Wednesday, December 24, 2025

আনুগল্প

"শুক্রবারি"

বরোদাতে এক পুরানো জিনিসপত্রের বাজার আছে। নাম শুক্রবারি বা চোর বাজার। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে এই বাজার বসে।
নানা ধরনের মানুষ আসে পুরনো জিনিসপত্র কম পয়সায় পাওয়ার আশায়।
বিখ্যাত ভাস্কর শর্বরী রায়চৌধুরী পুরানো গানের গ্রামোফোন রেকর্ড সংগ্রহ করেছিলেন এই বাজার থেকে, যখন তিনি MS University তে পড়তেন।
অনেক বিখ্যাত মানুষ এখানে আসতেন ও আসেন প্রাচীন জিনিসপত্রের খোঁজে।
এমনই আহমেদাবাদে রবিবারি বা Sunday Market বসে।

এখন গল্পে আসি।
অনেক বছর আগে তখন আমি MS University তে ২য় বর্ষের ছাত্র। প্রায় প্রতি সপ্তাহে এই শুক্রবারি বাজারে ঘুরতে যাই।
এক শীতের সকালে সোয়েটার মাফলার ঢেকে সাইকেল নিয়ে বাজার ঘুরে ঘুরে দেখছি। ভাঙা যন্ত্রপাতি, পুরনো খেলনা, ভাঙা চেয়ার টেবিল আলনা,বই, রেকর্ড, ক্যাসেট, আরো কতো কি!
হটাৎ এক জায়গায় চোখ আটকে যায়। এক বিক্রেতা দুটি পুরনো ময়লা পেইন্টিং, কিছু পুরানো বই ও কয়েকটা পুরানো তালাচাবি নিয়ে বসে আছে।
তার ঠিক পাশেই বইয়ের দোকান। আমি একটা বেঞ্চে বসে চায়ের অর্ডার দিয়ে পেইন্টিং দেখছি। অনেক পুরানো অয়েল পেইন্টিং!
আমি বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে ঐ দুটি পেইন্টিং কোথায় থেকে পেয়েছে? সে আমাকে জানালো, এক পুরানো ঘর ভাঙা হচ্ছিল, সেখান থেকে ওই সমস্তগুলি সংগ্রহ করেছে।
এমন সময় এক ভদ্রলোক এসে ঐ পেইন্টিংয়ের দাম জিজ্ঞাসা করেন।
বিক্রেতা জানায়; দুটি পেইন্টিং দুহাজার টাকা মাত্র।
তখন ঐ ভদ্রলোক ঐ দুটি ছশো টাকায় নিতে চায়।
বিক্রেতা বলে, বউনির সময়, তাই দুটি পেইন্টিং আটশো টাকায় দিতে রাজি।
কিন্তু, ঐ ভদ্রলোক ছশো টাকার এক পয়সার ও বেশী দেবে না, এই বলে সে চলে যায়।
আমার চা আসে, চুমুক দিই।
একটি বই চোখে পড়ে, The Art of Natural History, S.Peter Dance - এর।
আমি সেটা মাত্র পাঁচ টাকায় কিনেছিলাম ঐ বিক্রেতার কাছ থেকে।
চা প্রায় শেষ; এই সময় আর এক ব্যক্তি আসেন এবং সে দুট পেইন্টিংয়ের দাম জানতে চায়।
বিক্রেতা বলে, দুটি পেইন্টিং দুহাজার টাকার এক পয়সার কম নয়।
ওই ব্যাক্তি দুহাজার টাকা বের করে দেয় ও আরো পঞ্চাশ টাকা বকশিস দিয়ে পেইন্টিং দুটি নিয়ে চলে যায়।
আমি ভাবছিলাম এমন মজাদার বাজার যেথায় হরেক রকমের পুরানো জিনিস পাওয়া যায়। কতো মানুষ আছে; যারা জিনিসপত্র পুরানো ও একঘেয়ে হয়ে গেলে দূরে সরিয়ে দেয়। আরো কতো মানুষ আছে; পুরানো দুষ্প্রাপ্য জিনিসপত্র  খুঁজে বেড়ায় যত্ন করে রেখে দিতে চায়।
এমন সময়, প্রথম ভদ্রলোক ফিরে এসে সেই দুটি পেইন্টিং আটশো টাকায় কিনতে চাইলেন।
বিক্রেতা জানায় সে দু হাজার টাকায় পেন্টিং দুটি বিক্রি করে দিয়েছে ও আরো পঞ্চাশ টাকা বকশিস পেয়েছে।
এই কথা শুনে ঐ ভদ্রলোক মাথায় হাত দিয়ে ধপ্ করে বসে পড়ে আমার পাশেই।
মনে হল যেন ওনার শরীর খারাপ লাগছে।
এর পর উঠে বিক্রেতাকে রাগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে;  "তুই এক মূর্খ, অশিক্ষিত; তাই মাত্র দুহাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিস, আবার পঞ্চাশ টাকা বকশিস পেয়ে খুশী হয়! জানিস কি? এখন ওই দুই পেইন্টিং বাজারে দশ লাখ টাকার ও বেশী দাম উঠতে পারে!"
বিক্রেতা নির্বিকার হয়ে বলে; আমি মূর্খ, জানি। তাই আমি এক হাজার দুশো পঞ্চাশ টাকা লাভ করতে পেরেছি।
আর আপনি বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত মানুষ। তাই আপনি কি হাতছাড়া করেছেন, তা একটু ভেবে দেখুন!?

