Monday, May 30, 2022

পাগল_ভৈরব - ১৮

#পাগল_ভৈরব - ১৮
"ছোটোগল্প"
#পুলক_সাঁপুই।

জেলে পাড়ার ঘাট। সারি সারি নৌকা বাঁধা। তার একটিতে পাগলা ভৈরব বসে পা দোলায় জলে। আনমনে কি যেন ভাবে!
এমন সময় একদল ছোটো ছোটো ছেলে মেয়ে ভীড় করে নদীর পাড়ে। কিচিরমিচির আওয়াজ করে।
ভৈরবকে দেখে তারা এগিয়ে আসে। কেউ বলে, পাগলা আমাদের গল্প শোনা। কেউ বলে, ঈশ্বর কি সত্যিই আছে? কেউ বলে, হাতির গল্প শুনবো।

পাগল ভৈরব বলে, - তোরা 'অন্ধের হস্তী দর্শন' গল্প শুনেছিস আগে কখনও? আমি বলবো সেই গল্প আবার। 
এক দেশ ছিল। সেখানে সকল প্রজারা ছিল অন্ধ। 
(বিঃ দ্রঃ: যারা দেখতে পেত, তারা সকলে চোখে পট্টি বেঁধে অন্ধ হয়ে থাকতো।)
একদিন প্রজারা রাজার কাছে আর্জি করলো, তারা 'হাতি' কেমন তা জানতে ও বুঝতে চায়।
রাজার হাতিশালায় হাতি আছে। তবে, সেখানে সমস্ত প্রজাদের নিয়ে যাওয়া অসুবিধা। তাই, প্রজাদের মধ্যে বুদ্ধিমান পাঁচ প্রতিনিধিকে হাতিশালে নিয়ে আসা হবে। এবং তারা বাকি সমস্ত প্রজাদের আলাদা আলাদা ভাবে হাতির বিবরণ জানাবে।
পাঁচ অন্ধকে হাতিশালে নিয়ে যাওয়া হলো।
প্রথমজন হাতির আকার আকৃতি বোঝার চেষ্টা করলো, পা স্পর্শ করেই বুঝলো হাতি স্তম্ভ বা পিলারের মতো।
অন্য জন হাতির কান স্পর্শ করে বুঝলো হাতি কুলোর মতো।
আরেক জন হাতির লেজ ধরে বুঝলো দড়ি বা কাছির মতো। 
পরের জন শুড় ধরে বুঝলো হাতি মোটা চোঙা বা পাইপের মতো।
শেষ জন হাতির শরীরে হাত দিয়ে বুঝলো এক প্রকাণ্ড দেওয়াল বা প্রাচীরের মতো।
এই পাঁচ জন প্রতিনিধি রাজ্য জুড়ে হাতির সমন্ধে বোঝাতে লাগলো সমস্ত প্রজাদের আলাদা আলাদা হয়ে।
এবার তোমরা বলো, এই পাঁচ জন প্রতিনিধি কি সঠিক প্রচার করেছে?
তোমারা অবশ্যই বলবে, 'না'।
আমি বলবো হ্যাঁ সঠিক ছিল, তবে...
তারা কেউই হাতির বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে উঠতে পারে নি।
তাই তারা ঐ ভুল তথ্য গুলিকে সঠিক মনে ভেবে প্রচার করেছে। আদতে তা মিথ্যা।

বিভিন্ন ধর্মের গবেষকরা এমনই অন্ধের হাতি দর্শন করে নিরীহ মানুষদের কাছে ঈশ্বরের নামে ধর্ম প্রচার করে, তাদের ধর্মের রীতি নীতি, আদব কায়দা, নিয়ম কানুন শেখায়। ভুল পথ দেখায়।
একে অপরের ধর্মের প্রতি হিংসা, ঘৃনা ছড়ায়। মারপিট, লড়াই দাঙ্গা, হানাহানি করে। তারা মানুষ হয়ে মানবধর্মের থোড়াই কেয়ার করে!?

