Wednesday, October 27, 2021

"স্বপ্ন"

"স্বপ্ন"
- পুলক সাঁপুই।
২৮-১০-২০২১

স্বপ্ন দেখি- সেই ডাইনোসরের যুগে আমি!
তেঁতুল গাছের তলে বিশ্রামে;
উপরে ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী বসে গল্প করে।
তন্দ্রার মাঝে কোনো এক বোধ কাজ করে-
ঈশ্বর দেখি, এক তাল মাটি নিয়ে খেলা করে;
শিশুরা যেমন মত্ত থাকে আপন মনে,
কিছু বানায় নিজের মতো করে,
এক মানবী ও দেখি সেথায়-
নগ্নতা নয়, প্রাকৃতিক পরিবেশে।
আমি প্রেমে পড়ি লিলিথের সাথে,
তার জ্ঞান-বুদ্ধি, শক্তি ও কাম-এ পূর্ণতা পায়,
ঈশ্বর সেথায় ঈর্ষান্বিত হয়।
আমার ঘুম ভাঙে বিমূর্ত সম্ভাবনায়...

 

Monday, October 25, 2021

"প্রকৃতির প্রেম ও ঈশ্বর"

"প্রকৃতির প্রেম ও ঈশ্বর"
- পুলক সাঁপুই
২৬-১০-২০২১.

ফুল ফোটে কার তরে?
কোন সে প্রয়োজনে?
মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে ফুলে ফুলে-
পরাগরেণু মেখে;- কোন সে কারণে?
পরাগায়ন হয় প্রকৃতির প্রেমে,
এই প্রেম যুগ-যুগান্তর হতে চলে-
হয়তো তখন মানুষ নয়;
বা, তখন মানুষ বনমানুষের বেশে,
ঈশ্বর তখন নিরীশ্বরবাদীর দেশে।
মানুষ এলো জীব শ্রেষ্ঠ হয়ে-
মানুষের মগজ হতে ঈশ্বর সৃষ্টি হলো,
আর, ঈশ্বর সৃষ্টি করলো মানুষের!
মানব কল্যানে বিজ্ঞান ভাবায় ঈশ্বরে,
সত্যতা তাই দেখে বুঝি মুচকি হাসে।

 

Tuesday, October 19, 2021

"প্রেম"

"প্রেম"
- পুলক সাঁপুই
১৯-১০-২০২১

প্রেমের পথে পা রেখেছি
প্রেম যে অট্টহাসে,
প্রেমের মাঝেই হাবুডুবু
প্রেম যে জলে ভাসে।
জোয়ারের জলে ভেসে ওঠে
ভাটার টানে জাগে,
প্রেমের মাঝেই জীবন যাপন
প্রেম-পিরিতির ঘাটে।
প্রেম যে আমার নটীর সাথে
প্রেমেই আছে মা-
বধূ আমার প্রেমের সাথী
প্রেম চরিত্রে গা।
প্রেম আকাশে, প্রেম বাতাসে
প্রেম আলোতে সুর;
প্রেমের রাতে তারার মাঝে
আমি স্বয়ম্ভু।

 

Thursday, October 14, 2021

"প্রকাশ'

"প্রকাশ"
- পুলক সাঁপুই।

মুক্ত পথে যুক্ত হতে
প্রেমের বাঁধনে বাঁধি;
এই গরিমায় মেতেছে মন
মেঘপুঞ্জে ভাসি।
শরতের আকাশে মন
বাদল গিয়েছে কেটে,
হেমন্তের কুয়াশায় সাথে
মিসেছি শিশির বিন্দুতে।
শীতের আঙিনায় বাতাসের সাথে
উচ্ছাস খেলে যায় হৃদয় মাঝে,
বসন্তের রঙে রাঙাতে
রঙধনু রঙে আঁকি ছবি।
গ্রীষ্মের তাপে তপ্ত হয়ে
কর্মশক্তিতে প্রকাশ করি,
বর্ষার সাথে কিশলয় সবুজে
জীবনের পথে নিজেকে প্রকাশ করি।

 

"মায়া"

"ওরে, সবই মায়া, মায়া ছাড়া কিছু নয়,
মায়াতে সকলেই রয়।" - অনেকেই বলে;
আমি বলি; - "ওরে, মায়া বলে কিছু না হয়,
সবই স্বার্থের খেলা, স্বার্থ ফুরালে সেথায় -
সেই মায়া রূপান্তরিত হইবে শত্রুতায়।"


