”পাগল ভৈরব - ৩২”
"মানুষের মূল্য"
শহরের অবহেলিত স্থানে পরিত্যাক্ত গোরস্থান
জনমানব শূন্য, নিস্তব্ধ, গাছগাছালি ভরা অন্ধকার প্রায়।
দুপুর বেলা ঘূঘুর ডাক, পাগল ভৈরব বসে নিম গাছের তলায়।
প্রশ্ন জাগে মনে, ভৈরবকে সুধাই
মানুষের মূল্য কতো এই চরাচরে!?
পাগল বলে; - মানবিক মূল্যবোধের নিরীখে,
মানুষের কাছে মানুষের মূল্য অনন্ত
এখানে নেই ভেদাভেদ শিশু-বৃদ্ধ, নর-নারী পঙ্গু অথবা দীর্ঘ সহনে মৃতপ্রায়।
মানব প্রেমে সর্বদাই মানুষ একে অপরের সাথে।
প্রকৃতির কাছে অতি তুচ্ছ মানুষ এই প্রাণী জগতে,
বিবর্তনে, - ডাইনোসর কিংবা টুনটুনি অথবা মানুষ
একই পদ্ধতিতে গাঁথা এই দুনিয়া।
অলীক ঈশ্বরের নামে হরেক ধর্ম বিষফোঁড়া হয়ে ওঠে মানবধর্মের মাঝে।
মানুষের মূল্য খুঁজে পাবে প্রেমে-জ্ঞানে বিতরণে মানুষের মাঝে।
- পুলক সাঁপুই
Thursday, January 19, 2023
Friday, November 4, 2022
"বকলম"-২
"বকলম" -২
মাছ ভাজার গন্ধ ম ম করে।
চারিধার ঘুর ঘুর করে পুষি খুশি হয়ে।
আড়কাঠ বেয়ে উঁকি মারে ঝুঁকে হেঁশেলে।
শিকেয় মাছভাজা তোলা।
অনেক চেষ্টায় পেতে ভাজা মাছ।
না পেয়ে নাগাল, হয়ে নাকাল, শেষে ব্যাথা পায় পুষি।
মনের দুঃখে যায় বনে, আরো পুষি সেথায় জড়ো হয় হরেক রকমের অ-সুখ নিয়ে।
এখন পুষি একা নয়, দল হয়।
পুষি-পুষি ছয়লাপ।
এক পুষি গান গায়, আর এক পুষি বাঁশি বাজায়।
আরো পুষি মাদল বাজায়, নাচে ধিতাং ধীতাং তালে।
পুষিদের মাতলামি বাদল দিনে বিয়ার খেয়ে শুরু করে।
বাদল ঝরে, এই কারণে দ'পড়ে পা পিছলে অতএব দল থেকে বাদ পড়ে 'দ'।
পড়ে থাকে বাকি কে? খুঁজি তন্ন তন্ন করে।
#পুলক_সাঁপুই।
Wednesday, November 2, 2022
'বকলম' -১
"বকলম" -১
#পুলক_সাঁপুই।
কাকভোরে কাক ডালে বসে 'কা-কা' ছেড়ে 'কোঁ-ক্যোর-ক্রো' করে ডাক দিতে বৃথা চেষ্টা করে।
আমড়া গাছের ডালে ডালে ঘুঘুর ঘুর-ঘুর বাড়ে বেলা বাড়ার সাথে সাথে।
বেলা দ্বিপ্রহর, বিড়াল বিছানায় মত্ত হয়ে খেলায় তৃপ্তি পেতে চায়।
অন্যদিকে, বেলগাছে পাকা বেল হলুদ হয়ে। নেড়া দাঁড়িয়ে তফাতে; ঢিল ছুঁড়ে কাক তাড়ায় অপ্রয়োজনে।
বিকালে পড়ন্ত আলোয় মাঠে বসে দুই বন্ধু দুই পানে তাকিয়ে ঝগড়া করে।
পূর্বদিকের আকাশে তাকিয়ে খরগোশ বলে; আকাশ ঘন নীল, পশ্চিম দিকে তাকিয়ে সজারু বলে আকাশের রং কমলা।