আমার ঈশ্বর এই পৃথিবী। প্রকৃতির প্রেমে আমার জন্ম। প্রকৃতির কোলে মানুষ হয়ে বেঁচে আছি। মানুষ হয়ে মানবধর্ম পালন করি। মৃত্যুর পরে প্রকৃতির সাথে মিশে যাবো। তাই আমার ঈশ্বর প্রকৃতি।

 


 

Wednesday, May 25, 2022

"পাগল ভৈরব"

#ছোটোগল্প
"পাগল ভৈরব"
#পুলক_সাঁপুই।

সামসুখ ভাই। সকলেই এই নামে চেনে। পাঁচ বছর এই গ্রামে এসেছে। এই গ্রামে এক জমিদার বাড়ি আছে বিশাল পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। সামসুখ বাড়িটি কিনেছেন। তিনি আগে বিদেশে থাকতেন।
সামসুখ ভাই আসার পর থেকে এই গ্রামে অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি সরকারকে প্রয়োজনে চিঠি লেখেন গ্রামের উন্নতির জন্য। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রাস্তা ঘাট, জল, আলো ইত্যাদির সুব্যবস্থা হয়েছে ওনার চেষ্টায়।
গ্রামের প্রতিটা মানুষ সামসুখ ভাইকে খুব মান্যি করে চলে।
সামসুখ ভাইয়ের আসল নাম কেউ জানে না। 
ক্রিশ্চানরা বলে Sam Wood. মুসলিমরা বলে সামসুদ্দিন। হিন্দুরা বলে শ্যামসুন্দর।
প্রতিটা ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষ ভাবে।

মানবধর্ম হারিয়ে বিধর্মীরা ধর্মের পরিচয় চায়। নামে কি আসে যায়? কর্মই আসল পরিচয়।

এক সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি।
এ সময়ে সামসুখ ভাই আমাকে দেখে কাছে ডাকলেন।
তিনি পাঁচ বছরে পাঁচবার সাদা চুনকাম করেছেন পাঁচিলে। কিন্তু পরিচ্ছন্ন দেওয়াল বেশীদিন রাখতে পারছেন না। কেউ না কেউ কিছু না কিছু লিখে বা সাঁটিয়ে দিয়ে যায় নানা বিজ্ঞাপন ইত্যাদি। তিনি পাঁচিলে বড়ো বড়ো করে লিখছিলেন "বিজ্ঞাপন লাগাবেন না"। কে কার কথা শোনে? 
যে কে সেই। 

শত্রু বলে কেউই নাই সামসুখ ভাইয়ের। 
তবুও, এমন কেন মানুষে করে? 
কিছু জায়গায় দেওয়ালে অলিখিত মূত্রখানাও বানিয়ে দিয়েছে এই সকল রাস্তা চলাচলের পথের মানুষে।

সামসুখ ভাই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় কি হতে পারে আমার কাছ থেকে বুদ্ধি চাইলে।
আমি পড়ি মুশকিলে। আমার সাথে বুদ্ধির সম্পর্ক? ভাবি নাই আগে কখনও। নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
তবে মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। পাগলা ভৈরব এর কাছে এর উপায় অবশ্যই আছে।
সামসুখ ভাই ভৈরবের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। 
আমি বলি, - সে সমাজের কাছে পাগল। আমার কাছে মহামানব, মুশকিল আসান। সে ভবঘুরে।
প্রয়োজনে তার কাছেই যেতে হবে। 
অনেক খুঁজে খুঁজে শেষে; - তিন মাইল জঙ্গলের ভিতর, তাল দিঘির পাশে, বড় তেঁতুল গাছ, ঠিক তার পাশে চালতা গাছের নিচে চ্যাটাই পেতে পাগল ভৈরব পেঁচা ও বিড়ালের সাথে খেলা করে।
এখানে আমার গা ছমছম করে। সামসুখ ভাই ভ্যাবাচ্যাকা খায় এইসব দেখে।

এই জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অনুভূতির কথা ভৈরব কে শোনাতে যাই। ভৈরব বলে, ভণিতা রাখ, সোজাসুজি আসল কথায় আয়।
 সামসুখ ভাই ও ভৈরবের অনেক কথা হয়।
সামসুখ ভাইয়ের কাছ থেকে কাগজ কলম চেয়ে অনেক কিছু খসখস করে লিখে দিল। স্বর্ণোজ্জ্বলের মতো সুন্দর তার হাতের লেখা ও আঁকিবুকি।
  স্থাপত্যরীতি সংক্রান্ত (Architectural) আঁকা ও বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ ও ফুলের নাম ও তাদের বৈজ্ঞানিক নাম অনর্গল লিখে দিলো। 
আরো লিখলো ও এঁকে দিলো - শিশু কিশোরদের বিভিন্ন ধরণের খেলা ও কসরত করার মজার মজার কলাকৌশলের উপকরণ।
সাইকেল চালানোর রাস্তা।
মানুষের হেঁটে চলার ফুটপাত।
সমস্তকিছুই হবে ঐ পাঁচিলের পাসে পাশে।
শুধুমাত্র তা নয়, কতো খরচ হতে পারে, তার ও আনুমানিক মূল্য (Estimate) লিখে দিলো।

