Friday, July 29, 2022

পাগল ভৈরব - ২২

পাগল ভৈরব - ২২
- পুলক সাঁপুই।

পাগল ভৈরব গোরস্থানে -
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের কবরের পাশে ঘুমিয়ে,
হটাৎ ঘুম ভাঙে, চেয়ে দেখে এক রমণী 
রজনীগন্ধার তোড়া নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে।
রমণী জানতে চায় সম্পর্ক কি ও তার ব্যাখ্যা,
পাগল চোখ বুজে, ঘাড় নেড়ে, গোঁফে হাত বোলাতে বোলাতে বলে -
"সম্পর্ক, - বেঁচে থাকা ও বাঁচিয়ে রাখার পরিপূরক,
একে অপরকে সসম্মানে প্রতিষ্টা করার অঙ্গীকার।
একত্রে বসবাস করলেই সঠিক সম্পর্ক বলে না।

সম্পর্ক - আকাশের মতো বিশাল, একে অপরের মনের ঘরে ছন্দে মেলে। 
সমুদ্রের মতো উত্তাল, একে অপরকে উদ্যমী করে।
বাতাসের মতো বহমান, একে অপরে মিলেমিশে একাকার।
তুষারের মতো প্রাঞ্জল, একে অপরকে ধারণ করে।
আগুনের মতো শক্তিধর, এক সাথে মিলে সৃজনশীল পথে এগিয়ে চলে।

আবার এমন ও হতে পারে, সম্পর্ক - 
আকাশে মতো বর্ণধারী সময়ের সাথে।
সমুদ্রের মতো ভয়ঙ্কর, প্রলয় এনে।
বাতাসের মতো বীভৎস, ঘূর্ণিঝড়ে।
তুষারের মতো হিম শীতল, যেথায় মৃত সতেজ রাখে।
আগুনে মতো, পুড়িয়ে ফেলে ভস্ম করে।"




 

Saturday, July 23, 2022

"পাগাল ভৈরব -২১"

পাগল ভৈরব - ২১
- পুলক সাঁপুই।

আকাশ বুঝি ভেঙে পড়ে মেঘলায়
ভিজে অন্ধকার, জল থৈ থৈ রাস্তাঘাট,
নিস্তব্ধ চারিধার, এক জীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়াই
দেখি, পাগল ভৈরব মাচায় বসে পা দোলায়
বিড়ি খায় আকাশ পানে চেয়ে।
আমি বলি; - ভৈরব! কোথায় থাকিস?
অনেক দিন দেখা পাইনা তোর;
পেলাম তোকে, একটা গল্প শোনা তবে,
ভৈরব শুরু করে; -
এই সমাজে সকলে দেখি কানা হয়ে ঘুরে বেড়ায়
একে অপরকে অন্ধ মনে করে,
তেমনই এক গল্প বলি তোকে।
এক লোভী ধার্মিক ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে
একটি বর পেয়ে ধনী হয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে।
ঈশ্বর বুদ্ধি করে বলে, তোর কৃপা অবশ্যই পুরন হবে,
তবে তুই যা চাইবি; তোর প্রতিবেশীর তাহা দ্বিগুণ বড়িবে।
লোভী ধার্মিক অনেক ভেবে প্রার্থনা করে; -
আমার এক চোখ কানা করে দাও হে ঈশ্বর।
"তাই হবে" - বলে ঈশ্বর প্রস্থান করে।
ধার্মিক মানুষ এমনই,
যে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করে।
ঈশ্বর!? সে তো অলীক মায়াময়, থাকে ধর্মগৃহে পঙ্গু হয়ে।
দারিদ্র মানুষ বাঁচার প্রয়াসে ঘাম ঝরায়
ধনী ব্যক্তি ভিখারী উৎপন্ন করে,
ভিক্ষা দিয়ে স্বর্গে যাবার সাওয়াব চায়।
ওরে দ্যাখ; দ্যাখরে চেয়ে তোর ঐ দু চোখে
ঐ ঈশ্বর একচোখো বটে, অন্ধও ধর্মের আঁধারে।

 

Tuesday, July 5, 2022

"এই সময়"
- পুলক সাঁপুই।

আমি বিভোর মন তত্ত্বে তোমাকে সাথে নিয়ে
তখন তুমি কর্তার আলিঙ্গনে কামনায় আত্মহারা; -
পূর্ণতা পেতে আপনারে করে সমাপন।