সন্ধ্যায় ব্যাঙ 'ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ' করে আষাঢ়ে গান শোনায়; বৃষ্টিকে কাছে পেতে।
রাতে চাঁদের আলোয় কিংবা অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে সুখপাখি সুখে ঘুমায় রঙিন স্বপ্ন দেখে।
#পুলক_সাঁপুই।
কাকভোরে কাক ডালে বসে 'কা-কা' ছেড়ে 'কোঁ-ক্যোর-ক্রো' করে ডাক দিতে বৃথা চেষ্টা করে।
আমড়া গাছের ডালে ডালে ঘুঘুর ঘুর-ঘুর বাড়ে বেলা বাড়ার সাথে সাথে।
বেলা দ্বিপ্রহর, বিড়াল বিছানায় মত্ত হয়ে খেলায় তৃপ্তি পেতে চায়।
অন্যদিকে, বেলগাছে পাকা বেল হলুদ হয়ে। নেড়া দাঁড়িয়ে তফাতে; ঢিল ছুঁড়ে কাক তাড়ায় অপ্রয়োজনে।
বিকালে পড়ন্ত আলোয় মাঠে বসে দুই বন্ধু দুই পানে তাকিয়ে ঝগড়া করে।
পূর্বদিকের আকাশে তাকিয়ে খরগোশ বলে; আকাশ ঘন নীল, পশ্চিম দিকে তাকিয়ে সজারু বলে আকাশের রং কমলা।
সন্ধ্যায় ব্যাঙ 'ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ' করে আষাঢ়ে গান শোনায়; বৃষ্টিকে কাছে পেতে।
রাতে চাঁদের আলোয় কিংবা অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে সুখপাখি সুখে ঘুমায় রঙিন স্বপ্ন দেখে।
Thursday, October 20, 2022
পাগাল ভৈরব -৩১
"পাগল ভৈরব -৩১"
হেমন্তের কুয়াশা গায়ে মেখে
নদীর পাড়ে অশ্বত্থ তলায় বসে আমি আর ভৈরব,
দুরে পালতোলা নৌকা যায় সারি দিয়ে, আবছা দেখায়
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ আর পাখিদের কূজন সুন্দর সকালে।
অন্তর থেকে বুদবুদ ওঠে সহস্র প্রশ্নের,
বিনম্র ভাবে জানতে চাই পাগলের কাছে -
পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্দ কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে মানুষের সাথে?
পাগল বলে শান্ত স্বরে; -
আমরা প্রতিপালিত হই সমাজে,
সমাজ নির্ভর করে ধর্ম ও অর্থনৈতিক আবহে
পাপ-পুণ্যের পরিমাপ হয় বাঁচার তাগিদে অনুমোদিত বিধি পালনে।
এখানে যাহা পাপ অন্য কোথাও তাহা পুণ্য সেথায় যাহা মন্দ হেথায় তাই ভালো,
পাপ-পুণ্যের খেলা খ্যালে ঈশ্বর নামক ধর্মে
মানব ধর্মে পাপ-পুণ্য নেই, আছে জ্ঞান চেতনা মানবিক দর্শন।
নয়তো অমানুষ; - শিক্ষিত হও ধনবান হও অথবা ক্ষমতাবান।
ধর্ম দেখায় কুসংস্কার সমাজ দেখায় লৌকিকতা
রীতি-নীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ সবই আছে প্যাঁচে বাঁধা।
প্রশ্ন করো নিজেকে উচিৎ ও অনুচিৎ কোন ভিত্তিতে গড়ে ওঠে?
