক ও
পেতে পারো, তাই সাবধান।
তোমার প্রতিচ্ছবি দেখিবে এই সরোবরে
বিশ্রাম নিও পারো যতক্ষণ,
ফিরে যেও ফুরাইলে প্রয়োজন।
তোমার পদচিহ্ন রেখে যেও
হইব কৃতজ্ঞ।
এসেছি শূন্য থেকে, ফিরবো সেই শূন্যেই
আমার প্রেম তোমার তরে
এই ক্ষুদ্র সময়ে।


Thursday, August 6, 2026

"পাগল ভৈরব"- ২

"পাগল ভৈরব"- ২
- পুলক সাঁপুই

সেদিন চায়ের দোকানে বসেছি চা খেতে
পাগল ভৈরবকে দেখি দূরে দাঁড়িয়ে আছে,
মনে পড়ে; কিছুদিন আগে সে বাঁচিয়েছিল
পথ দুর্ঘটনায় চলন্ত ট্রাকের সামনে থেকে।
ডাকি তারে; দিই চা- বিস্কুট সাথে সিগারেট,
চা খাই দুজনে। হটাৎ কৌতুহল জাগে মনে,
মৃদু হেঁসে জিজ্ঞেস করি তাকে-
তুই কে? কি তোর ঠিকানা? বল সত্য করে -
পাগল ভৈরব হেঁসে ওঠে জোরে, বলে;-
"সত্য!? হা হা হা... সত্য কারে বলে?
সত্য বলতে বোঝো কি মহাশয়?"
চোখে চোখ রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে বলে;-
"আমার সত্য থাক আমারই কাছে,
সহস্র মিথ্যায় ডুবে আছি আজ -
সত্যের পথে আমি পাগল সেজে।
সত্য জানতে চাও কোন সাহসে আমার কাছে?
সত্যি করে বল;-
তোর চায়ের দামে কি কোনোও ভালোবাসা আছে?
- করুণা ও থাকতে পারে বা কৃতজ্ঞতার মূল্য!"
সিগারেট জ্বালায়, ধোঁয়া ছাড়ে আমার মুখের উপর,
অট্টহাসি হেঁসে যায় চলে।

 

Tuesday, August 4, 2026

#প্রেম

প্রেমের কাব্য লিখতে বসে ভাবুক হয়ে যাই,
কি লিখি কি পাইনা খুজে, নিজেকে হারাই।
অন্ধকারে পেঁচা ডাকে সঙ্গী হতে চায়,
মিনি বেড়াল দূরে থেকে মিটিমিটি তাকায়।
তোমার সাথে সকালবেলায় কফির কাপে দেখা,
দুপুরবেলায় এক বাটি ভাত সাথে পাঁপড় ভাজা।
বিকাল বেলায় মুড়ি বেগুনি, সন্ধ্যায় গল্প কথার ঝড়,
মধ্যরাতে রজনীগন্ধার সুবাস, ঘুমিয়ে কুপোকাত।
এমন করে শেষ রাতে মোরগের ডাক শুনি,
ভোরের আলোয় অবাক সকাল প্রকৃতির প্রেমে আমি।

তুমি হও বাঁধন ছাড়া, প্রেম না আমায় ছাড়ে
প্রেমের মাঝে জগৎ আমার সঠিক প্রয়োজনে।
আকাশ জুড়ে মেঘ কালো, বৃষ্টি ঝম্ ঝম্
বজ্রপাতের শব্দে বাজে হৃদয়ে তোমার নাম,
তখন আমি প্রেমের মাঝে বর্ষণে আলিঙ্গন।
আমার প্রেমের প্রান্তে তুমি আপন চরিত্রে,
নীলাচলে অস্ত যাও গো নির্ভীতে নিঃশব্দে।
উপকথার প্রেমে আমি নীরব হয়ে থাকি
এই প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে। 

#পুলক_সাঁপুই

Monday, August 3, 2026

অনুগল্প

"অন্ধের লাঠি"

নাম সোহানী। মেয়েটি অন্ধ। 
কাছের মানুষ সাথে থেকেও সে একা। 
তাই সে নিজের পৃথিবী গড়ে চলেছে তার লাঠির সঙ্গে। 
পথের সাথী হয়ে পথ দেখায় তার প্রিয় লাঠি। 
বাস্তবতা বদলায় সময়ের সাথে। 
প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বদল করে সে লাঠিকে পুরানো থেকে নতুনে। 
সে জঙ্গলে জঙ্গলে খুঁজে বেড়ায় কোনোও গাছের ভাঙ্গা ডাল। 
সেই ডাল থেকে নতুন লাঠি বানিয়ে নেয় পথ চলার সাথি হিসাবে পুরানো লাঠিকে পরিত্যাগ করে।
সোহানী গল্প করে আর তত্ব কথা কয় লাঠির সঙ্গে। এমন ভাবে দিন যায়। 
কোনো এক দিন সোহানী খুঁজে পায় এক জংলী ও অদ্ভুত গাছের ডাল। সেই ডালকে তার প্রয়োজনের লাঠি হিসাবে ব্যবহার করে।
সেই লাঠি তার জীবনের অনন্য সঙ্গী হিসাবে গড়ে ওঠে। 
সোহানী সেই লাঠির নাম দেয় জাদু লাঠি। এমনই করে দিন, মাস, বছর বছর গড়ায়।
কোন এক দৈবক্রমে সোহানীর জাদু লাঠির খোঁচা লাগে সোহানীর অন্ধ দু'চোখে। 
রক্তের ধারা বহে। 
ব্যথায় অস্থির সোহানী। কান্নায় ভেংগে পড়ে সে।
ত্যাগ করে লাঠিকে। 
সেই জাদু লাঠির খোঁচায় সোহানী চোখের দৃষ্টি পায়। 
আজ সেই লাঠি পরিত্যাক্ত কোনো এক আবর্জনার স্তূপে অন্য লাঠিদের মতো।
আজ সোহানী দু'চোখ চেয়ে চেয়ে দেখে পৃথিবীকে, অবাক দৃষ্টিতে। আজ সে আনন্দে দিশে হারা। 
গ্রাম জঙ্গল ছেড়ে শহরের অভিমুখে সোহানী চলেছে।
সে আজ হেঁটে বেড়াচ্ছে শহরের রাজপথে জীবনসঙ্গীর খোঁজে।

#পুলক_সাঁপুই

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...