নিশি রাতে তারা খসা দেখে হাসি পায়,
বুঝি; নাস্তিকের প্রেমিকা ঈশ্বরের কৃপা পায়, 
প্রতি রজনীতে রজনীগন্ধা সুবাস ছড়ায়।

খেলা ঘরের খেলা; চোখে চোখে নয় ইশারা
রইবে না আর তোমার অনিচ্ছা সেথায়
অথবা ভিন্ন কোনো না বলার বাহানা।

সময় বয়ে যায় প্রচ্ছন্নতার মাঝে 
রূপান্তর ঘটে চলেছে মানসিক চাঞ্চল্যে, 
যেমন; বাস্তবতার মুখোমুখি কল্পনায় ঈশ্বর এক সাথে জোট বেঁধে।


 

Monday, June 20, 2022

"পাগল ভৈরব" - ২০

"পাগল ভৈরব"-২০
#পুলক_সাঁপুই।

পাগল হেঁটে চলেছে -
নদী জঙ্গল মাঠ ঘাট ঝোপঝাড় পেরিয়ে,
লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে হতে,
হাজার হাজার মানুষের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে,
শত শত মানুষের প্রশ্নে উদাসীন হয়ে -
অন্যের সংস্পর্শে নয়, নিজের প্রশ্নের সাথে নিজের জবাবে। 
পটভূমি খোঁজে মানুষদের দেখে; -  
মানুষ কি যন্ত্র চালিত? অথবা অশরীরীর আজ্ঞাবহ?
সুখের তাড়নায় আদিম ভাবনায় অধুনিক উপকরণে অন্ধ মননে পথ চলেছে।
এরা ফুলের মধু খায়। কুঁড়ি ছিঁড়ে ফুলদানি সাজায়। পাতা কেটে ঠোঙা বানায়। ডাল কেটে ডান্ডা বানায়। কান্ড থেকে পালঙ্ক করে। শিকড় উপড়ে অট্টালিকার ভিত গড়ে।
নিজের সুখ পরখ করতে পড়শীর জীবন যাত্রার সাথে সাদৃশ্য খোঁজে।
আর নিজের সুখ পেতে অন্যের দুঃখের সহমর্মীর ভান করে উপদেশ দেয়।
পরশ্রীকাতর হয়ে অদৃষ্টের দোষ দেয়।
স্রষ্টার নামে জীবনকে উৎসর্গ করে, আর -
অর্থের লোভে ঈশ্বরের পার্থনা করে।
মানুষ জনমের মূল্য না বুঝে
জাত-পাত গোত্র-ধর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
গ্রাম, নগর, শহর কোলাহল কল্লোল -
পাগল ভৈরবের হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে।


 

Tuesday, June 14, 2022

"সোনার পাথর বাটি"

"সোনার পাথর বাটি"
- পুলক সাঁপুই।

এক অন্ধ মেয়ে
ভিক্ষা করে পথের ধারে,
প্রতিদিন একটি ছেলে ভিক্ষা দেয়,
একদিন ছেলেটি বোঝে মেয়েটি অন্ধ নয়।
তাই, ছেলেটিও না বোঝার ভান করে অন্ধ মেয়েটির কাছে।
মেয়েটি অন্ধত্ব অভিনয় ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করে ছেলেটির কাছে।
ছেলেটিও মাঝে মাঝে পরীক্ষা নেয়; - মেয়েটি অন্ধ কি না তার পরীক্ষা করে।
মেয়েটি আরো বেশি সাবধান হয়ে অন্ধের অভিনয় করে যায়। 
মেয়েটি ছেলেটিকে ঠাকানোর আনন্দ ও আত্মগ্লানি দুটি একই ভাবে পোষণ করে।
 ছেলেটির না বোঝার অভিনয় ও মেয়েটির অন্ধত্বের অভিনয় দুটোই ভালো চলছিল।
একদিন, মেয়েটি বুঝতে পারলো যে ছেলেটিও বুঝেছে মেয়েটি অন্ধ নয়, তবু ও মেয়েটিকে অন্ধ মনে করে ভিক্ষা দেয়।
মেয়েটি বাধ্য হয়ে ছেলেটিকে প্রশ্ন করে - সে জেনেও কেন এমন না জানার ভান করে থাকে।
ছেলেটি মেয়েটিকে বলে - সোনার পাথর বাটিতে ভিক্ষা দিই ভালোবেসে।




