পাগল ভৈরব - ১৪
পুলক সাঁপুই।
মেলা। কোলাহল, লোক সমাগম
বেচছে কাজল টিপ আলতা লিপস্টিক,
বেচছে সুরমা আতর, বেচছে গামছা চাদর
বেচছে আংটি বালা রঙ্গিন পাথর।
ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাই ফাঁকা জায়গায়
ডাস্টবিনের পাশে দাড়াই,
নিঃশ্বাস নিই বুক ভরে; দুর্গন্ধ সাথে
শান্তি পাই, শান্ত হই নিজের মাঝে।
হটাৎ তাকিয়ে দেখি
মাথায় সাদা জালি টুপি,
কপালে আঁকা সাদা লম্বা তিলক,
হাতে বাঁকারীর সাদা ক্রস,
গায়ে সাদা চাদর, পাগল ভৈরব।
আমি বলি এই শোন
তোর কেন এই অদ্ভুত পোশাকের কারণ!?
পাগল ভৈরব শুরু করে; -
"প্রয়োজনে হিন্দু হতে পারি,
প্রয়োজনে মুসলিম হতে পারি,
প্রয়োজনে ক্রিশ্চান বৌদ্ধ জৈন হতে পারি,
এক ধর্মের অন্ধবিশ্বাস থেকে অপর ধর্মের কুসংস্কারে
নিজেকে পরিবর্তনে, যেমন -
এক আবর্জনাময় নর্দমা হতে আর এক কদর্য নোংরা ড্রেনে ডুবে?
আমি কি সুবিধাবাদী? প্রয়োজনে ধর্ম পরিবর্তনে?
মানুষ জনম এই পৃথিবীতে মরণ এখানে
তবে কেন কল্পনার ঈশ্বর প্রয়োজন?
মরিচিকার পিছে ছুটে মূর্খতা কেন?
মরুদ্যান এই পৃথিবী।
ইহার মাঝে লালন পালন।
আপন চর্মচক্ষুতে শুধু নয়
দেখো অন্তরচক্ষু দিয়ে,
এই ধরণী ঈশ্বর রূপে চেতনায়,
মানবধর্ম পালন করি জনে জনে।

No comments:
Post a Comment