সঠিক অনুধাবনে নিজেকে ব্যক্ত করো।
অন্যের প্রতি নয় নিজের প্রতি চেয়ে দেখো
অন্যের প্রতি সমালোচনা নয়; নিজেকে নিজের সমালোচনা করে বিশুদ্ধ হও।
মানব জনম নিয়ে মানবধর্ম প্রতিপালনে
প্রকৃতির প্রেমে প্রেমিক হয়ে আত্মসমর্পণ করো।
- পুলক সাঁপুই।
Friday, October 7, 2022
"পাগল ভৈরব -৩০"
পাগল ভৈরব -৩০
- পুলক সাঁপুই।
পাহাড়ের ওপর হতে দেখি আন্তরীক্ষ দৃশ্য -
ভ্রমণ করি ট্রায়াসিক যুগে
প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং লাভা প্রবাহের জন্য সৃষ্ট,
প্রাগৈতিহসিক থেকে বর্তমান সময়ে,
বদলায় ইতিহাস এই পাবাগড়ের।
অনতিদূরে প্রকান্ড পাথরের নিচে পাগল ভৈরব,
শালিক, বন ছাতারে ও কাঠবিড়ালির ঝাঁক তার সাথে।
সন্তর্পণে যাই, পাসে বসি, প্রাকৃতিক মহিমায় উদ্ভাসিত হই।
জানতে চাই পাগল ভৈরবের কাছে -
প্রকৃতির সাথে কেমণ করে রাখি নিজেকে
বাস্তবতার নিরিখে ভিন্ন পরিস্থিতিতে -
পাগল বলে: -
"প্রকৃতি ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে আপন মহিমায়।
প্রকৃতি সুন্দর নিজেই নিজের মাঝে। প্রকৃতির প্রেমে আজ এই পৃথিবীতে কণা থেকে পঞ্চোভূতে মানব,
প্রাকৃতিক প্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করো।
সত্তাকে ইবাদত করো আপন প্রত্যয়ে দৃঢ়তার সাথে কর্মের মাঝে।
প্রাকৃতিক খেয়ালে বিরাজে মন
নিষ্ঠা ও ধৈর্য্য সাথে রাখো কদম
মানবীয় মনে প্রেমকাননে ভ্রমণ করো আপন যতনে,
প্রকৃষ্ট মনে প্রতিপন্ন হও চেতনায় আপন মাঝারে।"
পাহাড়ের ওপর হতে দেখি আন্তরীক্ষ দৃশ্য -
ভ্রমণ করি ট্রায়াসিক যুগে
প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং লাভা প্রবাহের জন্য সৃষ্ট,
প্রাগৈতিহসিক থেকে বর্তমান সময়ে,
বদলায় ইতিহাস এই পাবাগড়ের।
অনতিদূরে প্রকান্ড পাথরের নিচে পাগল ভৈরব,
শালিক, বন ছাতারে ও কাঠবিড়ালির ঝাঁক তার সাথে।
সন্তর্পণে যাই, পাসে বসি, প্রাকৃতিক মহিমায় উদ্ভাসিত হই।
জানতে চাই পাগল ভৈরবের কাছে -
প্রকৃতির সাথে কেমণ করে রাখি নিজেকে
বাস্তবতার নিরিখে ভিন্ন পরিস্থিতিতে -
পাগল বলে: -
"প্রকৃতি ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে আপন মহিমায়।
প্রকৃতি সুন্দর নিজেই নিজের মাঝে। প্রকৃতির প্রেমে আজ এই পৃথিবীতে কণা থেকে পঞ্চোভূতে মানব,
প্রাকৃতিক প্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করো।
সত্তাকে ইবাদত করো আপন প্রত্যয়ে দৃঢ়তার সাথে কর্মের মাঝে।
প্রাকৃতিক খেয়ালে বিরাজে মন
নিষ্ঠা ও ধৈর্য্য সাথে রাখো কদম
মানবীয় মনে প্রেমকাননে ভ্রমণ করো আপন যতনে,
প্রকৃষ্ট মনে প্রতিপন্ন হও চেতনায় আপন মাঝারে।"
Friday, September 23, 2022
লেখা ইত্যাদি
চঞ্চলা মনে খোশখেয়াল
ভাবের ঘরে ডাকিও না অ-সুখ,
প্রেমাস্পদে অনুভূতি তরঙ্গে
নিজেরে ভাসাও আপন মাঝারে।
🌿
তোমাতে আমার প্রেমে নিরন্তর
তোমার ঐ কালো কেশের সুগন্ধী মেখে -
আমার অধর ছুঁয়ে যায় ললাটে তোমায় চুম্বন এঁকে।
তোমার উজ্জ্বল চপল আঁখিতে আঁখি মেলে
তোমার ভেজা গোলাপী পাপড়ি ঠোঁটে ঠোঁট ভেজাই।
তোমার বক্ষ যুগল পদ্ম বৃন্তের স্বাদ নিই প্রাণ ভরে,
এগিয়ে যাই আরো নিচে; নাভি প্রান্তে চুমু ভরে
এগিয়ে চলি নাভির অধোভাগ হতে নিতম্বদ্বয়ে -
