Wednesday, March 31, 2021

Lino cut.

মিথ্যা ভুবনে সত্যের ঠিকানা একটি।

'এই ভুবনের' ধারক ও বাহক সমাজ ও ধর্ম,
'সেই ঠিকানায়' পৌঁছাতে চলতে হবে চেতনার আলো জ্বেলে।।


 

"পথ"

"পথ"
পুলক সাঁপুই।

প্রতিদিনের চলার পথ আমার,
আসা যাওয়া সকালে সন্ধ্যায়,
প্রতিদিনই একটু বসি, চারিধার দেখি, একটু গান গাই।
ভীষন আপন আমার এ পথ, প্রতি ঋতু-ই আমার দরকার।
এ পথে ময়ূর নাচে, কোকিল ডাকে, হরিণ ঘাস খায়।

নিস্তব্ধ বিরাজ করে চারিধার, বাতাস স্তব্ধ সেথায়, প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
শব্দ তরঙ্গ আকাশে বাতাসে ছেয়ে যায়,
গুড়ু গুড়ু রব ওঠে কালো কালো মেঘ ছায়।
বুঝি ঝড় আসে আমার এই রাস্তায়।
মোকাবিলার নেই কিছুই, প্রকৃতির কাছে সমর্পন বাধ্যতায়।

পথ ভেঙেচুরে একাকার, পুরানো পথ আছে- নেই ও আবার,
এখন পুরানো পথে বুঝি বাস করে হায়না,
এ জানোয়ার বিশ্বাসী নয় সকলেরই পরিচয়।

নতুন পথ ধরি, চলতে সেই একই ঠিকানায়,
দেখি, কুয়াশা ভরা কাদামাটি ঘাস, জল থৈ থৈ,
কচ্ছপ ঘুরে বেড়ায় এই রাস্তায়,
শক্ত আবরণে ঢাকা, তিন'শ বছর বাঁচে এ প্রাণী প্রায়।

আনন্দ ঝর্ণাধারায়, নদী বয় কলকল রবে,
দেখি কিশলয়! মধ্যাহ্ন কিরণে আলো বিচ্ছুরিত হয়।

 

Tuesday, March 30, 2021

"একটি আত্মার অপমৃত্যু"

"একটি আত্মার অপমৃত্যু"
-পুলক সাঁপুই।

দেখা হয় এক মৃত্যুর পূর্ববর্তী আত্মার সাথে,
ধীরে ধীরে আসে আমার কাছে
আমাকে আমন্ত্রণ জানায় তার মৃত্যু দেখার,
বসে, বলে তার ইতিহাস-
জানায় তার জন্মবৃতান্ত,
কেমন করে কেটেছে তার শৈশব, কৈশোর
কেমন করে হয়েছে দোষী সে বারবার,
কেমন করে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে অতঃপর।
বাঁচার অধিকার আছে কি তার আর? প্রয়োজন কোথায়?
ইচ্ছা মৃত্যুর সফলতা কোথায় বুঝতে চায়।
কল্প-গল্পের উপাখ্যান কেমন করে পথ পায়? জানতে চায়।
আমি অপেক্ষায় উদগ্রীব রই,
দেখিতে ওই আত্মার মৃত্যু কেমন করে হয়।

 

"পাখি"

"পাখি"
-পুলক সাঁপুই।

এক ডানা কাটা পাখি বাসায়,
ছানা নিয়ে সংসার সমাজের পেশায়,
ক্ষেত্র পরিবর্তনের চেষ্টায়
মনের আকাশে শুধু ডানা ঝাপটায়,
স্বপ্ন তার চোখে,- ছানাকে যুবতী বেশে
আসিবে সময় উড়িতে বাস্তব আকাশে,
সহসা হটাৎ দক্ষিনা হাওয়ায় প্রাণ ফিরে পায়,
এক আত্মার সাথে তার আত্মার দেখা পায়।
পাখি বোঝে তার হয়েছে সময়,
প্রানপন করে চেষ্টা, সফল হয় প্রায়!
হায়! সে সুযোগ আর নাহি তার,
তুফানের মাঝে পাখিটি ঘুরপাক খায় হতবুদ্ধি প্রায়।
সে নিরুপায়, তার মনের শক্তি ক্ষয়, আসে সমঝোতায়,
ধরা দেয় নিজেকে, পায় প্রাপ্য কিছু দানা ও বাসায় থাকার,
অতি আবেগপূর্ণ প্রেম দিয়ে ডানা কাটে- মালিক,
সমাজের নামে অতি সন্তর্পনে নতুন চুক্তির স্বাক্ষর হয়।
পাখির স্বপ্ন ছানাটিকে ঘিরে,- সবকিছু মেনে নেয়,
আজও পাখিটি গুন গুন গান গায়।