 

"পাগল ভৈরব - ১৯"

পাগল ভৈরব - ১৯
- পুলক_সাঁপুই।

রুক্ষ শুষ্ক আবহাওয়া, ধুলো ওড়ে দমকা বাতাসে
বিস্তীর্ণ ধূ ধূ মাঠ, ঝোপঝাড় বাবুলের কাঁটা বন।
কোথাও সবুজ ক্ষেত, তামাক পাতার চাষ।
কালো মাটির দেশ, জল বিহীন জলাশয়।
দুর্গন্ধ বাতাসে, দুটি মানুষ বসে পাহাড় সমান ভাগাড়ের পাশে।
এক শিশু, প্রায় বয়স বারো,
কেঁদে কেঁদে কথা বলে পাগলের সাথে; -
 এক পোষা কুকুর মরেছে কিছুদিন আগে
সেই শোকে প্রতিদিন সময় কাটায় নিরবে,
চিল, শকুন, কাক, কুকুর খুবলে খায় মৃতদেহটি।
স্মৃতির পাতায় নিজেকে ভাসায় বেদনার বিহ্বললে।
ভৈরব এবার বলে; -
ঐ যে দূরে, ক্যানাল পাড়ে, 
মাঝে মাঝে আশ্রয় নিই দিনে রাতে,
কখনো ছিটিয়ে ছিলাম কিছু উচ্ছের দানা,
জল বাতাস আলোয় অঙ্কুরোদগম হয়; -
সবুজে হলুদে বাহারে ফল ফুল পাতায় সাজে।
একদিন দেখি ফড়িঙের দল আসে 
উচ্ছে খায়, করে বসবাস।
পাশের লেবু গাছে বুলবুলি পাখির বাসা,
কিচিমিচি আওয়াজে চোখে পড়ে,
বুলবুলি ঐ ফড়িং ধরে খাওয়ায় ছানাদের টুকরো টুকরো করে।
এক জীবনের প্রয়োজন অন্য জীবের মরণ।
ছোটো ছোটো পাখিছানা উড়তে শেখে এক ডাল হতে আর এক ডালে।
এক ছানা যায় পড়ে
মুহূর্তেই বিড়ালের মুখে, অপেক্ষায় ছিল বুঝি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে।
হায়! সময় যায় এমনই...
একদিন দেখি এক কুকুর থাবা বসায় বিড়ালটির ঘাড়ে, 
বিষাদময়!
কয়দিন আগে এলাকার প্রচুর কুকুর নিয়ে গেছে ধরে,
সরকারী গাড়ি এসে, সেই কুকুরটি ও ধরা পড়েছে সাথে।
শুনেছি, তাদের ছেড়ে দেয়া হবে জঙ্গলে চিতা বা সিংহের খাদ্য হিসাবে।
এই ঘটনা গুলির প্রতিটা পদেই আছে দুঃখ, আছে নৃশংসতা, আছে বেঁচে থাকার লড়াই।
উচ্ছে, ফড়িং, বুলবুলি, বিড়াল, কুকুর একে একে হারাই।
বিজ্ঞান বলে খাদ্য শৃঙ্খল, বস্তু তন্ত্রের পরিভাষা।
তাদের অস্তিত্ব আমার হৃদয়ে লালন করি,
প্রকৃতি জানান দেয়।
ভালোবাসার পরিমাপ বিষয়ের চাহিদার,
সেই ভালোবাসার বিয়োগ বেদনার প্রতিফলন।
সময়ের আপেক্ষিকতা ম্লান হয় স্মৃতির অতল।
আবেগের ধারা নির্লিপ্ত থেকে -
জীবনধারায় পথ চলো সময়ের সাথে।



 

Friday, June 10, 2022

"প্রেমিকের প্রতি প্রাপ্তি স্বীকার"