এই সমস্ত কিছুর সাক্ষী হয়ে চিন্তা করি; - এই  বিচিত্র জগতে লাভ-ক্ষতি, চাওয়া-পাওয়া, দেওয়া-নেওয়ার  হিসেব কে কেমন করে করে!
আমি সাইকেলে চেপে হোস্টেলের উদ্দেশ্যে রওনা হই।
শেষে জানিয়ে রাখি ঐ পেইন্টিং দুটি ছিল রাজা রবি বর্মার আঁকা শকুন্তলা ও আর একটা দময়ন্তী।

Saturday, June 21, 2025

কবিতা

"প্রেমধারা" 

বৃষ্টি ঝরঝর ঝরছে, কাদায় প্যাচপ্যাচ চারিদিক
আকাশ এই বুঝি ভেঙে পড়ছে,
ঝিলিক মারে বিদ্যুৎ, মেঘ গুড়গুড় ডাকে
ডাকছে ব্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর পাশের জলাশয়ে।
মৌটুসী ফুলে ফুলে, টুনটুনি ঝোপে ঝাড়ে
কিচিরমিচির কলতান ফিঙে বুলবুল চড়াই, 
ঘুঘুর ঘোরাফেরা, শালিকের ঝটপটা 
ছাতারে সাত ভাই করছে লড়াই।
পুকুরে শালুক ওই লাল নীল সাদা ভরা
আমড়া গাছের ডালে দুটি কাক হয়ে কাক ভেজা,
গরু বাছুর যায় ফিরে হাম্বা হাম্বা ডাকে
নেড়ি কুকুর গুটিয়ে শুয়ে দাওয়ার কোণে।
এমন মনোরম অলংকারে ফিরে এসো বারেবারে
আজ আমি তোমাতে সিক্ত, চিত্ত হারাই, 
তুমি আমার মেঘ বালিকা, তুমিই বারিধারা
তোমার সাথে ছড়া গাঁথি, তুমিই মনোহরা।

- পুলক সাঁপুই 


Tuesday, June 17, 2025

কবিতা

"মেঘমালা"

গুরুগম্ভীর আকাশ
ঝরঝর বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে মন
কে জানে কোন সে অজানা অকারণ!
অনেক বছর আগে 
সেই কালো মেয়েটিকে মনে পড়ে,
এমন বাদল দিনে নির্জন দুপুরে 
জল থৈ থৈ পুকুরে
সান বাধানো ঘাটে, তার স্নানের সময়।
আমি তখন কদম গাছের আড়াল থেকে দেখছিলাম তারে
মেঘমালা নাম তার, তাকিয়েছিল এক বার
ভিজে এলো চুলের ফাঁক দিয়ে কালো হরিণ চোখে, 
শিহরন খেলে ছিল, কেঁপেছিল পা
অসহায় হয়ে ছিলাম, ধরা পড়ে।
লজ্জা না ভয় কি জানি; -
লোকে এই পরিস্থিতিকে কি কয়!
আজ এমন দিনে,
হৃদয়ের ধকধক শব্দে জানান দেয়
অদৃশ্য মেঘমালা জড়িয়ে ধরে মেঘলা দিনে
আষ্টেপিষ্টে আমার মনের অন্তরায়।

- পুলক সাঁপুই 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...