 

"আমাতে"

"আমাতে"
-পুলক সাঁপুই।

রাতের আঁধারে মন গহনে
ধ্রুবতারা হয়ে বসে আছে যারা,
শুধু দেখায় দিক,
মহান বাণীতে ছেয়ে রাখে মন,
অন্ধকারে স্বচ্ছ আকাশের উত্তরে
ঝলমল হয়ে দেখায় ভালো তাহা।
দিতে পারে না সে আলো,
দিতে পারে না সে উষ্ণতা,
পারবে না ঘটাতে সালোকসংশ্লেষ,
পারবে না দিতে জলরাশি থেকে মেঘপুঞ্জ,
মেঘপুঞ্জ থেকে বৃষ্টিধারা,
বহিবে না নদী, সমুদ্র তরঙ্গ,
বন-বনানী প্রকৃতির খেলা,
শুধুমাত্র উৎস সেথায় সূর্য কিরণ।
আঁধার ও আলো, কাটে দিন কাটে রাত অনন্তকাল।
প্রকৃতির খেলা ঘরে ক্ষুদ্র আমি হেথায়,
আত্মা আমার ইষ্টদেবতা।

 

Saturday, March 27, 2021

"প্রকৃতি"

"প্রকৃতি"
-পুলক সাঁপুই

আগ্নেয়গিরির প্রেমের গলিত লাভা
শীতল হয়ে ভালোবাসার পাথর জমে,
আজ সেথায় কিছু সবুজ দেখা যায়
কিছু পাখি আসে মল ত্যাগ করে
প্রজাপতির আসে ফুলে মধু খেতে
ভ্রমরা পরাগ ছাড়ায়,
প্রেমিক থাকে বসন্তের অপেক্ষায়।


 

"স্বপ্ন"

"স্বপ্ন"
-পুলক সাঁপুই।


টেবিলের উপর পিঁপড়ার ঝাঁক
কবিতার খাতায় করল অ্যাটাক
কাছে গিয়ে দেখি, চামকাই, একি!
তারা যে কবিতার শব্দ খুঁটে খুঁটে খায়।

অতি মনোযোগে, অতি গর্ব ভরে
অতি সাবধানে, অতি সন্তর্পনে
অতি ভাবাবেগে, অতি যত্ন নিয়ে
লিখেছিলাম কবিতা দুর্ধর্ষ দুরহ শব্দ বেছে বেছে।

আলো-ছায়া, ধরা-ছোঁয়া, লুকোচুরি
চোখ ধাঁধানো জটিল বাক্যের ফুলঝুরি,
সবকিছু মিলে এক কবিতার মিশেল,
পিঁপড়ারা দেখি সব খেয়ে করে দেয় শেষ।

প্রেম-ভালোবাসা, পরিশ্রমী মানুষ, ধর্মীয়, সামাজিক,
সব নিয়ে লিখি যা মানবিক সঠিক,
লিখি সকলের মাঝে থেকে সহজাত প্রাকৃতিক,
কবিতা যেমন পাখা মেলতে চায়।

পিঁপড়ার সারি ফিরে যায় দেখি
কাছে যাই ধীর পায়ে, তাকাই খাতায়,
হায় হায়! সব যে ওলটপালট, লেখা পাল্টায়!
কঠিন বাক্য ও শব্দ সবই সহজ হয়ে যায়।

পিঁপড়ার কামড়েই ঘুম ভাঙে ভোরে
উঠে বসি, ভাবি একি সংযোগ দেখি?
প্রতিদিনের কথা বলা, চলাফেরা,
সবই যদি হয় স্বাভাবিক,
 কবিতার ভাষা কেন হবে ব্যতিক্রমী?