****

আপন সুখ সম্পূর্ণতা পেতে যাহার সনে;
মায়ার বাঁধনে মিলিবে সেথায় একত্রে।
যখনই দেখিবে সেই সুখ শূন্য হতে যায়,
সেই মায়া যাইবে অস্তাচলে প্রায়।
মায়া খুঁজিবে অন্য কোনও পথ;
বাঁধনে বাঁধিতে আপনারে বারে বার।



 

Friday, October 8, 2021

"আবেগ"

"আবেগ"
- পুলক সাঁপুই
০৯-১০-২০২১

আমি আছি প্রেমধারায়।
প্রেম-ই আমার আবেগের প্রস্রবণ,
আবেগ দেখায় কর্মের পথ;
আবেগ কাঁদায়; আবেগ-ই হাসায়,
আবেগ-ই করে আপন পর;
আবেগ আমার সৃষ্টির ঈশ্বর-
আবেগ আমার চলার পথ।
আবেগ ছাড়া মৃত সবাই!
হয়ে এই চরাচর।

 

Monday, October 4, 2021

"প্রেম"

"প্রেম"
- পুলক সাঁপুই

তোমাকে পেয়েছিলাম এক অরণ্যে,
আধো শোয়া বিশ্রামের ভঙ্গিতে ডেকেছিলে কাছে,
নিবিড় ভাবে পাবো বলে বাড়িয়েছিলাম হাত,
ধরা দিলে আমার বাহুডোরে,
চোখে চোখ রেখে কতো কথা হলো দুজনায়,
প্রেম যখন সপ্তসুরে চড়েছে প্রায়-
তোমার মাথার চুলের সুঘ্রাণ নিই,
তোমার নাকের নথ; আমার ঘামে ভেজে,
ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁতে চায়; চুম্বনের মুহূর্তে-
ঘুম ভেঙ্গে যায়। হায়! অতৃপ্ত মন!
তুমি মনের সবটায়।

 

Sunday, October 3, 2021

"ঈশ্বর"

"ঈশ্বর"
-পুলক সাঁপুই।

মানুষের ঈশ্বর আছে,
আছে ঈশ্বর এদের ও:-
জোঁক, জোনাকি, জলহস্তী ইত্যাদি।
মশার ঈশ্বর সৃষ্টি করেছে মশাকে,
মানুষের হাতের তালিতে মরলে যাবে স্বর্গে,
অপ্সরীদের নাচ দেখে, তারা ও তালি দেবে এমনই।
গরুর ঈশ্বর বলেছে তাদের ধর্মে যাদের হবে কুরবানী,
জাহান্নামে যাবে তারা, গরম তেলে জ্বলবে সর্বক্ষণই।
শুয়োরের ধর্মে আছে, সোয়াইন ফ্লু ছড়ালে পরে,
স্বর্গসম সুখ পাবে সহস্র সন্তান প্রসব করে।
আবার, এমিবার ঈশ্বরের বিধান আছে, মানুষের ক্ষতি করে, সারাজীবন থাকিবে সুখে,
মানুষের অস্তিত্ব রহিবে যত দিনে।
সকল জীবের ঈশ্বর আছে তাদের মতো,
যেমন, মানুষের ঈশ্বর ভিন্ন ধর্ম মতে।
জন্তু, জানোয়ার, কীট, পতঙ্গ, পাখি
জীবকুলে যত আছে হরেক প্রজাতির।
তাই বলি, ওরে ধার্মিক ভাই
ঈশ্বর কাহারো ব্যক্তিগত নাহি হয়।
তেমনই ধর্ম নহে নিজস্ব কাহারো
ধার্মিকের ঈশ্বর নয়, নয় ধার্মিকের পিতৃপুরুষের।
ধর্ম প্রবর্তকদের পিতৃপুরুষের ধর্ম যদি আলাদা হয়!
তবে, কেমন করে ধার্মিকের ধর্ম হয় নিজের!?
ঈশ্বর থাক অন্তরে, মানব ধর্ম পালনে।

 

Thursday, September 23, 2021

"ঈশ্বর ও ধর্ম"