যেথায় ওষ্ঠ অপরাজিতার মধুর স্বাদ পাই লোনা মিশ্রণে।
নিগূঢ় আলিঙ্গনে এক হয়ে রই তোমাতে আমাতে
এই ভাবনায় তোমাকে পাই আরো আরো গভীরে।
❤️
ভোর সকালে শীতল বাতাসে
তুমি মনে মোর বেলিফুলের সুগন্ধ ভরে,
মধ্যাহ্নে আমোদে হৃদয়ে তুমি আছো
জুঁইফুলের সুরভি নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে।
বিকালের আলোয় তুমি আমায় -
চাঁপাফুলের পরিমল ছড়াও অন্তরে অন্তরে,
সন্ধ্যার ঝাপসা আলোয় আসো কামনায়
কামিনীফুলের সুবাসে জড়িয়ে আদরে।
তুমি আছো প্রণয়ে নিশীরাতের রজনীগন্ধার মধুগন্ধে আলিঙ্গনে,
আমার প্রকৃতি তুমি প্রেমে বিবিধ সৌরভে
আছো অনুরূপে আমার হৃদয়ে নিগূঢ় ভাবে।
🌿
#গল্প #স্বপ্ন
#pulaksanpui
নীল আকাশ চারিদিকে, যেথায় দিগন্ত বিস্তৃত ছুঁয়ে যায় লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি, কমলা, - সবুজ পাতার মাঝে আরো কতো হাজার রঙের ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে, সেথায় তুমি আমি দুজনে প্রকৃতির সাথে এক হয়ে, প্রাকৃতিক বেশে সবুজ ঘাসের উপর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের অনুভূতি পাই এ'কে-অন্যের, শোভা দেখি প্রকৃতির নানা রঙের প্রজাপতি ও গঙ্গা-ফড়িং উড়ে বেড়ায় ফুলে ফুলে ঘাসে ঘাসে। - মুগ্ধ হই।
মুগ্ধ হই তোমার প্রাকৃতিক রূপে, বসন্ত বয়ে যায় আকাশে বাতাসে, বসন্ত বহে তোমার আমার মনে-দেহে কামনা-বাসনা জাগে পলাশ ফুলে ফুলে, তোমার চুলের স্পর্শ আমার মুখে-গায়ে সুগন্ধি কামিনী ফুলরে সাথে, তোমার চোখের তারা আমার নয়নতারা ফুলে, তোমার ঠোঁটে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ে,
তোমার বাহুতে বাঁধি গাঁদা ফুলের মালা, হাতে পরাই বেলিফুলের মালা,
পায়ে বাঁধি জুঁই ফুলের মালা, তোমার গলায় কাঞ্চন ফুলের মালা পরাই নিখুঁত ভাবে বক্ষের দুই পদ্ম কুঁড়ির মাঝে ঝুলিয়ে, তোমার পিঠে হাতটি আমার ঘোরে চারিধারে, তোমার নাভি হতে জঙ্ঘা দ্বয়ে সুড়সুড়ি দিই শিরীষ ফুল দিয়ে, তোমার অপরাজিতার লাগলো নেশা আমার হৃদয় জুড়ে, আমি সুগন্ধ নিই, স্বাদ নিই জিহ্বা দিয়ে, স্পর্শ করি তোমায় সুখ কামনায়, বাসনায় দেখি রহস্য কোথায় আছে। আমার ধুতরা মিলন ঘটায় তোমার অপরাজিতার সাথে তোমার ইচ্ছার সাথে। প্রেমরসে মধুমাখা হই পরস্পরে প্রেমের অন্তিম সুখে। এমন করে স্বপ্ন কাটে আমার প্রেমের সাথে। ঘুম ভাঙে বাস্তবতার মাঝে সময়ের সাথে, সময়ের হাতে। বয়ে নিয়ে চলি এমন করে একা একা ভালোবেসে।
Friday, September 16, 2022
"পাগল ভৈরব - ২৯"
"পাগল ভৈরব -২৯"
- পুলক সাঁপুই।
বিস্তীর্ণ ভূমি, আকাশ মেলে দিগন্তরেখায় কাশফুলের সাথে
দুরে চকচক করে আঁকাবাঁকা রেখা নদী পড়ন্ত বিকেলের রোদে,
প্রতি মুহূর্তে ছবি বদলায় আসমানে মেঘ খেলা করে
মনোরম বাতাস শনশন স্বন, পাগল ভৈরব ঘাসে শুয়ে।
অনতিদূরে রমণী এক, শাড়ির আঁচল লুটায় ঘাসফুল ছুঁয়ে
খোলা চুল ওড়ে চোখ মুখ ঢাকে, -
খেয়াল হীন ভাবে পায়ে পায়ে,
নানারঙের প্রজাপতি, গঙ্গাফড়িং উড়ে বেড়ায় বাঁধন ছাড়া নেচে নেচে,
এই মনোরম প্রশান্ত নির্মল পরিবেশে,
উত্তাল মন ঝড় বয়ে যায়, চোখের দৃষ্টি সেথায় হার মেনে যায়।
কাছে আসে রমণী, শুধায়; - বসতে পারি কাছে?