 

Thursday, March 25, 2021

"পুনর্মিলন"

"পুনর্মিলন"
-পুলক সাঁপুই।

সেই পরিচয়ের প্রথম থেকে
কবিতায় বেঁধেছিলেম চিত্ত,
কতো মুহূর্ত পেরিয়েছে
কতো সন্ধ্যা গড়িয়েছে
কতো রাত্রি গেছে অভিসারে,
কতো স্বপ্ন হারিয়েছে। শেষে-
বাস্তব অঙ্গনে স্থির বিচরণ।

যা গেছে, গেছে, যা আছে-
রাখি জতনে, যতটুকু পাই।
ধূসর বর্ণ হতে রাঙাতে চাই রঙে
রংধনু হয়ে মন হতে মনে,
সময়ের সাথে অমোঘ অঙ্গীকারে।
এসো এসো তুমি, হয়ে মনের মণি
নিঃসঙ্গতার বারি ঝরাও তোমার-
আমার হৃদয়ের মরু দেশে, সঙ্গোপনে।


 

Wednesday, March 24, 2021

"আমাতে"

"আমাতে"
-পুলক সাঁপুই

মাটির আকাশ গড়ি
গড়ি ধাতব জল,
দুয়ারে ফাগুন আসে
করি টলমল।

মাটি পুড়ে ইট হয়
ইট টেরাকোটা লাল,
লাল মাটি মেঠো সুর
সুরে হরতাল।

কাল ছিলাম হরবোলা
আজ আমি বধির,
গুরু থেকে চেলা হই
জ্ঞানী থেকে পাপী।

সাদা কালো খুঁজে মরি
আপনার অন্তরে,
পাষাণ হাওয়ায় ওড়াই
দেখাই সোনার পাথর বাটি।

ঝর্ণা কলম হারাই
ধরি সিলেট-পেন্সিল,
অহং-এ দহন হোক
মুখ পড়ুক সত্যিই।

বৃক্ষের ফল হোক
সবার প্রয়োজনে,
মাকাল ফল হয়ে রই
ঘৃণ্য এ জীবনে।

জমিদার পাখি ওড়ায়
মুক্তি দেওয়ার সুখে,
চিড়িয়াখানায় ভিড় দেখি
হাজার মানুষের।

ছলনায় ভেক ধরে
করি জল ছলাৎ ছলাৎ,
কামনার আগুন জ্বলে
ফাগুনে পলাশ।

কাকের বদান্যতায় কি?
বসন্তে কুহু ডাক শুনি-
সমাজে ঠাঁই রাখি
মনে ঝালমুড়ি।

দুপুর জুড়ে বকম বকম
জোড়া কবুতর ডানা ঝাপটায়,
চুলায় ভাত পোড়ে
বাতাসে গন্ধ ছড়ায়।

কালো মনে কালি দিয়ে আঁকি
লক্ষ তারার তিমির,
তিমিরে মাঝে আশা রাখি
প্রেমের স্পন্দনের ফুলকারী।

 

Monday, March 22, 2021

"চিনি- তুমি কার?"