আমি জলের তরঙ্গ দেখি বাতাসের সাথে তাল-পুকুরে। পদ্ম ফুল ও শালুক ফুলের উপরে ঘাস ফড়িঙের খেলা দেখি।

বেশ কিছুদিন যায়। জমিদার বাড়ির পাঁচিলের ভাঙ্গা গড়া চলে। একদিন সামসুখ ভাই এর সাথে দেখা। আমি বলি খবর কি? সে বলে, - পাগল ভৈরবের কাছে প্রায়ই যেতে হয় নানান সলাপরামর্শ করতে। মানুষটার দর্শনশক্তি আছে বটে, তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছি।

সে চৌরাস্তার ফুটপাতে কখনো রাজার হাটের পীর তলায় অথবা বাউল গ্রামের বট তলায় কিংবা ফিরিঙ্গী সাহেবের লঞ্চ ঘাটে কোথায় কখন থাকে। তাকে খুঁজে পাওয়া বড়ই কষ্টের।
তাই পাঁচিল তৈরীর কাজ ও ধীর গতিতে এগোয়। 

প্রায় বছর গড়ায়। আমি আবার এই গ্রামে। প্রথমেই ছুটি জমিদার বাড়ির পাঁচিল দেখতে। ঘুরে ঘুরে দেখি চারিধার। পাঁচিল দেখে অবাক হই। মানুষের জন্য টয়লেট ও পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত বানিয়েছেন। ধবধবে সাদা পাথরের। স্ত্রী ও পুরুষের জন্য। কোথাও কোথাও বসার জায়গা। বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরণের খেলার ব্যবস্থা আছে। পাঁচিলের সাথে নানা ধরনের গাছের ও ফুলের বাহার।
নানান ধরণের বর্ণময় ছবি আঁকা মহাপুরুষের ও উক্তি লেখা সুন্দর ক্যালিগ্রাফিতে।

এসব দেখে অনেক কিছু জানতে পারি। যেমন, বাসক পাতা কে জাস্টিসিয়া (Justicia) নিমকে অ্যাজাডিরিক্টা ইন্ডিকা (Azadirachta Indica), কুলেখাড়া শাককে হাইগ্রফিলা ওরিকুলাটা (Hygrophila auriculata), কালমেঘ ও চিরতা একই গাছ। ইমনই অশ্বগন্ধা, আমলকি ইত্যাদি ইত্যাদি ছবি আঁকা ও বড় বড় করে লেখা আছে যা আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ব্যবহার ও গুনাগুন। 
পাঁচিলের সাথে সাথে নতুন নতুন গাছ রোপণ করা হয়েছে।
আশেপাশের গ্রামের মানুষ, স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা এমন সুন্দর পাঁচিল দেখতে আসে। এই পাঁচিল এখন মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থান।

পাঁচিলের এক দিকে দেখি পাগল ভৈরবের প্রতিকৃতি আঁকা। এক দিকে বিড়াল এক দিকে প্যাঁচা, হাতে তার মাকাল ফল লাল টকটকে। এই গাছের উপকারিতা সমন্ধে অনেক কিছু লেখা আছে পাশে।
      ___________________



 

Friday, May 20, 2022

"সেই ক্ষণে"

"সেই ক্ষণে"
- পুলক সাঁপুই।

তুমি আছো সাথে। 
সবুজ ঘাসে, গাছের তলে -
নিল আকাশ, সাদা মেঘে ছেয়ে। মৃদুমন্দ বাতাস,
তুমি আমার কোলে মাথা রেখে।
সুঘ্রাণ পাই তোমার খোলা কালো চুলে।
দুটি রেখা সাদা চুলে, আরো বেশী চমত্কার লাগে।
চুলে বিলি কেটে দিই, কপালে বুলাই হাত।
তোমার চোখ নাক মুখ গাল স্পর্শ করে প্রতিটা রন্ধ্রের খোঁজ নিই। 
তোমার ঠোঁটে আমার ভালবাসার আঙুল ছোঁয়াই।
তোমার মুক্তোর মতো দাঁত দেখি গোলাপী ঠোঁটের ফাঁকে; ঝিলিক দিয়ে ওঠে।
 আঙুলের স্পর্শে আমার তর্জনী ভিজে যায়।
 তুমি অনুভবে। আমি চুমুর অপেক্ষায়।