স্থির চোখে আকাশ পানে চেয়ে পাগল বলে; - কি দুশ্চিন্তা করিস মনে?
রমণী বসে, উদাস চোখে চেয়ে দূরে, বাঁকা হাসি হেসে বলে, - চিন্তা ই রাখি না; আবার দুশ্চিন্তা!?
পাগল ভৈরব উঠে বসে, অট্টহাসি হাসে, কেঁপে ওঠে চতুর্দিকে,
বলে; - ওরে মেয়ে, তোর কথায় প্রকৃতি লজ্জা পায়,
চিন্তা বিনে তুই যে অসুখী-
সুখ চায় তরুলতা আকাশ দেখিতে
আকর্ষ দিয়ে ধরিতে ডালি,
দুশ্চিন্তা ফলপ্রদ হয়, সফলের আহ্বানে দিয়ে পাড়ি।
চিন্তনে সজীব জীবন জ্ঞান পুর্ণময়।
রমণী ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস, ছুঁতে ভৈরবকে বাড়ায় হাত
আঁচল টানে খোলা বুকে, ঠোঁট কাঁপে, চোখ বুজে বলে; - তবে!?
পাগল গোঁফে হাত বুলায়, স্মিত মুখে বলে;-
এখানে তুই বসে আমার সাথে, প্রকৃতিক নিয়মে, অতীতের কর্মফলে
যদি ভালো লাগে, রাখবি আমায়, নইলে কদাচিৎ নয়।
অতীতের হতাশায় বর্তমানকে করিস না দোষী
নইলে, নিজেকে হারাবি রেখে উদ্বেগ অসহায়,
বাস্তবের মাটিতে চরণ দিয়ে, ভবিষ্যতের লক্ষ্যে প্রত্যয় নিয়ে
প্রকৃতির প্রেমে জীবন ভাসিয়ে, কর্মের মাঝে নিজেকে চিনে
সুখে থাক তুই আপন রাজত্বে।
Thursday, September 8, 2022
"পাগল ভৈরব - ২৮"
#আনুগল্প
"পাগল ভৈরব - ২৮“
#পুলক_সাঁপুই।
বড়ো যানজট, গাড়ী এগোয় না আর,
কচ্ছপের গতি বরং অনেক ভালো, এই বাসের চেয়ে।
দু চার কিলোমিটার দূরত্ব হলে পা চালিয়ে মেরে দিতাম,
কিন্তু যেতে হবে প্রায় দশ বারো কিলোমিটার, তাই বাধ্য বাসে চড়া।
বাসও ভিড়ে ঠাসা, পা রাখার জায়গা নেই প্রায়।
নানান চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ।
এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কি ভাবে মুক্তি পাবো ভাবছি,
এমন সময় দেখি দূরে পিছনের সিটে বসে পাগল ঘুমায়।
তার পাশের জায়গাটি ও ফাঁকা, হয়তো অপরিচ্ছন্ন ছেঁড়া জামাকাপড়ের জন্য।
ভীড় ঠেলে এগিয়ে যাই, লোকেদের গালাগাল সহ্য করে।
হাঁসফাঁস করতে করতে ধপ করে বসে গেলাম পাগলের পাশে।
আহঃ কি শান্তি! পেলাম দুই, - ভৈরব সাথে বসার সিট।
"মেঘ না চাইতে জল"।
পাগলের ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষায় রই, ডাকতে সাহস নেই।
কি নিয়ে কথা বলি তার সাথে, মনে ভাবছি, এমন সময় ভৈরব চোখ মেলে আড়মোড়া ভাঙে।
আমি বলি, ভৈরব তোর পাসে বসে আমি ধন্য।
এক গাল হেসে পাগল বলে; - আমার পাসে সর্বদা সিট খালিই থাকে,
আমি যে পরিত্যক্ত নগন্য, তুই পাসে বসায় আমি কৃতজ্ঞ।
আমি বলি বাদ দাও ওসব, আমাকে বলো, -
ন্যায্য মূল্যের সঠিক মূল্যায়ন কেমন হওয়া উচিত?