"ঈশ্বর ও ধর্ম"
-পুলক সাঁপুই।

ধর্মের বোঝা চাপিয়ে মাথায়, পাপ-পূর্ণের থলি নিয়ে পিঠে,
মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে, মানবতা রাখে পদতলে।
কোনো এক যুগ হতে, এক গোষ্টি ভিন্ন গোষ্টি থেকে পৃথক বোঝাতে, বা-
এক ধারায় গোষ্ঠীকে রক্ষা করতে,
ঈশ্বরের নামে ভিন্ন ধর্মের উৎপত্তি; ভিন্ন দর্শনে ও মতবাদে।
আজ এই আধুনিক সমাজে, বিজ্ঞানের আলো যেথা মানুষের মাঝে,
ধর্মের প্যাঁচে মানুষ জড়িয়ে নিজেকে,
ধর্ম-ব্যবসায়ী ও রাজনীতির ফাঁদে আছে পড়ে সমাজের চাপে।
ধর্মীয় মাতাল এখন আলোতে না অন্ধকারে?
ধর্ম কি সত্যিই মানুষের প্রয়োজন হতে পারে?
মানুষ হয়ে মানবধর্ম কাকে বলে তবে?
দ্বন্দ্ব সেথায়! সংখ্যাগরিষ্ঠের  অত্যাচার সংখ্যালঘুদের পরে।
নিশান ওড়ায়, শান্তির ধর্মের নামে আত্মহংকারে।
ঈশ্বরের ইবাদত- এমনই কি সঠিক ধর্মের নামে?
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ছাড়া আছে কি প্রয়োজন মানুষের?
ধর্মের নামে স্বার্থ খুঁজে কি লাভ পায় সমাজে?
আপন মনে ঈশ্বর রেখে মানবধর্মে পথ চলি মানুষ হয়ে বেঁচে।

 

Monday, September 20, 2021

"পাখি ও মেয়ে

"পাখি ও মেয়ে"
-পুলক সাঁপুই

চার দেওয়ালে বন্দি এক মেয়ে
স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্যাখে -
কাটে না সময় একা ঘরে, তাই -
শখ করে এক পাখি পোষে,
রাখে খাঁচায়, দেয় দানা-পানি ভালোবেসে;
অহরহ কথা বলে, সময় পেলেই -
স্বাধীনতা কাকে বলে, বোঝায় পাখিটিকে,
বলে;- "সুখের নামে স্বার্থ খোঁজে মানুষ,
তাই, রয়েছি বন্দি হয়ে এ সংসারে,
ভালোবাসার নামে পাই অলঙ্কার, হৃদয়ের নাই সন্মান।
শুধু পালঙ্কে ভালোবাসার উচ্ছাস দেখি;
মৌনতা বাধ্য হেথায়, সুখের নামে অত্যাচারে।"
পাখিটি শোনে, কি বোঝে কি না বোঝে!?
শুধু ডানা ঝাপটায়, হয়তো বোঝাতে চায়  সে-
অন্যের সুখের স্বার্থে, কেন সে বন্দি খাঁচায়!!

 

Saturday, September 18, 2021

"ধর্ম ও কর্ম"

"ধর্ম ও কর্ম"
-পুলক সাঁপুই

ধর্ম একটা আফিং বা ড্রাগসের নেশার সমগোত্র।
মানবিকতাকে নষ্ট করার সহজ পন্থা ধর্মের বিষ।

সবদেশের রাজনীতির হাতিয়ার ধর্ম নয়,
যেখানে যতবেশি ধর্ম নিয়ে উন্মাদনা,সেখানেই ধর্ম ততবেশি হাতিয়ার।
আর যারা হাতিয়ার বানায় তারাই উন্মাদনা জিইয়ে রাখে সবসময়।
ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে রাজনীতি,সে রাজনৈতিক সকল মৃত্যুর দায় ধর্মের।

আমি ধর্মের রঙ বিশ্বাস করি না।
আমি বিশ্বাস করি মানুষ হয়ে বেঁচে মানবধর্ম পালন করতে।
কর্মের মাধ্যমে ধর্ম পালন।