 

Thursday, May 19, 2022

"পাগল ভৈরব - ১৬"

#পাগল_ভৈরব - ১৬
- পুলক সাঁপুই।

ট্রেন চলেছে বজবজ থেকে শিয়ালদা
ভীড় ঠাসা মানুষ, প্রাণ বুঝি যায়।
হকারের হাঁকডাক, চেঁচামেচি চিৎকার
সবকিছু উপেক্ষা করে, ঠেলেঠুলে কোনো মতে
একটি সিট, আহা! বসে প্রাণ পাই।
মুখ মুছে জামা ঝেড়ে চারিপাশে একটু তাকাই।
মনে ভাবি, কেমন করে সহজে বসার জায়গা পাই।
হা হা হা, - বুঝি এই বার,
জানলার ধারে মুখ গুঁজে ঘুমায় সে, -
ছেঁড়া ময়লা পোষাকে চাদর জড়িয়ে।
তার পাশে তাই বসেনি কেউই
হয়তো ভয়ে, নয়তো ঘৃণায়।
যাক, তাতে কি? বসতে পেরেছি যথেষ্ট তাই।
ট্রেন চলে ঝাঁকি দিয়ে -
খট খট ঘড় ঘড় আরও কতো বিকট আওয়াজে 
জানলার পাশের মানুষটির ঘুম ভাঙ্গে
নড়ে চড়ে সোজা হয়ে বসে।
আরে! এ যে আমার কাঙ্ক্ষিত পাগল ভৈরব।
ওরে পাগল, - ভাবিনি দেখা পাবো তোরে এখানে।
আহা আমার সৌভাগ্য আজ তোকে কাছে পেয়ে।
বারবার একটা প্রশ্ন মনে এসে বাঁধে।
এইবেলা বল
ক্রোধের উৎপত্তি কোথা হতে?
আর, এর থেকে নিষ্পত্তি পাবো কেমনে?
ভৈরব শুরু করে, -

"মোহেতে চাহিদা মেটাতে লালসা,
লালসা চরিতার্থ করতে স্বার্থ, 
স্বার্থ পূরণ মানেই আত্মসন্তুষ্টি,
আত্মসন্তুষ্টি অহং সম।
অহং পরিতৃপ্ত না হলেই ক্রোধের উৎপত্তি।

হা হা হা 

ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের উপায় বড়ই সোজা,
আত্মার সাথে কও কথা -
আপন হীনতার সাথে পরিচিত হয়ে
আলিঙ্গন করো তারে।
ক্রোধ হইবে খান্ত জলজ্যান্ত,
শীতল হইবে অনুভবে। 
তবে হ্যাঁ, যদি বোঝ তুমি সঠিক,
বকি সবকিছু অন্যের দোষে, -
ক্রোধ নয়, ক্ষমা করো তারে; মৌন রও,
বিলীন হও আপনি আপনার মাঝে।

চল উঠে পড়ি অন্তিম ষ্টেশন এসে গেছে।"


 

Wednesday, May 18, 2022

"বোঝো ঠেলা!"

"বোঝো ঠেলা!" 
- পুলক সাঁপুই

নীলাম্বর মুখ কালো করে বসে আছে গাছের নীচে আকাশের দিকে চেয়ে। জামা গেছে ছিঁড়ে, চোখের নিচে কালসিটে দাগ পড়ে। পাসে বসে প্রেমিকা। চুল এলো, মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে নখ কাটে। সূর্য পশ্চিমে ঢলে। পাখিদের কূজন শোনা যায়।

রিমার মন রাখতেই এই অবস্থা। অম্বরিশ বলে কি না শারুখ খান তোতলামি করে! রিমার প্রাণ প্রিয় শারুখ; - তার নামে অবমাননা কি সহ্য করা যায়? তাই এমন তর্ক বিতর্কের সৃষ্টি। শেষে ধাক্কাধাক্কি ঘুশাঘুষিতেই এই অবস্থা।

আর এখন, রিমা বলছে, "এমন অভদ্রের মতো লড়াই কেন করেছো? ব্যাবহার ই নিজের পরিচয়। রাস্তার কুকুর তোমায় দেখে ঘেউ ঘেউ করলে, তোমার ও কি তাদের মতো ঘেউ ঘেউ করলে চলে?