"প্রেমিকের প্রতি প্রাপ্তি স্বীকার"
পুলক সাঁপুই।

তোমার থেকে আড়াল হতে জনসমুদ্রে ভাসি
মানুষের আড়াল হতে সমুদ্র তটে তোমার সাথে হাঁটি,
নিজের আড়াল নিজে সাথে, কল্প জগতে থাকি,
এমন খেলায় আমি রাজা, আমিই প্রজা সাজি।
তোমায় আমি সাক্ষী রাখি, তোমায় দিয়ে ফাঁকি।
তোমার অভিপ্রায়ে ধরা দেবো না, তোমাকে অন্তরে ধরি।
তোমার হতবিহবলে আমার কল্লোল
তোমাতেই আমি আছি।
তোমায় দমিয়ে আমি জয়ী হই, তুমি ছাড়া সফলতা হারাই।
তুমি ভাবনা, তুমি যাতনা, তুমিই আমার রবি।
কামনার কামিনী হয়ে সুগন্ধ দিতে চাই,
সন্ধ্যার আলোকে তোমাতে আমি।
তুমি জ্ঞান, তুমি বিজ্ঞান, তোমার সাথে রচনা গড়ি।




 

Monday, May 30, 2022

পাগল_ভৈরব - ১৮

#পাগল_ভৈরব - ১৮
"ছোটোগল্প"
#পুলক_সাঁপুই।

জেলে পাড়ার ঘাট। সারি সারি নৌকা বাঁধা। তার একটিতে পাগলা ভৈরব বসে পা দোলায় জলে। আনমনে কি যেন ভাবে!
এমন সময় একদল ছোটো ছোটো ছেলে মেয়ে ভীড় করে নদীর পাড়ে। কিচিরমিচির আওয়াজ করে।
ভৈরবকে দেখে তারা এগিয়ে আসে। কেউ বলে, পাগলা আমাদের গল্প শোনা। কেউ বলে, ঈশ্বর কি সত্যিই আছে? কেউ বলে, হাতির গল্প শুনবো।

পাগল ভৈরব বলে, - তোরা 'অন্ধের হস্তী দর্শন' গল্প শুনেছিস আগে কখনও? আমি বলবো সেই গল্প আবার। 
এক দেশ ছিল। সেখানে সকল প্রজারা ছিল অন্ধ। 
(বিঃ দ্রঃ: যারা দেখতে পেত, তারা সকলে চোখে পট্টি বেঁধে অন্ধ হয়ে থাকতো।)
একদিন প্রজারা রাজার কাছে আর্জি করলো, তারা 'হাতি' কেমন তা জানতে ও বুঝতে চায়।
রাজার হাতিশালায় হাতি আছে। তবে, সেখানে সমস্ত প্রজাদের নিয়ে যাওয়া অসুবিধা। তাই, প্রজাদের মধ্যে বুদ্ধিমান পাঁচ প্রতিনিধিকে হাতিশালে নিয়ে আসা হবে। এবং তারা বাকি সমস্ত প্রজাদের আলাদা আলাদা ভাবে হাতির বিবরণ জানাবে।
পাঁচ অন্ধকে হাতিশালে নিয়ে যাওয়া হলো।
প্রথমজন হাতির আকার আকৃতি বোঝার চেষ্টা করলো, পা স্পর্শ করেই বুঝলো হাতি স্তম্ভ বা পিলারের মতো।
অন্য জন হাতির কান স্পর্শ করে বুঝলো হাতি কুলোর মতো।
আরেক জন হাতির লেজ ধরে বুঝলো দড়ি বা কাছির মতো। 
পরের জন শুড় ধরে বুঝলো হাতি মোটা চোঙা বা পাইপের মতো।
শেষ জন হাতির শরীরে হাত দিয়ে বুঝলো এক প্রকাণ্ড দেওয়াল বা প্রাচীরের মতো।
এই পাঁচ জন প্রতিনিধি রাজ্য জুড়ে হাতির সমন্ধে বোঝাতে লাগলো সমস্ত প্রজাদের আলাদা আলাদা হয়ে।
এবার তোমরা বলো, এই পাঁচ জন প্রতিনিধি কি সঠিক প্রচার করেছে?
তোমারা অবশ্যই বলবে, 'না'।
আমি বলবো হ্যাঁ সঠিক ছিল, তবে...
তারা কেউই হাতির বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে উঠতে পারে নি।
তাই তারা ঐ ভুল তথ্য গুলিকে সঠিক মনে ভেবে প্রচার করেছে। আদতে তা মিথ্যা।

বিভিন্ন ধর্মের গবেষকরা এমনই অন্ধের হাতি দর্শন করে নিরীহ মানুষদের কাছে ঈশ্বরের নামে ধর্ম প্রচার করে, তাদের ধর্মের রীতি নীতি, আদব কায়দা, নিয়ম কানুন শেখায়। ভুল পথ দেখায়।
একে অপরের ধর্মের প্রতি হিংসা, ঘৃনা ছড়ায়। মারপিট, লড়াই দাঙ্গা, হানাহানি করে। তারা মানুষ হয়ে মানবধর্মের থোড়াই কেয়ার করে!?