"চিনি- তুমি কার?"
-পুলক সাঁপুই।

পিঁপড়ার লাইন চলেছে সারি
আমি মেঝেয় উপুড় হয়ে শুয়ে দেখি,
চলেছে লক্ষ কালো ছয় পেয়ে আর্মি
আমার চিনির বয়ামে দিয়েছে পাড়ি।
খাওয়ার টেবিলে চলেছে সারি সারি
এক একটি দানা, কেউ নেয় একা,
দুই-তিন সাথে মিলে নিয়ে যায় বাসায় আবার।
আমি যাই রেগে, ভাবি ছিটাই 'হিট-স্প্রে',
আমার চিনির হামলাকারীদের করি জলাঞ্জলি।
পরক্ষনে নিজেরে সামলাই, গভীর চিন্তায় মগ্ন হই:
আর ভাবি:- "চিনি- তুমি কার?"
যে চাষী ঝরিয়েছে ঘাম, ইক্ষু চাষ করে, তুমি কি তার?
বা যে জমিতে ফলেছে ইক্ষু সেই জমির? অথবা সেই জমির মালিকের?
কিংবা চিনি ফ্যাক্টরির মালিক, যে কিনেছে ইক্ষু?
সেই শ্রমিকদের, যারা মেশিন চালিয়েছে দিনরাত চিনি তৈরির কারখানায়?
নতুবা, গুদামজাত করেছিল যে ব্যবসায়ী?
নহিলে, পাইকারি বা খুচরা বিক্রেতার?
না হয়, আমি কিনেছি আমার প্রয়োজনে,- আমার?
তবে কি! ঐ পিঁপড়াদের?
যারা সমাজের তরে এক যোগে মিলে বয়ে নিয়ে চলেছে বয়াম হতে?
বলো চিনি- "তুমি কার?"
তুমি নয়তো ইক্ষু'র চিনি আর,
ইক্ষু হতে জন্ম হলে ও 'তুমি-ই-তোমার'।
চিনি তুমি সকলার, যার যেমন রহে ব্যবহার।
তবে, 'চিনি'- সুগার রোগীর জন্য তুমি বড়োই বেদনার।


 

Sunday, March 21, 2021

"স্পাইক" ও "টম"

"স্পাইক" ও "টম"
-পুলক সাঁপুই।


পাশের বাড়ির 'রিনী'
চতুর্থ শ্রেণী পড়ে,
পুষেছিল বিড়াল ছানা এক,
নিজের সাথে নাম মিলিয়ে নাম রেখেছিল তার 'মিনি'।
সোহাগ করে দিনে রাতে তারে,
দুধ বিস্কুট খাওয়ায় তাকে,
দেয় মাছ, আর যা খেতে ভালোবাসে।
তার সাদা সাদা লোমে হাত বুলিয়ে আদর করে,
জড়িয়ে ঘুমায় একই লেপের তলে,
'মিনি' ছানা বেজায় সুখের বেড়ে ওঠে প্রেম ও ভালোবাসার মাঝে।
'রিনী' এখন নবম শ্রেণী পড়ে, হয়েছে ডাগর,
পথে ঘাটে চলাচলে অসুবিধায় পড়ে,
-সমাজের চ্যাংড়া ছেলেদের মাঝে।
অনেক ভেবে শেষে, বডিগার্ড প্রয়োজন বোঝে,
রিনীর দাদা নিয়ে এলো এক বিশাল ল্যাব্রাডর, 
মাত্র চার মাস বয়স তার,
বেশ ভয়ঙ্কর, ঘেউ ঘেউ ডাকে।
ছোটাছুটি ঘর ময়, নতুন জায়গা পায়,
হুল্লোড় চলে দিনে রাতে, 'মিনি' দূর হতে তাকিয়ে রয়।
'রিনী'র হাঁকডাক বাড়ে ল্যাব্রাডরের নাম 'নিনি' হয়।
মিনির আদর কমে, দ্যাখে দূরের জানলা দিয়ে,-
'রিনী' চলেছে সগর্বে 'নিনি'র গলায় দড়ি বেঁধে।
মিনির জায়গা এখন চিলেকোঠার টেবিলের নীচে,
'নিনি' ঘুমায় 'রিনী'র ঘরের বাহিরের বারান্দায়।
"স্পাইক" ও "টম"-এর খেলা জমে ওঠে,
কার্টুন ক্যারেক্টার হয়ে ওঠে রিনীর ঘরে,
শুধু 'জেরি' নেই সেখানে।
'মিনি' বুঝেছে তার পরিণতি,
সময়ের পথে দাঁড়িয়ে সে,
নিঃশব্দে বিদায়ের ইচ্ছায়।


 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...