গণমাধ্যমে শারুখ খানের নামে অনেক কিছুই গুজব ছড়ানো হয়। জনগন কুত্‍সা ছড়ায়। তাই বলে, শারুখ খান রেগে যায়? সে তাদের ক্ষমা করে দেয় বা উপেক্ষা করে। তোমার মতো ঝগড়া করে না। তাই সে শারুখ খান আর অমি তোমার হতভাগ্য প্রেমিকা।

যদি দেখো দেয়ালে লেখা বিজ্ঞাপন লাগাবেন না (stick on bill) এর মানে কি?
এর মানে নিজের দেয়ালে নিজেই লিখে অপরকে সাবধান করছো। যে কোনো ব্যক্তি এসে ঐ লেখাটি ঐ দেওয়ালে বারবার লিখলে কেমন লাগে?"

নীলাম্বর মনে ভাবে, "লাও ঠেলা, যায় জন্য চুরি করি, সেই বলে চোর। একটু কোথায় আদর করবে, হাত বুলিয়ে দেবে আঘাতের জায়গায়। তা নয়, সে এখন মনের ক্ষতে লবণ লাগায়। একে কি প্রেম বলে? না হিন্দী ভাষায় চুল ছেঁড়া বলে?


 

Saturday, May 14, 2022

"কিপ্টা স্যাকরা"

#কিপ্টা স্যাকরা
#পুলক_সাঁপুই

সোনার দোকান। লোহার গরাদ, কালো জং পড়া। কংক্রিটের ছাদ, রঙ চটা। টিমটিমে আলো। ছেড়া স্যান্ডো গেঞ্জী, ময়লা লুঙ্গী।
কখনো দেখিনি তার গায়ে আস্ত গেঞ্জী। অনেক ভেবে ও কুলকিনারা পাই না যে, কোথা থেকে এমন ছেড়া গেঞ্জী পায় সে?
পাশেই তার নিজের বাসা। অট্টালিকা। পুরানো ভিটা বাপ দাদার। আত্মীয় স্বজন কখনো দেখিনি তার।
গ্রামের মানুষে বলে কিপ্টা স্যাকরা। 
এক কথায় চেনে আশেপাশের সারা গ্রাম।
শুনছি কিপ্টা স্যাকরার বিয়ে। 
এই নিয়ে সাত নম্বর। টেঁকেনি একটাও আগে। বেশি করে দু তিন বছর টেঁকে আবার পরিবর্তন।
শুনেছি তার সন্তানের প্রয়োজন, তাই এমন আয়োজন।
নেই ভোজ নেই বাজি। নেই শব্দদূষণ। নেই ফুল নেই বাতি। বিয়ে সমাপণ। 
পাড়া-প্রতিবেশী কৌতূহলে কানাকানি উঁকিঝুঁকি সারাক্ষণ। কচি থেকে বুড়ো নারী-পুরুষ উৎসুক কিপ্টা স্যাকরার ঘরের দিকে চেয়ে।
সাত নম্বর বিয়ের পরে কিপ্টা স্যাকরার পরিবর্তন দেখা দেয়। বাসার জানালা কপাট বন্ধ সবসময়। সাজগোজ পরিপাটি টেরিকাটা চুল। জামা লুঙ্গী রঙচঙে ফুল ফুল। সোনার দোকানে বসে প্রতিদিন। নতুন এক কর্মচারী রেখেছে। বয়স পনেরো হবে। দোকানের ও বাসার নানা কাজকর্মে ফাইফরমাস খাটে।
কিপ্টা স্যাকরার বউ খুব সুন্দরী। দ্যাখিনি কেউ তাঁকে। পাড়ার লোকের মুখে মুখে এমন রটনা শোনা যায়।
বাঙালিরা পরচর্চা করে দিন কাটায়, নইলে নাকি হজমের গোলমাল হয়।
কিপ্টা স্যাকরার বউ যখন বাসা থেকে বের হয়। আপাদমস্তক ঢেকে রিক্সায় চড়ে আসে যায়। ঐ চেংড়া কর্মচারী বডিগার্ড হয়ে থাকে চোখে চোখে রাখে সারাক্ষণ।
দিনে দিনে নিন্দুকের চোখ সয়ে যায়। এখন নতুন কথা কানাকানি করে। কিপ্টা স্যাকরা টাকার কুমীর। এতো টাকা করবে কি? নেই কোন সন্তান, নেই কোন আত্মীয়। প্রায় পাঁচটা বছর পেরুল। কিপ্টা স্যাকরার এই বউ বুঝি টিঁকে গেলো। 
নিয়তির কথা কে বলতে পারে?
গ্রামে গ্রামে খবর ছাড়ালো, গুঞ্জন রাস্তা ঘাটে বাজারে মাঠে, কিপ্টা স্যাকরা মরলো হটাৎ করে।
এই প্রকৃতি সময়ের সাথে উত্তরণ ঘটায় প্রাকৃতিক নিয়মে। 
কয়দিন পর দেখি কিপ্টা স্যাকরার ঘর সাদা ও সবুজে সুন্দর রঙ করা হয়েছে। জানালা কপাট খোলা, বাতাস খেলছে।
সোনার দোকানটি নিল সাদা রঙের। বড়ো রঙ্গিন সাইন বোর্ড, লাল নিল সবুজের আলোয় ঝলমল করছে।
পাড়ার লোকজনের ভিড়। সকলে হাসি মুখে নিমন্ত্রণ খেতে আসছে। এক বছরের শিশুর জন্মদিনে। সেই কর্মচারী চেংড়া ছেলেটা এখন বয়স একুশ হবে। শিশুটির বাবা। মায়ের বয়স প্রায় পয়তিরিশ, কিপটা স্যাকরার সুন্দরী বিধবা বউ।