আমার ঈশ্বর এই পৃথিবী। প্রকৃতির প্রেমে আমার জন্ম। প্রকৃতির কোলে মানুষ হয়ে বেঁচে আছি। মানুষ হয়ে মানবধর্ম পালন করি। মৃত্যুর পরে প্রকৃতির সাথে মিশে যাবো। তাই আমার ঈশ্বর প্রকৃতি।

 


 

Wednesday, May 25, 2022

"পাগল ভৈরব"

#ছোটোগল্প
"পাগল ভৈরব"
#পুলক_সাঁপুই।

সামসুখ ভাই। সকলেই এই নামে চেনে। পাঁচ বছর এই গ্রামে এসেছে। এই গ্রামে এক জমিদার বাড়ি আছে বিশাল পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। সামসুখ বাড়িটি কিনেছেন। তিনি আগে বিদেশে থাকতেন।
সামসুখ ভাই আসার পর থেকে এই গ্রামে অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি সরকারকে প্রয়োজনে চিঠি লেখেন গ্রামের উন্নতির জন্য। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রাস্তা ঘাট, জল, আলো ইত্যাদির সুব্যবস্থা হয়েছে ওনার চেষ্টায়।
গ্রামের প্রতিটা মানুষ সামসুখ ভাইকে খুব মান্যি করে চলে।
সামসুখ ভাইয়ের আসল নাম কেউ জানে না। 
ক্রিশ্চানরা বলে Sam Wood. মুসলিমরা বলে সামসুদ্দিন। হিন্দুরা বলে শ্যামসুন্দর।
প্রতিটা ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষ ভাবে।

মানবধর্ম হারিয়ে বিধর্মীরা ধর্মের পরিচয় চায়। নামে কি আসে যায়? কর্মই আসল পরিচয়।

এক সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি।
এ সময়ে সামসুখ ভাই আমাকে দেখে কাছে ডাকলেন।
তিনি পাঁচ বছরে পাঁচবার সাদা চুনকাম করেছেন পাঁচিলে। কিন্তু পরিচ্ছন্ন দেওয়াল বেশীদিন রাখতে পারছেন না। কেউ না কেউ কিছু না কিছু লিখে বা সাঁটিয়ে দিয়ে যায় নানা বিজ্ঞাপন ইত্যাদি। তিনি পাঁচিলে বড়ো বড়ো করে লিখছিলেন "বিজ্ঞাপন লাগাবেন না"। কে কার কথা শোনে? 
যে কে সেই। 

শত্রু বলে কেউই নাই সামসুখ ভাইয়ের। 
তবুও, এমন কেন মানুষে করে? 
কিছু জায়গায় দেওয়ালে অলিখিত মূত্রখানাও বানিয়ে দিয়েছে এই সকল রাস্তা চলাচলের পথের মানুষে।

সামসুখ ভাই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় কি হতে পারে আমার কাছ থেকে বুদ্ধি চাইলে।
আমি পড়ি মুশকিলে। আমার সাথে বুদ্ধির সম্পর্ক? ভাবি নাই আগে কখনও। নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
তবে মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। পাগলা ভৈরব এর কাছে এর উপায় অবশ্যই আছে।
সামসুখ ভাই ভৈরবের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। 
আমি বলি, - সে সমাজের কাছে পাগল। আমার কাছে মহামানব, মুশকিল আসান। সে ভবঘুরে।
প্রয়োজনে তার কাছেই যেতে হবে। 
অনেক খুঁজে খুঁজে শেষে; - তিন মাইল জঙ্গলের ভিতর, তাল দিঘির পাশে, বড় তেঁতুল গাছ, ঠিক তার পাশে চালতা গাছের নিচে চ্যাটাই পেতে পাগল ভৈরব পেঁচা ও বিড়ালের সাথে খেলা করে।
এখানে আমার গা ছমছম করে। সামসুখ ভাই ভ্যাবাচ্যাকা খায় এইসব দেখে।

