Tuesday, June 17, 2025

কবিতা

"মেঘমালা"

গুরুগম্ভীর আকাশ
ঝরঝর বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে মন
কে জানে কোন সে অজানা অকারণ!
অনেক বছর আগে 
সেই কালো মেয়েটিকে মনে পড়ে,
এমন বাদল দিনে নির্জন দুপুরে 
জল থৈ থৈ পুকুরে
সান বাধানো ঘাটে, তার স্নানের সময়।
আমি তখন কদম গাছের আড়াল থেকে দেখছিলাম তারে
মেঘমালা নাম তার, তাকিয়েছিল এক বার
ভিজে এলো চুলের ফাঁক দিয়ে কালো হরিণ চোখে, 
শিহরন খেলে ছিল, কেঁপেছিল পা
অসহায় হয়ে ছিলাম, ধরা পড়ে।
লজ্জা না ভয় কি জানি; -
লোকে এই পরিস্থিতিকে কি কয়!
আজ এমন দিনে,
হৃদয়ের ধকধক শব্দে জানান দেয়
অদৃশ্য মেঘমালা জড়িয়ে ধরে মেঘলা দিনে
আষ্টেপিষ্টে আমার মনের অন্তরায়।

- পুলক সাঁপুই 

Wednesday, March 5, 2025

কবিতা

 "আমিত্ব"

আছি আমি তাই; - 
আছো তুমি আমাতে,
এক অস্তিত্ব হয়ে
বাস্তবে হাজার কল্পনাতে।
গান গাই তোমার সাথে
বদল হয় 'তুমি' সময়ের সাথে 
ভবের ঘরে ক্ষনিকের বসবাস;
কতো মানুষ আসে যায়
সময় অটল রয়।
প্রয়োজনেই আশা ভরসা আত্মীয়তা
নইলে অযথা তৎপরতা,
অস্মিতায় শূন্য হতে চাই
প্রেমের সাথে প্রকৃতির মাঝে।

- পুলক 


Tuesday, January 7, 2025

কবিতা

"মিলন মেলা"

ওগো প্রিয়তমা,
শুভ লগ্নে ছিলে তুমি কাছে
মন ও কায়াতে আলো ছায়াতে,
সময়ের ধারায় গতিপথ বদলায়
বৈচিত্র্য আনে বহু রূপে মুগ্ধতায়।
আমার প্রতীতির মাঝে তুমি আজ
কখনো অন্ধকারে তারা ভরা রাতে;
জোছনায় পেঁজা তুলোর মেঘে
বা, রবির কিরণে উজ্জ্বল হয়ে।
কুয়াশায় তোমায় পাই পুলকে
বৃষ্টিতে ভিজে ঘাসের সাথে;
পাই ঝরা পাতায় খুঁজে বা অন্য কোথাও!
তুমি আছো হৃদয়ে সহস্র বছর ধরে
তুমি থাকো আনন্দধারায় 
আমি আছি সদানন্দে,
আমাদের প্রেম মিলিবে
পরম লগ্নে এ বিশ্ব সংসারে।

- পুলক সাঁপুই।


Sunday, December 15, 2024

আনু গল্প - "অন্ধের লাঠি"

"অন্ধের লাঠি- ২"

কথায় বলে; - অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন।
এই ছেলেটির নাম পদ্মলোচন, সে অন্ধ।
সমাজ থেকে সে নিজেকে গুটিয়ে রাখে আলাদা করে।
সে তার কল্পনার পৃথিবী গড়ে চলেছে নতুন সম্ভাবনার আশায়।
সে ঘুরে বেড়ায় নদী চরে, পথে-ঘাটে, বনে-জঙ্গলে।
কোনো এক দিন নদীর পাড় থেকে এক অদ্ভুত লাঠি পায় সে।
পদ্মলোচন মনে মনে ভাবলো হয়তো তার জন্য আবহমানকাল ধরে অপেক্ষা করে আছে এই লাঠিটি।
সে লাঠি ধরে এগিয়ে চলে।
লাঠিকে সাথে নিয়ে তার কল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকে সন্তর্পণে নিঃশব্দে প্রাকৃতিক প্রেমের পথে।
লাঠি হয়ে উঠলো তার আপনজন। লাঠির উপর তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকলো।

পদ্মলোচন লাঠিকে স্পর্শ করে অনুভূতি নিতে থাকে প্রতিদিন; - লাঠির গঠন বক্রতা মসৃনতা ও নকশা করা কারুকার্য তার প্রসন্নতা যোগায়।

