"পাগল ভৈরব" -৭
- পুলক সাঁপুই।
হৈচৈ চার রাস্তা, থৈ থৈ জনতা
পোষাক দেখে বুঝি রকমারি ধর্মের ধার্মিকের ভিড়,
বুঝে উঠতে সারা, এমন কেমনে হয়?
যারা লড়াই করে মারে ও মরে একে অপরে!
উৎসুক মনে কাছে যাই ব্যাপার জানতে ;
বিকট আর্তনাদ শুনতে পাই, আরে! এ যে পাগল ভৈরব,
জনগণকে ক্ষান্ত করি, বুঝতে চাই তার কি অন্যায়;-
সমস্বরে বলে;- "ঐ পাগল মানে না ঈশ্বর, নাস্তিক বেটা।
তাই সমুচিত শিক্ষা দিয়েছি মিলে সকলে।"
এই পরিস্থিতির স্বীকার ভৈরব
এমনই করে সমাজে চলে চেতনার কণ্ঠ রোধ!
ছেঁড়া পোষাক, চোখে কালসিটে, কপাল গিয়েছে থেঁতলে,
ঠোঁট মুখ ফেটে, চুলে জট বেঁধে রক্ত ও ধুলার আস্তরণে আপাদমস্তক।
কোনক্রমে খাড়া হয় নিজ পায় পাগল,
গগনভেদী নিনাদে বলে ওঠে;-
"ওরে মূর্খ ধার্মিকের দল, শান্তির দূত,
তোরা ভীত সন্ত্রস্ত চিরকাল, সত্য যেথায়।
অলীক ফাঁদে শিকলে বাঁধা জনম জনম
ঈশ্বরের নামে ধর্মের বেড়াজালে
তোরা অসহায় নির্বোধ।
ঈশ্বর তোদের ব্যক্তিগত নয় রে মূর্খ,
ঈশ্বর সকলের যে যেভাবে দ্যাখে।
যেথায় ব্যাক্তি স্বাধীনতা নাই, উন্মুক্ত মন ব্যক্ত করার;-
সেথা জাহান্নামের চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট
তোদের এই পৈশাচিক জীবন যাপন।
তোরা অন্ধ মন কুয়ার ব্যাঙ ধর্ম পুস্তক মাঝে
ঘ্যাঘ্যোর ঘ্যাঘ্যোর ডাকে আওড়াস উচ্ছাসে।"
টলতে টলতে চলে যায় পাগল ।
এই দেখে প্রমাণ পাই অস্তিত্বহীন সকল ধর্মের ঈশ্বরের।
No comments:
Post a Comment