এই জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অনুভূতির কথা ভৈরব কে শোনাতে যাই। ভৈরব বলে, ভণিতা রাখ, সোজাসুজি আসল কথায় আয়।
 সামসুখ ভাই ও ভৈরবের অনেক কথা হয়।
সামসুখ ভাইয়ের কাছ থেকে কাগজ কলম চেয়ে অনেক কিছু খসখস করে লিখে দিল। স্বর্ণোজ্জ্বলের মতো সুন্দর তার হাতের লেখা ও আঁকিবুকি।
  স্থাপত্যরীতি সংক্রান্ত (Architectural) আঁকা ও বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ ও ফুলের নাম ও তাদের বৈজ্ঞানিক নাম অনর্গল লিখে দিলো। 
আরো লিখলো ও এঁকে দিলো - শিশু কিশোরদের বিভিন্ন ধরণের খেলা ও কসরত করার মজার মজার কলাকৌশলের উপকরণ।
সাইকেল চালানোর রাস্তা।
মানুষের হেঁটে চলার ফুটপাত।
সমস্তকিছুই হবে ঐ পাঁচিলের পাসে পাশে।
শুধুমাত্র তা নয়, কতো খরচ হতে পারে, তার ও আনুমানিক মূল্য (Estimate) লিখে দিলো।

আমি জলের তরঙ্গ দেখি বাতাসের সাথে তাল-পুকুরে। পদ্ম ফুল ও শালুক ফুলের উপরে ঘাস ফড়িঙের খেলা দেখি।

বেশ কিছুদিন যায়। জমিদার বাড়ির পাঁচিলের ভাঙ্গা গড়া চলে। একদিন সামসুখ ভাই এর সাথে দেখা। আমি বলি খবর কি? সে বলে, - পাগল ভৈরবের কাছে প্রায়ই যেতে হয় নানান সলাপরামর্শ করতে। মানুষটার দর্শনশক্তি আছে বটে, তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছি।

সে চৌরাস্তার ফুটপাতে কখনো রাজার হাটের পীর তলায় অথবা বাউল গ্রামের বট তলায় কিংবা ফিরিঙ্গী সাহেবের লঞ্চ ঘাটে কোথায় কখন থাকে। তাকে খুঁজে পাওয়া বড়ই কষ্টের।
তাই পাঁচিল তৈরীর কাজ ও ধীর গতিতে এগোয়। 

প্রায় বছর গড়ায়। আমি আবার এই গ্রামে। প্রথমেই ছুটি জমিদার বাড়ির পাঁচিল দেখতে। ঘুরে ঘুরে দেখি চারিধার। পাঁচিল দেখে অবাক হই। মানুষের জন্য টয়লেট ও পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত বানিয়েছেন। ধবধবে সাদা পাথরের। স্ত্রী ও পুরুষের জন্য। কোথাও কোথাও বসার জায়গা। বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরণের খেলার ব্যবস্থা আছে। পাঁচিলের সাথে নানা ধরনের গাছের ও ফুলের বাহার।
নানান ধরণের বর্ণময় ছবি আঁকা মহাপুরুষের ও উক্তি লেখা সুন্দর ক্যালিগ্রাফিতে।

এসব দেখে অনেক কিছু জানতে পারি। যেমন, বাসক পাতা কে জাস্টিসিয়া (Justicia) নিমকে অ্যাজাডিরিক্টা ইন্ডিকা (Azadirachta Indica), কুলেখাড়া শাককে হাইগ্রফিলা ওরিকুলাটা (Hygrophila auriculata), কালমেঘ ও চিরতা একই গাছ। ইমনই অশ্বগন্ধা, আমলকি ইত্যাদি ইত্যাদি ছবি আঁকা ও বড় বড় করে লেখা আছে যা আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ব্যবহার ও গুনাগুন। 
পাঁচিলের সাথে সাথে নতুন নতুন গাছ রোপণ করা হয়েছে।
আশেপাশের গ্রামের মানুষ, স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা এমন সুন্দর পাঁচিল দেখতে আসে। এই পাঁচিল এখন মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থান।

