#কিপ্টা স্যাকরা
#পুলক_সাঁপুই
সোনার দোকান। লোহার গরাদ, কালো জং পড়া। কংক্রিটের ছাদ, রঙ চটা। টিমটিমে আলো। ছেড়া স্যান্ডো গেঞ্জী, ময়লা লুঙ্গী।
কখনো দেখিনি তার গায়ে আস্ত গেঞ্জী। অনেক ভেবে ও কুলকিনারা পাই না যে, কোথা থেকে এমন ছেড়া গেঞ্জী পায় সে?
পাশেই তার নিজের বাসা। অট্টালিকা। পুরানো ভিটা বাপ দাদার। আত্মীয় স্বজন কখনো দেখিনি তার।
গ্রামের মানুষে বলে কিপ্টা স্যাকরা।
এক কথায় চেনে আশেপাশের সারা গ্রাম।
শুনছি কিপ্টা স্যাকরার বিয়ে।
এই নিয়ে সাত নম্বর। টেঁকেনি একটাও আগে। বেশি করে দু তিন বছর টেঁকে আবার পরিবর্তন।
শুনেছি তার সন্তানের প্রয়োজন, তাই এমন আয়োজন।
নেই ভোজ নেই বাজি। নেই শব্দদূষণ। নেই ফুল নেই বাতি। বিয়ে সমাপণ।
পাড়া-প্রতিবেশী কৌতূহলে কানাকানি উঁকিঝুঁকি সারাক্ষণ। কচি থেকে বুড়ো নারী-পুরুষ উৎসুক কিপ্টা স্যাকরার ঘরের দিকে চেয়ে।
সাত নম্বর বিয়ের পরে কিপ্টা স্যাকরার পরিবর্তন দেখা দেয়। বাসার জানালা কপাট বন্ধ সবসময়। সাজগোজ পরিপাটি টেরিকাটা চুল। জামা লুঙ্গী রঙচঙে ফুল ফুল। সোনার দোকানে বসে প্রতিদিন। নতুন এক কর্মচারী রেখেছে। বয়স পনেরো হবে। দোকানের ও বাসার নানা কাজকর্মে ফাইফরমাস খাটে।
কিপ্টা স্যাকরার বউ খুব সুন্দরী। দ্যাখিনি কেউ তাঁকে। পাড়ার লোকের মুখে মুখে এমন রটনা শোনা যায়।
বাঙালিরা পরচর্চা করে দিন কাটায়, নইলে নাকি হজমের গোলমাল হয়।
কিপ্টা স্যাকরার বউ যখন বাসা থেকে বের হয়। আপাদমস্তক ঢেকে রিক্সায় চড়ে আসে যায়। ঐ চেংড়া কর্মচারী বডিগার্ড হয়ে থাকে চোখে চোখে রাখে সারাক্ষণ।
দিনে দিনে নিন্দুকের চোখ সয়ে যায়। এখন নতুন কথা কানাকানি করে। কিপ্টা স্যাকরা টাকার কুমীর। এতো টাকা করবে কি? নেই কোন সন্তান, নেই কোন আত্মীয়। প্রায় পাঁচটা বছর পেরুল। কিপ্টা স্যাকরার এই বউ বুঝি টিঁকে গেলো।
নিয়তির কথা কে বলতে পারে?
গ্রামে গ্রামে খবর ছাড়ালো, গুঞ্জন রাস্তা ঘাটে বাজারে মাঠে, কিপ্টা স্যাকরা মরলো হটাৎ করে।
এই প্রকৃতি সময়ের সাথে উত্তরণ ঘটায় প্রাকৃতিক নিয়মে।
কয়দিন পর দেখি কিপ্টা স্যাকরার ঘর সাদা ও সবুজে সুন্দর রঙ করা হয়েছে। জানালা কপাট খোলা, বাতাস খেলছে।
সোনার দোকানটি নিল সাদা রঙের। বড়ো রঙ্গিন সাইন বোর্ড, লাল নিল সবুজের আলোয় ঝলমল করছে।
পাড়ার লোকজনের ভিড়। সকলে হাসি মুখে নিমন্ত্রণ খেতে আসছে। এক বছরের শিশুর জন্মদিনে। সেই কর্মচারী চেংড়া ছেলেটা এখন বয়স একুশ হবে। শিশুটির বাবা। মায়ের বয়স প্রায় পয়তিরিশ, কিপটা স্যাকরার সুন্দরী বিধবা বউ।
No comments:
Post a Comment