প্রতি মুহূর্তে লাঠির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে রূপ দিতে প্রচেষ্টা সে।
লাঠির সঙ্গে বকবক করে চলে নিজ মনে প্রতিদিন।
দিন যায় মাস যায় বছর যায়, সময়ের সাথে বাস্তবতার বদল হয়।
পদ্মলোচন অনুভব করে লাঠির রুক্ষতা বেড়ে চলেছে ক্রমাগত।
কোনোও এক বিকালে সূর্য অস্ত প্রায়,
পদ্মলোচন বসে খরস্রোতা নদীর পাড়ে।
লাঠি যায় ছেড়ে হাত থেকে নদীতে পড়ে।
সে তৎক্ষণাৎ ধরতে পা বাড়ায় সামনের দিকে। হুমড়ি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। পাথরে আঘাত লাগে দুই চোখে।
লাঠি যায় ভেসে দূরে নাগালের বাইরে।
পদ্মলোচন আঘাত ও যন্ত্রণা নিয়ে ফিরে যায় ঘরে। সে মনে মনে ভাবে; যার চোখ থেকেও নেই সেই যন্ত্রণার মূল্য কিছুই নেই।
দুঃখ করার ও কিছু নেই।

নদী থেকে পাওয়া লাঠি নদীতেই গিয়েছে ভেসে,
শূন্যের সাথে শুন্য বিয়োগে শূন্যই পড়ে থাকে।

অলৌকিক ভাবে পদ্মলোচন ফিরে পায় তার দৃষ্টিশক্তি এই আঘাতের কারণে।
আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে নেচে ওঠে।
সে মনে মনে লাঠিকে সন্মান জানায় ও কৃতজ্ঞ থাকে লাঠির কাছে।
লাঠি দিয়ে গেছে প্রতি মুহূর্তে অনেক কিছুই যা হৃদয়ে আছে জুড়ে।
পদ্মলোচন আজও ঘুরে বেড়ায় নদী-জঙ্গল-রাস্তায়।
দুচোখ ভরে দেখে প্রকৃতির রূপ, তার প্রেম আজ প্রকৃতির মাঝে সমর্পিত।।
সে সাক্ষী হয়ে চলেছে বহির্দৃষ্টির সাথে অন্তর্দৃষ্টির পথে।
______________

"অন্ধের লাঠি-১"

নাম সোহানী। মেয়েটি অন্ধ। 
কাছের মানুষ সাথে থেকেও সে একা। 
তাই সে নিজের পৃথিবী গড়ে চলেছে তার লাঠির সঙ্গে। 
পথের সাথী হয়ে পথ দেখায় তার প্রিয় লাঠি। 
বাস্তবতা বদলায় সময়ের সাথে। 
প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বদল করে সে লাঠিকে পুরানো থেকে নতুনে। 
সে জঙ্গলে জঙ্গলে খুঁজে বেড়ায় কোনোও গাছের ভাঙ্গা ডাল। 
সেই ডাল থেকে নতুন লাঠি বানিয়ে নেয় পথ চলার সাথি হিসাবে পুরানো লাঠিকে পরিত্যাগ করে।
সোহানী গল্প করে আর তত্ব কথা কয় লাঠির সঙ্গে। এমন ভাবে দিন যায়। 
কোনো এক দিন সোহানী খুঁজে পায় এক জংলী ও অদ্ভুত গাছের ডাল। সেই ডালকে তার প্রয়োজনের লাঠি হিসাবে ব্যবহার করে।
সেই লাঠি তার জীবনের অনন্য সঙ্গী হিসাবে গড়ে ওঠে। 
সোহানী সেই লাঠির নাম দেয় জাদু লাঠি। এমনই করে দিন, মাস, বছর বছর গড়ায়।
কোন এক দৈবক্রমে সোহানীর জাদু লাঠির খোঁচা লাগে সোহানীর অন্ধ দু'চোখে। 
রক্তের ধারা বহে। 
ব্যথায় অস্থির সোহানী। কান্নায় ভেংগে পড়ে সে।
ত্যাগ করে লাঠিকে। 
সেই জাদু লাঠির খোঁচায় সোহানী চোখের দৃষ্টি পায়। 
আজ সেই লাঠি পরিত্যাক্ত কোনো এক আবর্জনার স্তূপে অন্য লাঠিদের মতো।
আজ সোহানী দু'চোখ চেয়ে চেয়ে দেখে পৃথিবীকে, অবাক দৃষ্টিতে। আজ সে আনন্দে দিশে হারা। 
গ্রাম জঙ্গল ছেড়ে শহরের অভিমুখে সোহানী চলেছে।
সে আজ হেঁটে বেড়াচ্ছে শহরের রাজপথে জীবনসঙ্গীর খোঁজে।