ধর্ম মানুষের প্রধান বাঁচার উপায় নয়, কর্ম প্রধান।
জন্মের পর থেকেই কথা ফুটতে না ফুটতে ধার্মিক বানানোর রীতি চলে আসছে। তাই যারা রাজনীতি করে, যাদের জায়গা-জমি আছে, যারা খেলাধুলা করে, যারা বিয়ে বাড়িতে গোশতের টুকরা নিয়াও মারামারি খুনোখুনি করে সকলেই ধার্মিক। কারন;- ধর্ম আমাদের যুদ্ধ শিখিয়েছে। তাই আমরা গর্ব করে বলি, দুনিয়াতে শান্তি কায়েমের জন্য যুদ্ধ হয়েছে। তাই যুদ্ধ করে বাঁচতে চাই। যুদ্ধ করে সুখের আলো দেখতে চাই।হিন্দু, মুসলিম, গ্রিক ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থে যুদ্ধের কাহিনী দেখে উৎসাহিত হই।
তাই ধর্ম বিস্তার ও শান্তির জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ধার্মিকরা সংখ্যালঘু ধার্মিকদের উপর অত্যাচার করি। আমরা ধর্মগ্রন্থ থেকেই এই শিক্ষাই নিয়েছি।
ধর্ম গুরুরা আমাদের হয়তো কোন মানবিক আচার আচরণ শেখায় না, তাই হয়তো আমরা মানুষ হয়ে ও মানবিক নয়।
আমরাই ধর্মের নামে জাল-জুয়াচুরি, চালাকি করে বেড়াই। সত্যিই যদি মানুষ, -ধর্ম পালন না করে মানবিক ধর্ম পালন শিখতে পারতো, মুক্তমনা হতে পারতো,- তবে কি রাজনীতিতে এতো নোংরামি ও মারামারি হতো?? জায়গা-জমি নিয়ে মারামারি থাকতো?? খেলাধুলা, বিয়ে বাড়িতে গোশতের টুকরা নিয়াও মারামারি খুনোখুনি হতো কি??
ধর্ম আমাদের জন্মগতভাবে বিভ্রান্ত পথে চালনা করে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ও ধর্মের লোভ দেখিয়ে।
ধর্ম আমাদের মানবিকতা শেখায় না। শেখায় লড়াই করা, ছিনিয়ে নেওয়া, অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করা।
ছোট ছোট বয়স থেকেই ধর্ম শিক্ষা দেওয়া হয়, কিন্তু ওই বয়স থেকেই যদি মানবিক শিক্ষা দেওয়া হয়, তবে এমন অরাজকতা দেখতে হতো না তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
জাপান বা প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে মানবিক শিক্ষা দেওয়া হয় ছোট বয়স থেকেই।
যারা সুশিক্ষা দিবে তাদের ও সমপরিমাণ মানবিক হওয়ার প্রয়োজন।

মানুষকে ধার্মিক না হয়ে, মানুষ হয়ে মানবিক হওয়ার প্রয়োজন অনেক বেশি।
মানুষের জ্ঞান ও চেতনার প্রয়োজন....
ধার্মিকরা দেখি রাস্তায় রাস্তায় ধর্মীয় স্থানে ধার্মীকের সঙ সেজে ঘুরে বেড়াতে, তাদের মধ্যে না আছে জ্ঞান, না আছে চেতনা।

সত্যি বলতে কি, সারা দেশ ঘুরলে একটা সঠিক ধার্মিক মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
দুঃখের বিষয় প্রতিটা ধার্মিক তাদের নিজেদের ধর্মকে "মহান ধর্ম", "শান্তির ধর্ম", বলে শিয়ালের মতো হুক্কা-হুয়া রবে চিৎকার করছে,
     পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম গ্রন্থে পৃথিবীর সমস্ত ভালো ভালো উপদেশ লেখা আছে....
তবুও প্রকৃত ধার্মিক মানুষ খোঁজ নিতে গেলে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও লজ্জা পাবে।
মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে, মানবতাবাদী হওয়া প্রয়োজন, ধার্মিক নয়।
সুবিধাবাদী মানুষেরা ধার্মিকতার ভান করে, পোশাক পরে থাকে,
মানবিক মানুষদের তার প্রয়োজন হয় না।
মানুষ হয়ে মানবিক পথে চলার জ্ঞান বা চেতনার প্রয়োজন।
সেই চেতনা বা জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে ধার্মিক নয়।
মানবিকতা চাই।

মানুষ, মানুষ হয়ে জন্ম জন্মগ্রহণ করে, পরে ধার্মিক তৈরি হয় পরিবারের ও সমাজের চাপে।
মানুষ মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই মহান হতে পারে, ধার্মিক হয়ে নয়।
তাই, ধার্মিক নয় একটু মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে মানুষের সাথে মানুষ হয়ে ব্যবহার করলে, এবং নিজের অন্তরাত্মায় ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা করে নিষ্ঠার সঙ্গে ভক্তি করলে মানবতার জয় হবে।
মানুষের মাঝেই ঈশ্বর বিদ্যমান। পাথর, কাঠ, মাটি, মূর্তিতে ঈশ্বর থাকে না।

 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...