পাঁচিলের এক দিকে দেখি পাগল ভৈরবের প্রতিকৃতি আঁকা। এক দিকে বিড়াল এক দিকে প্যাঁচা, হাতে তার মাকাল ফল লাল টকটকে। এই গাছের উপকারিতা সমন্ধে অনেক কিছু লেখা আছে পাশে।
      ___________________



 

Friday, May 20, 2022

"সেই ক্ষণে"

"সেই ক্ষণে"
- পুলক সাঁপুই।

তুমি আছো সাথে। 
সবুজ ঘাসে, গাছের তলে -
নিল আকাশ, সাদা মেঘে ছেয়ে। মৃদুমন্দ বাতাস,
তুমি আমার কোলে মাথা রেখে।
সুঘ্রাণ পাই তোমার খোলা কালো চুলে।
দুটি রেখা সাদা চুলে, আরো বেশী চমত্কার লাগে।
চুলে বিলি কেটে দিই, কপালে বুলাই হাত।
তোমার চোখ নাক মুখ গাল স্পর্শ করে প্রতিটা রন্ধ্রের খোঁজ নিই। 
তোমার ঠোঁটে আমার ভালবাসার আঙুল ছোঁয়াই।
তোমার মুক্তোর মতো দাঁত দেখি গোলাপী ঠোঁটের ফাঁকে; ঝিলিক দিয়ে ওঠে।
 আঙুলের স্পর্শে আমার তর্জনী ভিজে যায়।
 তুমি অনুভবে। আমি চুমুর অপেক্ষায়।



 

Thursday, May 19, 2022

"পাগল ভৈরব - ১৬"

#পাগল_ভৈরব - ১৬
- পুলক সাঁপুই।

ট্রেন চলেছে বজবজ থেকে শিয়ালদা
ভীড় ঠাসা মানুষ, প্রাণ বুঝি যায়।
হকারের হাঁকডাক, চেঁচামেচি চিৎকার
সবকিছু উপেক্ষা করে, ঠেলেঠুলে কোনো মতে
একটি সিট, আহা! বসে প্রাণ পাই।
মুখ মুছে জামা ঝেড়ে চারিপাশে একটু তাকাই।
মনে ভাবি, কেমন করে সহজে বসার জায়গা পাই।
হা হা হা, - বুঝি এই বার,
জানলার ধারে মুখ গুঁজে ঘুমায় সে, -
ছেঁড়া ময়লা পোষাকে চাদর জড়িয়ে।
তার পাশে তাই বসেনি কেউই
হয়তো ভয়ে, নয়তো ঘৃণায়।
যাক, তাতে কি? বসতে পেরেছি যথেষ্ট তাই।
ট্রেন চলে ঝাঁকি দিয়ে -
খট খট ঘড় ঘড় আরও কতো বিকট আওয়াজে 
জানলার পাশের মানুষটির ঘুম ভাঙ্গে
নড়ে চড়ে সোজা হয়ে বসে।
আরে! এ যে আমার কাঙ্ক্ষিত পাগল ভৈরব।
ওরে পাগল, - ভাবিনি দেখা পাবো তোরে এখানে।
আহা আমার সৌভাগ্য আজ তোকে কাছে পেয়ে।
বারবার একটা প্রশ্ন মনে এসে বাঁধে।
এইবেলা বল
ক্রোধের উৎপত্তি কোথা হতে?
আর, এর থেকে নিষ্পত্তি পাবো কেমনে?
ভৈরব শুরু করে, -

"মোহেতে চাহিদা মেটাতে লালসা,
লালসা চরিতার্থ করতে স্বার্থ, 
স্বার্থ পূরণ মানেই আত্মসন্তুষ্টি,
আত্মসন্তুষ্টি অহং সম।
অহং পরিতৃপ্ত না হলেই ক্রোধের উৎপত্তি।

হা হা হা 

ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের উপায় বড়ই সোজা,
আত্মার সাথে কও কথা -
আপন হীনতার সাথে পরিচিত হয়ে
আলিঙ্গন করো তারে।
ক্রোধ হইবে খান্ত জলজ্যান্ত,
শীতল হইবে অনুভবে। 
তবে হ্যাঁ, যদি বোঝ তুমি সঠিক,
বকি সবকিছু অন্যের দোষে, -
ক্রোধ নয়, ক্ষমা করো তারে; মৌন রও,
বিলীন হও আপনি আপনার মাঝে।

চল উঠে পড়ি অন্তিম ষ্টেশন এসে গেছে।"


 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...