"পাগল ভৈরব -২৪"
- পুলক সাঁপুই।
বৃষ্টির ধারা অবিরত, আকাশ বুঝি ভেঙ্গে পড়ে
পথ ঘাট এক হয়ে চারিদিক জলময়,
বর্ষাতি পরে চলেছি, প্রকৃতির রূপ প্রাণভরে দেখতে।
ঝমঝম বৃষ্টিতে ধূসর চারিদিক, যতদূর চোখ যায়,
রাস্তার পাশে এক পরিত্যাক্ত টিনের চালায়
পাগল ভৈরব বসে মাচায়, বৃষ্টি দ্যাখে,
প্যাঁচা আড়কাঠে বসে ঝিমায়, পাসে বিড়াল ঘুমায়।
কাছে যাই, কিছু কথা বলি, শেষে জিজ্ঞাসা করি; -
ভৈরব আমাকে বল, দৈনতা কাকে বলে?
দৈনতার তাৎপর্য কি?
পাগল বুক ভরে শ্বাস নিয়ে বলে; -
দৈনতা মনের চোরা গলি,
মনের দারিদ্রতায় সর্বহারা, কোথাও ঠাঁই নাহি পায়,
পরিস্থিতির চলমান প্রবাহে সন্তুষ্টি মেলে না সেথায়
দৈনতায় নেই ধনী ও দরিদ্র ভেদাভেদ।
দৈনতা আখাঙ্খার পর্বত; আসমান ছুঁতে চায়,
লালসার মহাতরঙ্গ জাগে সাত সমুদ্রে,
চাহিদার বালুঝড়ে মরুভূমি লজ্জা পায়,
সুখ থাকে হামেশা ভবিষ্যতের আশায়।
অতীতের দিনগুলি আফসোস মনে হয়,
পড়শীর প্রতি ঈর্ষায় বর্তমানের সময় করে ব্যয়।
দৈনতা দুঃখ বিলাসী বানায়
না পাওয়ায় বেদনায় ক্ষত দেখা দেয়,
দৈনতা সঠিক কর্মপথ হারায়
আলস্য মনে উৎকণ্ঠা বাড়ায়,
দৈনতা প্রেম হারায়, ভরসা হারায়,
দৈনতা বাস্তবতার সুখ ছেড়ে অন্ধকারে ঝাঁপায়,
অনুযোগ অবিরত বিপরীতের প্রতি প্রতিষ্টা করতে চায়।
দৈনতা থেকে মুক্তি পেতে যদি চাও; -
আত্মবিশ্বাসী হও, নিজেকে মর্যাদা দাও,
অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রেখে -
প্রেমপূর্ণ মনে বর্তমান পরিস্থিতিকে সামাল দিয়ে
বাস্তবভিত্তিক পথে নিজেকে গড়ার লক্ষ্যে
এগিয়ে চলো তুমি যা চাও।

No comments:
Post a Comment