Thursday, September 8, 2022

"পাগল ভৈরব - ২৮"

#আনুগল্প
"পাগল ভৈরব - ২৮“
#পুলক_সাঁপুই।

বড়ো যানজট, গাড়ী এগোয় না আর,
কচ্ছপের গতি বরং অনেক ভালো, এই বাসের চেয়ে। 
দু চার কিলোমিটার দূরত্ব হলে পা চালিয়ে মেরে দিতাম, 
কিন্তু যেতে হবে প্রায় দশ বারো কিলোমিটার, তাই বাধ্য বাসে চড়া। 
বাসও ভিড়ে ঠাসা, পা রাখার জায়গা নেই প্রায়। 
নানান চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ।
এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কি ভাবে মুক্তি পাবো ভাবছি, 
এমন সময় দেখি দূরে পিছনের সিটে বসে পাগল ঘুমায়। 
তার পাশের জায়গাটি ও ফাঁকা, হয়তো অপরিচ্ছন্ন ছেঁড়া জামাকাপড়ের জন্য।
ভীড় ঠেলে এগিয়ে যাই, লোকেদের গালাগাল সহ্য করে।
হাঁসফাঁস করতে করতে ধপ করে বসে গেলাম পাগলের পাশে।
আহঃ কি শান্তি! পেলাম দুই, - ভৈরব সাথে বসার সিট।
"মেঘ না চাইতে জল"।
পাগলের ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষায় রই, ডাকতে সাহস নেই।
কি নিয়ে কথা বলি তার সাথে, মনে ভাবছি, এমন সময় ভৈরব চোখ মেলে আড়মোড়া ভাঙে।
আমি বলি, ভৈরব তোর পাসে বসে আমি ধন্য।
এক গাল হেসে পাগল বলে; - আমার পাসে সর্বদা সিট খালিই থাকে,
আমি যে পরিত্যক্ত নগন্য, তুই পাসে বসায় আমি কৃতজ্ঞ।
আমি বলি বাদ দাও ওসব, আমাকে বলো, -
ন্যায্য মূল্যের সঠিক মূল্যায়ন কেমন হওয়া উচিত?
ভৈরব শুরু করে: -
মনে কর, কোনো অতি মূল্যবান কলম যদি কোনো অশিক্ষিত মূর্খ মানুষ হাতে পায়, তবে সেই কলমের কোনো মূল্যায়ন হয় কি?
"জহুরী জহর চেনে, বিত্তবান অহঙ্কারে কেনে"।
অথবা, “বানরের গলায় মুক্তার মালা“
 - হা হা হা।

আবার, যদি দু টাকা মূল্যের একটি কলম কোনো লেখক সাহিত্যিক, কবি শিল্পী ইত্যাদী সৃজনশীল জ্ঞানী ব্যাক্তির হাতে থাকে, তা থেকে অমূল্য কিছু সৃষ্টি হতে পারে।
"বৈদ্যের হাতে পড়লে আগাছা হয় মহার্ঘ সমান"।

লোহার ছুরি অযত্নে পড়ে থাকলে, জং বা মরিচা পড়ে যায় তার কোনোও মূল্য থাকে না। 
কোনো ব্যক্তি ভালোবেসে সঠিক ভাবে ব্যবহারের জন্য সেই ছুরি'কে সান দিয়ে ধারালো করলে এবং তা সঠিক ব্যবহার করলে সেই ছুরির সঠিক মূল্যায়ন করা হয়।
 নয়তো, সেই ছুরি কোনো প্রকার কাজে আসবে না বা অযত্নে শেষ হয়ে যাবে।

বিদ্বান ব্যক্তিই জানে, - কোন বস্তুর উপযোগ কি ভাবে করা প্রয়োজন ।

মানুষের জীবনে ন্যায্য মূল্যায়ন এই ভাবে বিচার করে দেখ, যদি কিছু পেয়ে যাস।

"অঘাটে জল খাওয়া" ছেড়ে, 
"উলু বনে মুক্ত ছড়ানো" থেকে অব্যাহতি নিয়ে, 
"কুল কাঠের আগুন" মনের মাঝে না রেখে,
"গড্ডলিকা প্রবাহ"তে না ভেসে,
"ছ কড়া ন কড়া"তে "বাজিমাত" না করে,
"চোখের মণি"কে "মনের মণিকোঠায়" রাখো, তুমিই "লগন চাঁদ"।
হা হা হা - হা হা হা - হা হা হা... 
এই বলে পাগল ভৈরব আমার পাশে থেকে উঠে বাস থেকে নেমে যায়।



 

No comments:

Post a Comment

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...