ভৈরব শুরু করে: -
মনে কর, কোনো অতি মূল্যবান কলম যদি কোনো অশিক্ষিত মূর্খ মানুষ হাতে পায়, তবে সেই কলমের কোনো মূল্যায়ন হয় কি?
"জহুরী জহর চেনে, বিত্তবান অহঙ্কারে কেনে"।
অথবা, “বানরের গলায় মুক্তার মালা“
- হা হা হা।
আবার, যদি দু টাকা মূল্যের একটি কলম কোনো লেখক সাহিত্যিক, কবি শিল্পী ইত্যাদী সৃজনশীল জ্ঞানী ব্যাক্তির হাতে থাকে, তা থেকে অমূল্য কিছু সৃষ্টি হতে পারে।
"বৈদ্যের হাতে পড়লে আগাছা হয় মহার্ঘ সমান"।
লোহার ছুরি অযত্নে পড়ে থাকলে, জং বা মরিচা পড়ে যায় তার কোনোও মূল্য থাকে না।
কোনো ব্যক্তি ভালোবেসে সঠিক ভাবে ব্যবহারের জন্য সেই ছুরি'কে সান দিয়ে ধারালো করলে এবং তা সঠিক ব্যবহার করলে সেই ছুরির সঠিক মূল্যায়ন করা হয়।
নয়তো, সেই ছুরি কোনো প্রকার কাজে আসবে না বা অযত্নে শেষ হয়ে যাবে।
বিদ্বান ব্যক্তিই জানে, - কোন বস্তুর উপযোগ কি ভাবে করা প্রয়োজন ।
মানুষের জীবনে ন্যায্য মূল্যায়ন এই ভাবে বিচার করে দেখ, যদি কিছু পেয়ে যাস।
"অঘাটে জল খাওয়া" ছেড়ে,
"উলু বনে মুক্ত ছড়ানো" থেকে অব্যাহতি নিয়ে,
"কুল কাঠের আগুন" মনের মাঝে না রেখে,
"গড্ডলিকা প্রবাহ"তে না ভেসে,
"ছ কড়া ন কড়া"তে "বাজিমাত" না করে,
"চোখের মণি"কে "মনের মণিকোঠায়" রাখো, তুমিই "লগন চাঁদ"।
হা হা হা - হা হা হা - হা হা হা...
এই বলে পাগল ভৈরব আমার পাশে থেকে উঠে বাস থেকে নেমে যায়।
Wednesday, August 31, 2022
"পাগল ভৈরব - ২৭“
“পাগল ভৈরব - ২৭“
- পুলক সাঁপুই।
আজ এসেছি পাগলের ডেরায় সন্ধ্যার অন্ধকারে
উপরে পেঁচা নিচে বিড়ালের চোখ জ্বলে,
বলি চুপি চুপি উতলা মনের সংশয় ঘুচাও -
ভালোবাসা, ঘৃণা ও সন্দেহ বিষয়ে একটু তথ্য দাও।
ভৈরব বলে; -
"আত্ম পরিতৃপ্তি থেকে সুখ দোঁহে মিলে রূপান্তর ভালোবাসার।
যেমন, তৃষ্ণার্থ জল পান করে তৃপ্তি পায়,
অন্তরঙ্গতার মর্যাদা ভালোবাসাতে সম্পূর্ণ হয়।
স্বার্থের অপূর্ণতা থেকে ক্ষোভ,
ক্ষোভ থেকে ঘৃণা, ঘৃণা থেকে বর্জ্য,
তাই যেথায় ঘৃণা সেথায় সন্দেহ শূন্য।
স্ব-বিরোধিতা সন্দেহের জন্ম দেয়,
যুগলের পরিপূর্ণতায় সন্দেহ দূর হয়।
জীবনে বাঁচার প্রথম প্রয়াস
উৎকৃষ্টের উপযুক্ত সম্মান।"
- পুলক সাঁপুই।
আজ এসেছি পাগলের ডেরায় সন্ধ্যার অন্ধকারে
উপরে পেঁচা নিচে বিড়ালের চোখ জ্বলে,
বলি চুপি চুপি উতলা মনের সংশয় ঘুচাও -
ভালোবাসা, ঘৃণা ও সন্দেহ বিষয়ে একটু তথ্য দাও।
ভৈরব বলে; -
