"পাগল ভৈরব -১০"
- পুলক সাঁপুই
ঘন জঙ্গল, প্রাচীন ভগ্নস্তূপ, বট অশ্বত্থ পাকুর গাছ,
ভাঁট ফুল থোকা থোকা পুটুস ফুলের রঙের বাহার,
আরো কতো গাছ গাছালি ফুলে ফলে
সূর্যের আলো আসে না সেথায়, দুপুরে সন্ধ্যা নামে।
বাদুড় অজস্র; গাছে গাছে আছে ঝুলে
পালে পালে বক বসে ডালে ডালে,
উৎকট গন্ধে ভরে, গা ছমছম করে।
ঘুঘু, ছাতারে, টুনটুনি, বুলবুলি, আরো কতো পাখিদের কূজন,
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর সরীসৃপের ব্যস্ততার শব্দ।
আযানের ধ্বনি ভেসে আসে কেঁপে কেঁপে বহু দূর থেকে
অদূরে কালো ধোঁয়া নদী তীরে শ্মশান হতে।
পাগল ভৈরবের খোঁজে আজ এখানে,
এক চালতা গাছের নিচে দেখি পাগল ঘুমিয়ে।
অজানা ভয়ে ঘামে ভিজে কাঁপা গলায় ডেকে বলি; -
কিছু জানার ইচ্ছেতে এসেছি বনে,
ভীত হয়ে থাকার কারণ কি?
ভয়ের উৎপত্তি কোথা থেকে?
ধন্য হবো এর জবাব পেলে,
ভৈরব ওঠে বসে; পাশে রাখা এক ভাঁড় থেকে জল খায়,
অগ্নি সংযোগ করে তার বিড়িতে,
একটু ভেবে, মাথা চুলকে, এক গাল হেসে
বিড়িতে সুখটান টান দিয়ে, নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বলে;
"ভয়ের কারণ -
ধার্মিক ধর্মান্ধ হয়ে ঈশ্বর, শয়তান, ভুত ইত্যাদির বিশ্বাসভাজন,
ভয়ের কারণ - কুঁড়ের আস্থাভাজন,
ভয়ের কারণ -
আত্মবিশ্বাসের অভাব, নেতিবাচক মনন,
ভয়ের কারণ - লোভ ও স্বার্থের প্রতিপালন,
ভয়ের কারণ - মিথ্যার আশ্রয়, সত্য গোপন,
তাই; মানুষ ভয়কে সাথী করে, করে লালনপালন।
মনে রাখিস,
তলোয়ার নয়, সাহসের প্রতীক লাঠি,
নির্ভয়ে চলতে পথ আজীবন।"

No comments:
Post a Comment