 

Wednesday, May 11, 2022

"কৃষ"

#কৃষ
#পুলক সাঁপুই।

তার নাম পণ্ডিত। তবে, সত্যি পণ্ডিত নয়। তার চা ও নাস্তার দোকান।
প্রায় প্রতিদিন সকালে ও বিকালে চা, সাথে টা ফা ও ধোঁয়া খাই। সেথায় বসে নানা কিছু দেখতে বেশ মজা পাই।
প্রায় দশ বছরের একটি ছেলে। চুলে রং করা স্টাইলে। জিন্স প্যান্ট ও টিশার্ট। হিরো হিরো ভাব। কথা বার্তায় মেজাজে ও অঙ্গ ভঙ্গিতে।
বার বার হাত দিয়ে চুল সেট করে সে।
তার বাবা মার দেওয়া নাম ইকবাল। তবে সে নিজেকে কৃষ বলে পরিচয় দেয়। প্রতিদিন দেখি তাকে।
সে পণ্ডিতের একমাত্র কর্মচারী। তাকে কৃষ বলে ডাকে কম। টেঁড়ি বলে ডাকে বেশি। এখানে টেঁড়ি মানে চেংড়া ছোঁড়া বোঝায়।
টেঁড়ির ডিউটি এখানে সকাল ছ' টা থেকে রাত ন' টা। সাথে ফাউ পায় গালি চড় থাপ্পড় গাঁট্টা ইত্যাদি।
টেঁড়ি মনের আনন্দে কাজ করে যায়। হিন্দী গানে গুনগুনিয়ে সবসময়।
আ শুনায় প্যায়ার কি এক কাহানি, যাদু যাদু, হাইলা হাইলা, কোই মিল গ্যায়া আরো অনেক গানের কলি।
কথায় ফিল্মী ডায়লগ।
তাকে দেখে এক আনন্দ অনুভব করি।

এক সন্ধ্যায় দেখি পণ্ডিত রেগে কাঁই। টেঁড়িকে দেয় গালি সাথে উত্তম-মধ্যম।
কাজের ফাঁকে উড়ে আসা কাটা ঘুড়ি ধরতে যায়। সেই সময় তাড়াহুড়োতে কিছু কাপ ও গ্লাস ভেঙেছে তাই।
বেচারা টেঁড়ি! কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়। বারবার চিৎকার করে বলে - "দেখ্ ল্যুঙ্গা পণ্ডিত, দেখ্ ল্যুঙ্গা, দেখ্ ল্যুঙ্গা...”।

