"ধর্ম ও কর্ম"
-পুলক সাঁপুই
ধর্ম একটা আফিং বা ড্রাগসের নেশার সমগোত্র।
মানবিকতাকে নষ্ট করার সহজ পন্থা ধর্মের বিষ।
সবদেশের রাজনীতির হাতিয়ার ধর্ম নয়,
যেখানে যতবেশি ধর্ম নিয়ে উন্মাদনা,সেখানেই ধর্ম ততবেশি হাতিয়ার।
আর যারা হাতিয়ার বানায় তারাই উন্মাদনা জিইয়ে রাখে সবসময়।
ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে রাজনীতি,সে রাজনৈতিক সকল মৃত্যুর দায় ধর্মের।
আমি ধর্মের রঙ বিশ্বাস করি না।
আমি বিশ্বাস করি মানুষ হয়ে বেঁচে মানবধর্ম পালন করতে।
কর্মের মাধ্যমে ধর্ম পালন।
ধর্ম মানুষের প্রধান বাঁচার উপায় নয়, কর্ম প্রধান।
জন্মের পর থেকেই কথা ফুটতে না ফুটতে ধার্মিক বানানোর রীতি চলে আসছে। তাই যারা রাজনীতি করে, যাদের জায়গা-জমি আছে, যারা খেলাধুলা করে, যারা বিয়ে বাড়িতে গোশতের টুকরা নিয়াও মারামারি খুনোখুনি করে সকলেই ধার্মিক। কারন;- ধর্ম আমাদের যুদ্ধ শিখিয়েছে। তাই আমরা গর্ব করে বলি, দুনিয়াতে শান্তি কায়েমের জন্য যুদ্ধ হয়েছে। তাই যুদ্ধ করে বাঁচতে চাই। যুদ্ধ করে সুখের আলো দেখতে চাই।হিন্দু, মুসলিম, গ্রিক ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থে যুদ্ধের কাহিনী দেখে উৎসাহিত হই।
তাই ধর্ম বিস্তার ও শান্তির জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ধার্মিকরা সংখ্যালঘু ধার্মিকদের উপর অত্যাচার করি। আমরা ধর্মগ্রন্থ থেকেই এই শিক্ষাই নিয়েছি।
ধর্ম গুরুরা আমাদের হয়তো কোন মানবিক আচার আচরণ শেখায় না, তাই হয়তো আমরা মানুষ হয়ে ও মানবিক নয়।
আমরাই ধর্মের নামে জাল-জুয়াচুরি, চালাকি করে বেড়াই। সত্যিই যদি মানুষ, -ধর্ম পালন না করে মানবিক ধর্ম পালন শিখতে পারতো, মুক্তমনা হতে পারতো,- তবে কি রাজনীতিতে এতো নোংরামি ও মারামারি হতো?? জায়গা-জমি নিয়ে মারামারি থাকতো?? খেলাধুলা, বিয়ে বাড়িতে গোশতের টুকরা নিয়াও মারামারি খুনোখুনি হতো কি??
ধর্ম আমাদের জন্মগতভাবে বিভ্রান্ত পথে চালনা করে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ও ধর্মের লোভ দেখিয়ে।
ধর্ম আমাদের মানবিকতা শেখায় না। শেখায় লড়াই করা, ছিনিয়ে নেওয়া, অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করা।
ছোট ছোট বয়স থেকেই ধর্ম শিক্ষা দেওয়া হয়, কিন্তু ওই বয়স থেকেই যদি মানবিক শিক্ষা দেওয়া হয়, তবে এমন অরাজকতা দেখতে হতো না তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
জাপান বা প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে মানবিক শিক্ষা দেওয়া হয় ছোট বয়স থেকেই।
যারা সুশিক্ষা দিবে তাদের ও সমপরিমাণ মানবিক হওয়ার প্রয়োজন।
মানুষকে ধার্মিক না হয়ে, মানুষ হয়ে মানবিক হওয়ার প্রয়োজন অনেক বেশি।
মানুষের জ্ঞান ও চেতনার প্রয়োজন....
ধার্মিকরা দেখি রাস্তায় রাস্তায় ধর্মীয় স্থানে ধার্মীকের সঙ সেজে ঘুরে বেড়াতে, তাদের মধ্যে না আছে জ্ঞান, না আছে চেতনা।
সত্যি বলতে কি, সারা দেশ ঘুরলে একটা সঠিক ধার্মিক মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
দুঃখের বিষয় প্রতিটা ধার্মিক তাদের নিজেদের ধর্মকে "মহান ধর্ম", "শান্তির ধর্ম", বলে শিয়ালের মতো হুক্কা-হুয়া রবে চিৎকার করছে,
পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম গ্রন্থে পৃথিবীর সমস্ত ভালো ভালো উপদেশ লেখা আছে....
তবুও প্রকৃত ধার্মিক মানুষ খোঁজ নিতে গেলে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও লজ্জা পাবে।
মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে, মানবতাবাদী হওয়া প্রয়োজন, ধার্মিক নয়।
সুবিধাবাদী মানুষেরা ধার্মিকতার ভান করে, পোশাক পরে থাকে,
মানবিক মানুষদের তার প্রয়োজন হয় না।
মানুষ হয়ে মানবিক পথে চলার জ্ঞান বা চেতনার প্রয়োজন।
সেই চেতনা বা জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে ধার্মিক নয়।
মানবিকতা চাই।
মানুষ, মানুষ হয়ে জন্ম জন্মগ্রহণ করে, পরে ধার্মিক তৈরি হয় পরিবারের ও সমাজের চাপে।
মানুষ মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই মহান হতে পারে, ধার্মিক হয়ে নয়।
তাই, ধার্মিক নয় একটু মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে মানুষের সাথে মানুষ হয়ে ব্যবহার করলে, এবং নিজের অন্তরাত্মায় ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা করে নিষ্ঠার সঙ্গে ভক্তি করলে মানবতার জয় হবে।
মানুষের মাঝেই ঈশ্বর বিদ্যমান। পাথর, কাঠ, মাটি, মূর্তিতে ঈশ্বর থাকে না।

No comments:
Post a Comment