#পাগল_ভৈরব - ১৮
"ছোটোগল্প"
#পুলক_সাঁপুই।
জেলে পাড়ার ঘাট। সারি সারি নৌকা বাঁধা। তার একটিতে পাগলা ভৈরব বসে পা দোলায় জলে। আনমনে কি যেন ভাবে!
এমন সময় একদল ছোটো ছোটো ছেলে মেয়ে ভীড় করে নদীর পাড়ে। কিচিরমিচির আওয়াজ করে।
ভৈরবকে দেখে তারা এগিয়ে আসে। কেউ বলে, পাগলা আমাদের গল্প শোনা। কেউ বলে, ঈশ্বর কি সত্যিই আছে? কেউ বলে, হাতির গল্প শুনবো।
পাগল ভৈরব বলে, - তোরা 'অন্ধের হস্তী দর্শন' গল্প শুনেছিস আগে কখনও? আমি বলবো সেই গল্প আবার।
এক দেশ ছিল। সেখানে সকল প্রজারা ছিল অন্ধ।
(বিঃ দ্রঃ: যারা দেখতে পেত, তারা সকলে চোখে পট্টি বেঁধে অন্ধ হয়ে থাকতো।)
একদিন প্রজারা রাজার কাছে আর্জি করলো, তারা 'হাতি' কেমন তা জানতে ও বুঝতে চায়।
রাজার হাতিশালায় হাতি আছে। তবে, সেখানে সমস্ত প্রজাদের নিয়ে যাওয়া অসুবিধা। তাই, প্রজাদের মধ্যে বুদ্ধিমান পাঁচ প্রতিনিধিকে হাতিশালে নিয়ে আসা হবে। এবং তারা বাকি সমস্ত প্রজাদের আলাদা আলাদা ভাবে হাতির বিবরণ জানাবে।
পাঁচ অন্ধকে হাতিশালে নিয়ে যাওয়া হলো।
প্রথমজন হাতির আকার আকৃতি বোঝার চেষ্টা করলো, পা স্পর্শ করেই বুঝলো হাতি স্তম্ভ বা পিলারের মতো।
অন্য জন হাতির কান স্পর্শ করে বুঝলো হাতি কুলোর মতো।
আরেক জন হাতির লেজ ধরে বুঝলো দড়ি বা কাছির মতো।
পরের জন শুড় ধরে বুঝলো হাতি মোটা চোঙা বা পাইপের মতো।
শেষ জন হাতির শরীরে হাত দিয়ে বুঝলো এক প্রকাণ্ড দেওয়াল বা প্রাচীরের মতো।
এই পাঁচ জন প্রতিনিধি রাজ্য জুড়ে হাতির সমন্ধে বোঝাতে লাগলো সমস্ত প্রজাদের আলাদা আলাদা হয়ে।
এবার তোমরা বলো, এই পাঁচ জন প্রতিনিধি কি সঠিক প্রচার করেছে?
তোমারা অবশ্যই বলবে, 'না'।
আমি বলবো হ্যাঁ সঠিক ছিল, তবে...
তারা কেউই হাতির বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে উঠতে পারে নি।
তাই তারা ঐ ভুল তথ্য গুলিকে সঠিক মনে ভেবে প্রচার করেছে। আদতে তা মিথ্যা।
বিভিন্ন ধর্মের গবেষকরা এমনই অন্ধের হাতি দর্শন করে নিরীহ মানুষদের কাছে ঈশ্বরের নামে ধর্ম প্রচার করে, তাদের ধর্মের রীতি নীতি, আদব কায়দা, নিয়ম কানুন শেখায়। ভুল পথ দেখায়।
একে অপরের ধর্মের প্রতি হিংসা, ঘৃনা ছড়ায়। মারপিট, লড়াই দাঙ্গা, হানাহানি করে। তারা মানুষ হয়ে মানবধর্মের থোড়াই কেয়ার করে!?
আমার ঈশ্বর এই পৃথিবী। প্রকৃতির প্রেমে আমার জন্ম। প্রকৃতির কোলে মানুষ হয়ে বেঁচে আছি। মানুষ হয়ে মানবধর্ম পালন করি। মৃত্যুর পরে প্রকৃতির সাথে মিশে যাবো। তাই আমার ঈশ্বর প্রকৃতি।

No comments:
Post a Comment