"আত্ম পরিতৃপ্তি থেকে সুখ দোঁহে মিলে রূপান্তর ভালোবাসার।
যেমন, তৃষ্ণার্থ জল পান করে তৃপ্তি পায়,
অন্তরঙ্গতার মর্যাদা ভালোবাসাতে সম্পূর্ণ হয়।
স্বার্থের অপূর্ণতা থেকে ক্ষোভ,
ক্ষোভ থেকে ঘৃণা, ঘৃণা থেকে বর্জ্য,
তাই যেথায় ঘৃণা সেথায় সন্দেহ শূন্য।
স্ব-বিরোধিতা সন্দেহের জন্ম দেয়,
যুগলের পরিপূর্ণতায় সন্দেহ দূর হয়।
জীবনে বাঁচার প্রথম প্রয়াস
উৎকৃষ্টের উপযুক্ত সম্মান।"
Sunday, August 28, 2022
"পাগল ভৈরব - ২৬“
"পাগল ভৈরব - ২৬"
- পুলক সাঁপুই।
গোধূলী বেলায়, সিঁদুরে মেঘ পশ্চিম আকাশে
নিস্তব্ধ, জনমানব শূন্য অরণ্য,
পাথর খন্ডের উপরে বসে ভৈরব
খোলা দীর্ঘ চুলদাড়ি ওড়ে সন সন বাতাসে।
দুই নারী পৌঁছায় পাগলের কাছে;
এক নারী, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত, সংসারে ক্লান্ত,
অন্য নারী, কলস্রোতা প্রেমী,
এসেছে আকুতি নিয়ে, প্রেমের তাৎপর্য জানতে চায়।
সংসারে নির্ভরশীলতার চাপে কি প্রেম হারায়?
প্রেম কি অতিথি, জীবনে বারবার আসে আর যায়?
ভৈরব মৃদু হেসে বলে; -
"চর্মচক্ষুতে যাহা প্রেম তা বাসনার উদ্গার,
অবিদিত মনের ক্ষুদা, সাময়িক বাঁচার আশা।
প্রেম প্রবাহে মাধ্যম প্রয়োজন হয়,
জন্ম থেকে প্রেমের শুরু মাতৃ প্রেমের সাথে।
প্রেম মননশক্তি, মনকে সুনিদিষ্ট ভাবে উদ্দীপনা যোগায়।
প্রেম জীবনীশক্তি, দেহে পরম উদ্যম প্রাপ্ত করে
প্রেম কর্মশক্তি, কর্মই ধর্ম আজীবনের উচ্ছাসে।
প্রকৃতিক নিয়মে স্বতন্ত্র মনে প্রেমের প্রবাহ ঘটে।
জ্ঞানতৃষ্ণার আধারে প্রেম,
উদ্ভাবনী ধারায় প্রেম,
তত্ত্ব অনুধাবনে প্রেম।
প্রেম অহংকারের পাষাণ ভেঙে সদানন্দে ভাসে।
প্রেম চঞ্চল চিত্ত থেকে সংকল্পে নিবিষ্ট করে।
প্রেম ধর্মের রঙ ছেড়ে ধাবিত হয় মানোবতার পথে।
"মননশক্তি, জীবনীশক্তি, কর্মশক্তি"; -
এই তিন শক্তির উদ্দীপনায় প্রেম প্রবাহিত হয় আপন মহিমায় মরণোত্তরে।"
- পুলক সাঁপুই।
গোধূলী বেলায়, সিঁদুরে মেঘ পশ্চিম আকাশে
নিস্তব্ধ, জনমানব শূন্য অরণ্য,
পাথর খন্ডের উপরে বসে ভৈরব
খোলা দীর্ঘ চুলদাড়ি ওড়ে সন সন বাতাসে।
দুই নারী পৌঁছায় পাগলের কাছে;
এক নারী, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত, সংসারে ক্লান্ত,
অন্য নারী, কলস্রোতা প্রেমী,
এসেছে আকুতি নিয়ে, প্রেমের তাৎপর্য জানতে চায়।
সংসারে নির্ভরশীলতার চাপে কি প্রেম হারায়?
প্রেম কি অতিথি, জীবনে বারবার আসে আর যায়?