নতুন টেঁড়ি কাজে বহাল হয়। বছর চোদ্দ বয়স হবে।
সময় যায়।
এক বিকালে পণ্ডিতের দোকানে বসে চা খাচ্ছি।
চোখে সানগ্লাস, ফ্লোরোসেন্ট রঙের ফুল কাটা টিশার্ট, সাদা প্যান্ট, কালো বেল্ট, সাদা স্নিকার্স জুতো, মাথায় লাল টুপি উল্টো করে, হাতে লম্বা সিগারেট, মুখে ধোঁয়া, কৃষ আসে। সাথে সাগরেদ এক।
আমার কাছে এসে বলে, "ক্যায়া বশ্ সব ঠিক হ্যায়?"
একটা চেয়ার টেনে বসে, তার পাশের চেয়ারে তার বন্ধুকে বসায়। এই সময় পন্ডিত দৌড়ে আসে চিৎকার করতে করতে
"ভাগ ভাগ ভাগ ইহাশে।"
ঠ্যাঙের উপরে ঠ্যাং তুলে, চেয়ারে হেলান দিয়ে, সিগারেটের শেষ টান দিয়ে অবশিষ্ট অংশ টুসকি মেরে ছুঁড়ে ফ্যালে, একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে পকেট থেকে কিছু পাঁচশো টাকার নোট বের করে দেখিয়ে বলে, - "রোগড়া হ্যায় রোগড়া। ফকোট কা ন্যাহি। দো চা'য়ে মালাই মারকে, দো সিগারেট কিং সাইজ, লে কে আ জলদি। থোড়া জলদি দে, বহুত কাম হ্যায়।"
পন্ডিত হতম্ভ হয়ে দু পা পিছনে যায়।
জোরে হাঁক দেয় - "টেঁড়ি, ইধার দুটো চা'য় দো কিং সাইজ সিগারেট দে কে যা।" ফিরে যায় পণ্ডিত।
আমি উঠে পড়ি। প্রকৃতির পরিবর্তন দেখি।

 

Monday, May 9, 2022

"পাগল ভৈরব" - ১৫

#পাগল_ভৈরব - ১৫
- পুলক সাঁপুই।

উদ্যান। ফুল ফল পাতায় পাতায় ছেয়ে
মানুষে মানুষে আপন খেয়ালে আনন্দে,
নানা বর্ণের নানা জাতি, নানা পোষাক-আশাকে রঙে ঢঙে,
এই সুন্দর উদ্যান আজ থিক থিক ভিড়ে।

সভ্যতার নিদর্শন পাই এখানে
প্লাস্টিক ইত্যাদি কাগজের টুকরো, খেয়ে ফেলা অপচয়,
যা কিছু মানুষের ভোগ বিলাসের উচ্ছিষ্ট;
আবর্জনা ছড়িয়ে রেখেছে অসভ্য আচার আচরণে।

পাগলা ভৈরব।
এক পাতা হীন নিম গাছের মগডালে বসে
জোরে জোরে দোল খায়।
চিৎকার করে বলে; -
"আহ্বান আহ্বান আহ্বান
হে ঈশ্বর,
তুমি হিন্দু না মুসলিম?
তুমি জৈন না ক্রিশ্চান?
তুমি বৌদ্ধ না ইহুদী?
তুমি কোন জাতের? কোন গোত্রের? কি তোমার পরিচয়?
এবার তোমার সত্য পরিচয় দাও -
তুমি ঈশ্বর, তুমি এতো নিকৃষ্ট নও।
তবে কেন তোমার উপাসক হয়ে মানুষ; - স্বভাবে হয় অমানুষ।
হাতে ঝান্ডা নিয়ে,
হাতে ডান্ডা নিয়ে,
বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে,
বাসা ঘর পুড়িয়ে লড়াই করে।
একে অপরের ক্ষতি করে।
তারা ঈশ্বরের কথা বলে,
আত্ম সন্তুষ্টিতে ঈশ্বরের নামে স্বপ্ন দ্যাখে -
মৃত্যুর পরেও সুখে বিলাসে থাকতে। হায়!
তুমি সত্য,
তুমি খেলনা নও,
তুমি ফেলনা নও তাদের কাছে।
তোমাকে সামনে রেখে মানুষ মরনের ফাঁদ পাতে।
মানুষে মানুষে বিভেদের সাথে হিংস্র মনে রক্তের খেলায় মেতে ওঠে।
তারা ইতিহাসে লেখে, যুদ্ধ হয় শান্তি ফেরাতে
তাকে ধর্মযুদ্ধ বলে।
ধিক ঈশ্বর, অধিক ধিক্কার তোমাকে,
তুমি ঈশ্বর নয় শয়তান বটে।
করুণা আমার মানুষের কাছে
তারা বোঝেনি তোমায়, তুমি এমন মহান,
তাই তারা লড়াই করে তোমার নাম নিয়ে।
ঈশ্বর, তুমি এক, বিভিন্ন অথবা শূন্য -
যে আকারেই হও, আমার কি আসে যায়।
আমার ঈশ্বর এই প্রকৃতি, যার মাঝে এই জীবজগৎ।
জগৎ শ্রেষ্ট জীব এই মানুষ,
এদের মস্তিষ্কে তুমি আছো বেঁচে।
নয়তো তুমি শূন্য, ভেবে দেখো নিজে।
আমার ঈশ্বরকে ইবাদত করি -
তারই কোলে লালন পালন হয়ে।

