#পাগল_ভৈরব - ১৬
- পুলক সাঁপুই।
ট্রেন চলেছে বজবজ থেকে শিয়ালদা
ভীড় ঠাসা মানুষ, প্রাণ বুঝি যায়।
হকারের হাঁকডাক, চেঁচামেচি চিৎকার
সবকিছু উপেক্ষা করে, ঠেলেঠুলে কোনো মতে
একটি সিট, আহা! বসে প্রাণ পাই।
মুখ মুছে জামা ঝেড়ে চারিপাশে একটু তাকাই।
মনে ভাবি, কেমন করে সহজে বসার জায়গা পাই।
হা হা হা, - বুঝি এই বার,
জানলার ধারে মুখ গুঁজে ঘুমায় সে, -
ছেঁড়া ময়লা পোষাকে চাদর জড়িয়ে।
তার পাশে তাই বসেনি কেউই
হয়তো ভয়ে, নয়তো ঘৃণায়।
যাক, তাতে কি? বসতে পেরেছি যথেষ্ট তাই।
ট্রেন চলে ঝাঁকি দিয়ে -
খট খট ঘড় ঘড় আরও কতো বিকট আওয়াজে
জানলার পাশের মানুষটির ঘুম ভাঙ্গে
নড়ে চড়ে সোজা হয়ে বসে।
আরে! এ যে আমার কাঙ্ক্ষিত পাগল ভৈরব।
ওরে পাগল, - ভাবিনি দেখা পাবো তোরে এখানে।
আহা আমার সৌভাগ্য আজ তোকে কাছে পেয়ে।
বারবার একটা প্রশ্ন মনে এসে বাঁধে।
এইবেলা বল
ক্রোধের উৎপত্তি কোথা হতে?
আর, এর থেকে নিষ্পত্তি পাবো কেমনে?
ভৈরব শুরু করে, -
"মোহেতে চাহিদা মেটাতে লালসা,
লালসা চরিতার্থ করতে স্বার্থ,
স্বার্থ পূরণ মানেই আত্মসন্তুষ্টি,
আত্মসন্তুষ্টি অহং সম।
অহং পরিতৃপ্ত না হলেই ক্রোধের উৎপত্তি।
হা হা হা
ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের উপায় বড়ই সোজা,
আত্মার সাথে কও কথা -
আপন হীনতার সাথে পরিচিত হয়ে
আলিঙ্গন করো তারে।
ক্রোধ হইবে খান্ত জলজ্যান্ত,
শীতল হইবে অনুভবে।
তবে হ্যাঁ, যদি বোঝ তুমি সঠিক,
বকি সবকিছু অন্যের দোষে, -
ক্রোধ নয়, ক্ষমা করো তারে; মৌন রও,
বিলীন হও আপনি আপনার মাঝে।
চল উঠে পড়ি অন্তিম ষ্টেশন এসে গেছে।"

No comments:
Post a Comment