ভৈরব মৃদু হেসে বলে; -
"চর্মচক্ষুতে যাহা প্রেম তা বাসনার উদ্গার,
অবিদিত মনের ক্ষুদা, সাময়িক বাঁচার আশা।
প্রেম প্রবাহে মাধ্যম প্রয়োজন হয়,
জন্ম থেকে প্রেমের শুরু মাতৃ প্রেমের সাথে।
প্রেম মননশক্তি, মনকে সুনিদিষ্ট ভাবে উদ্দীপনা যোগায়।
প্রেম জীবনীশক্তি, দেহে পরম উদ্যম প্রাপ্ত করে
প্রেম কর্মশক্তি, কর্মই ধর্ম আজীবনের উচ্ছাসে।
প্রকৃতিক নিয়মে স্বতন্ত্র মনে প্রেমের প্রবাহ ঘটে।
জ্ঞানতৃষ্ণার আধারে প্রেম,
উদ্ভাবনী ধারায় প্রেম,
তত্ত্ব অনুধাবনে প্রেম।
প্রেম অহংকারের পাষাণ ভেঙে সদানন্দে ভাসে।
প্রেম চঞ্চল চিত্ত থেকে সংকল্পে নিবিষ্ট করে।
প্রেম ধর্মের রঙ ছেড়ে ধাবিত হয় মানোবতার পথে।
"মননশক্তি, জীবনীশক্তি, কর্মশক্তি"; -
এই তিন শক্তির উদ্দীপনায় প্রেম প্রবাহিত হয় আপন মহিমায় মরণোত্তরে।"
Saturday, August 27, 2022
পাগল ভৈরব -২৫
পাগল ভৈরব -২৫
- পুলক সাঁপুই।
ভোরে, পশ্চিমে অন্ধকার কাটেনি তখনও
পূবের আকাশ লাল কমলা হলুদে।
এক বিশাল পাথর খন্ডের উপরে ভৈরব দাঁড়িয়ে,
আলোর দিকে তাকিয়ে দুই হাত উপরে
গুরুগম্ভীর নিনাদে বলে; -
"আমি পাগল ভৈরব,
আমিই জীবন আমিই মৃত্যু,
আমিই উর্বর আমিই ঊষর,
আমিই সম্পুর্ণ আমিই শূন্য,
- পুলক সাঁপুই।
ভোরে, পশ্চিমে অন্ধকার কাটেনি তখনও
পূবের আকাশ লাল কমলা হলুদে।
এক বিশাল পাথর খন্ডের উপরে ভৈরব দাঁড়িয়ে,
আলোর দিকে তাকিয়ে দুই হাত উপরে
গুরুগম্ভীর নিনাদে বলে; -
"আমি পাগল ভৈরব,
আমিই জীবন আমিই মৃত্যু,
আমিই উর্বর আমিই ঊষর,
আমিই সম্পুর্ণ আমিই শূন্য,
আমিই যতন আমিই যাতনা।
আমিই রূপ আমিই রেখা ,
আমিই ধারক আমিই বাহক,
আমিই প্রেম আমিই যৌবন,
আমিই জ্ঞান আমিই কর্মময়।
আমাকে যেমন রাখিবে হৃদয়ে
প্রকট হইবো তেমন; তব কর্ম জীবনে।
আমি সূর্যের মতো দিতে পারি তেজ
চন্দ্রের মত স্নিগ্ধতা,
আমি বজ্রের মতো শক্তি ধরিব
বৃষ্টি ধারায় অঙ্কুরোদগম ঘটাব।
এই সৃষ্টির মাঝে আমিই স্রষ্টা
হইব বিলীন এই প্রকৃতিতে।"
আমিই ধারক আমিই বাহক,
আমিই প্রেম আমিই যৌবন,
আমিই জ্ঞান আমিই কর্মময়।
আমাকে যেমন রাখিবে হৃদয়ে
প্রকট হইবো তেমন; তব কর্ম জীবনে।
আমি সূর্যের মতো দিতে পারি তেজ
চন্দ্রের মত স্নিগ্ধতা,
আমি বজ্রের মতো শক্তি ধরিব
বৃষ্টি ধারায় অঙ্কুরোদগম ঘটাব।
এই সৃষ্টির মাঝে আমিই স্রষ্টা
হইব বিলীন এই প্রকৃতিতে।"
Subscribe to:
Posts (Atom)
"প্রেম ধারা"
"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...