 

Saturday, May 7, 2022

কবিতা

কবিতা
পুলক সাঁপুই।

প্রকৃতির আহ্বানে
মনের মাধুরী দিয়ে
রোপণ করেছি ফুল,
প্রণয় আধারে 
রাখিতে তাহারে সঙ্গোপনে।
বেলা গড়ায়
প্রেম ওড়ে ডানা মেলে
এ ফুলে ও ফুলে সে ফুলে,
নয়ন ভরে দেখি তারে
খুশিতে রংধনু রঙে।


 

Thursday, May 5, 2022

পাগল ভৈরব - ১৪

পাগল ভৈরব - ১৪
পুলক সাঁপুই।

মেলা। কোলাহল, লোক সমাগম
বেচছে কাজল টিপ আলতা লিপস্টিক,
বেচছে সুরমা আতর, বেচছে গামছা চাদর
বেচছে আংটি বালা রঙ্গিন পাথর।
ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাই ফাঁকা জায়গায়
ডাস্টবিনের পাশে দাড়াই,
নিঃশ্বাস নিই বুক ভরে; দুর্গন্ধ সাথে
শান্তি পাই, শান্ত হই নিজের মাঝে।
হটাৎ তাকিয়ে দেখি
মাথায় সাদা জালি টুপি,
কপালে আঁকা সাদা লম্বা তিলক,
হাতে বাঁকারীর সাদা ক্রস,
গায়ে সাদা চাদর, পাগল ভৈরব।
আমি বলি এই শোন
তোর কেন এই অদ্ভুত পোশাকের কারণ!?
পাগল ভৈরব শুরু করে; -
"প্রয়োজনে হিন্দু হতে পারি,
প্রয়োজনে মুসলিম হতে পারি,
প্রয়োজনে ক্রিশ্চান বৌদ্ধ জৈন হতে পারি,
এক ধর্মের অন্ধবিশ্বাস থেকে অপর ধর্মের কুসংস্কারে 
নিজেকে পরিবর্তনে, যেমন -
এক আবর্জনাময় নর্দমা হতে আর এক কদর্য নোংরা ড্রেনে ডুবে?
আমি কি সুবিধাবাদী? প্রয়োজনে ধর্ম পরিবর্তনে?
মানুষ জনম এই পৃথিবীতে মরণ এখানে
তবে কেন কল্পনার ঈশ্বর প্রয়োজন?
মরিচিকার পিছে ছুটে মূর্খতা কেন?
মরুদ্যান এই পৃথিবী। 
ইহার মাঝে লালন পালন।
আপন চর্মচক্ষুতে শুধু নয় 
দেখো অন্তরচক্ষু দিয়ে,
এই ধরণী ঈশ্বর রূপে চেতনায়,
মানবধর্ম পালন করি জনে জনে।



 

Sunday, May 1, 2022

"পথ"

"পথ"
- পুলক সাঁপুই

বহুদূর পথ
ভীষন রোদ্দুর
খরা হাহাকার,
তবু ঘাসফুল হাসে-
কি যে মনে করে!

মেঘ ভেসে আসে
বৃষ্টি ভেজাবে
বর্জ্র রোদন যাবে ধুয়ে,
ঘাসফুল ফুটিবে
বাতাসে দুলিবে
প্রজাপতি উড়িবে ফুলে ফুলে।


 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...