Tuesday, December 10, 2024

কবিতা

'অস্তিত্ব'

মুক্ত মনে চলেছি পথ
টক, ঝাল, মিষ্টি, নোনতা, তিতা,
রেখে যাই স্বাদ রকমারি।
পক্ষান্তরে পাই প্রেম, উপেক্ষা, সৌজন্যতা, দয়া, ক্ষমা ইত্যাদি
আকার, আয়তনে হরেক রঙের হরেক ফানুস।
আত্মঅহংকার শূন্যের প্রচেষ্টায়
মানবের মাঝে এখানে-সেখানে তরল হয়ে বর্তমানে।
নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে সাক্ষী হই অন্তরাত্মার কাছে।

- পুলক সাঁপুই 


Monday, September 16, 2024

পাগল ভৈরব -৩৪

পাগল ভৈরব -৩৪

প্রায় সন্ধ্যা নামে, কেউ কোথাও নেই
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, বালুচর,
বাতাস বহে জোরে, ভাঙা নৌকায় বসে
পাগল ভৈরব গুনগুনিয়ে গান গায়।

অনেক দিন পর পাগলকে পেয়ে পাগল হই 
কাছে গিয়ে বলি; -
কি করিস পাগল এই অন্ধকারে?
খিকখিকিয়ে হেসে আমার দিকে চেয়ে বলে; -
ওহে; বই পোকা নয়, শ্যামা পোকা হ 
অন্ধকারে নয়, আলোর পথে যা।
অবাক হয়ে বলি; -
এ কেমন কথা! বুঝিয়ে বলতো দেখি।

পাগল মাথা ঝাঁকিয়ে দাড়ি নেড়ে দাঁত বার করে বলে; -
শিক্ষার সততা প্রকাশ না করে, ডিগ্রিধারি হয়ে
আপন আত্মাকে অন্ধকারে রেখে সমাজ নষ্ট করে যে,
সেই ই বই পোকা, বইয়ের মহত্ত্ব খেয়ে।

একটু থেমে, পকেট হাতড়ে এক পোড়া বিড়ি বার করে।

পুবের আকাশে সোনালী চাঁদ
জলে সোনা গলে চকচক করে।

জ্বালিয়ে বিড়ি সুখটানে, ধোঁয়া ছেড়ে বলে; -
অনন্ত অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যা
সত্যিকারের মানুষ হতে।
কার্তিক মাসে ঘুটঘুটে অন্ধকারে 
শ্যমাপোকা যেমন আসে ধেয়ে
দীপাবলির আলোর উৎযাপনে।

- পুলক সাঁপুই।



Tuesday, May 14, 2024

মন মাঝি

"মন মাঝি"

মাঝি তুই গেলি চলে অমন করে, একলা পড়ে রই,
সন্ধ্যা নামে, ভাটার টানে, আমার তুই কই?
জানি তুই নয় যে আমার, আমি তোর নই,
আমার আমি নই যে আমি, কেমনে তোর হই!
লোকে বলে - মনটা নাকি দেওয়া নেওয়া যায়,
মিথ্যা কথা! এমনতরো হয় কখনো? কেমন করে বল?
'মনের আমি, মনের তুমি,' ছিঃ ছিঃ একি কথা!
মন কি কারোর কেনা গোলাম! কেনা-বেচা যায়?

ধরেই নিলাম 'মন' বলে সত্যই কিছু থাকে,
তোর মন তুই সাজিয়ে রাখ-
ফুলদানীতে ফুলের সাথে সাথে,
দেখবি তখন, সুগন্ধে মন ভরিয়ে রাখবে তোকে।
আমার মন থাকলে পরে বিদায় দেবো তারে 
পাথর বেঁধে ফেলবো তারে গভীর জলাশয়ে।
একা বসে রইলাম পাড়ে, তোর ফেরার পথ যাচি,
আয়রে ফিরে আমার তরে, ওরে আমার মাঝি।
#পুলক_সাঁপুই 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...