Sunday, December 15, 2024

আনু গল্প - "অন্ধের লাঠি"

"অন্ধের লাঠি- ২"

কথায় বলে; - অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন।
এই ছেলেটির নাম পদ্মলোচন, সে অন্ধ।
সমাজ থেকে সে নিজেকে গুটিয়ে রাখে আলাদা করে।
সে তার কল্পনার পৃথিবী গড়ে চলেছে নতুন সম্ভাবনার আশায়।
সে ঘুরে বেড়ায় নদী চরে, পথে-ঘাটে, বনে-জঙ্গলে।
কোনো এক দিন নদীর পাড় থেকে এক অদ্ভুত লাঠি পায় সে।
পদ্মলোচন মনে মনে ভাবলো হয়তো তার জন্য আবহমানকাল ধরে অপেক্ষা করে আছে এই লাঠিটি।
সে লাঠি ধরে এগিয়ে চলে।
লাঠিকে সাথে নিয়ে তার কল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকে সন্তর্পণে নিঃশব্দে প্রাকৃতিক প্রেমের পথে।
লাঠি হয়ে উঠলো তার আপনজন। লাঠির উপর তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকলো।

পদ্মলোচন লাঠিকে স্পর্শ করে অনুভূতি নিতে থাকে প্রতিদিন; - লাঠির গঠন বক্রতা মসৃনতা ও নকশা করা কারুকার্য তার প্রসন্নতা যোগায়।

প্রতি মুহূর্তে লাঠির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে রূপ দিতে প্রচেষ্টা সে।
লাঠির সঙ্গে বকবক করে চলে নিজ মনে প্রতিদিন।
দিন যায় মাস যায় বছর যায়, সময়ের সাথে বাস্তবতার বদল হয়।
পদ্মলোচন অনুভব করে লাঠির রুক্ষতা বেড়ে চলেছে ক্রমাগত।
কোনোও এক বিকালে সূর্য অস্ত প্রায়,
পদ্মলোচন বসে খরস্রোতা নদীর পাড়ে।
লাঠি যায় ছেড়ে হাত থেকে নদীতে পড়ে।
সে তৎক্ষণাৎ ধরতে পা বাড়ায় সামনের দিকে। হুমড়ি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। পাথরে আঘাত লাগে দুই চোখে।
লাঠি যায় ভেসে দূরে নাগালের বাইরে।
পদ্মলোচন আঘাত ও যন্ত্রণা নিয়ে ফিরে যায় ঘরে। সে মনে মনে ভাবে; যার চোখ থেকেও নেই সেই যন্ত্রণার মূল্য কিছুই নেই।
দুঃখ করার ও কিছু নেই।

নদী থেকে পাওয়া লাঠি নদীতেই গিয়েছে ভেসে,
শূন্যের সাথে শুন্য বিয়োগে শূন্যই পড়ে থাকে।

অলৌকিক ভাবে পদ্মলোচন ফিরে পায় তার দৃষ্টিশক্তি এই আঘাতের কারণে।
আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে নেচে ওঠে।
সে মনে মনে লাঠিকে সন্মান জানায় ও কৃতজ্ঞ থাকে লাঠির কাছে।
লাঠি দিয়ে গেছে প্রতি মুহূর্তে অনেক কিছুই যা হৃদয়ে আছে জুড়ে।
পদ্মলোচন আজও ঘুরে বেড়ায় নদী-জঙ্গল-রাস্তায়।
দুচোখ ভরে দেখে প্রকৃতির রূপ, তার প্রেম আজ প্রকৃতির মাঝে সমর্পিত।।
সে সাক্ষী হয়ে চলেছে বহির্দৃষ্টির সাথে অন্তর্দৃষ্টির পথে।
______________

"অন্ধের লাঠি-১"

নাম সোহানী। মেয়েটি অন্ধ। 
কাছের মানুষ সাথে থেকেও সে একা। 
তাই সে নিজের পৃথিবী গড়ে চলেছে তার লাঠির সঙ্গে। 
পথের সাথী হয়ে পথ দেখায় তার প্রিয় লাঠি। 
বাস্তবতা বদলায় সময়ের সাথে। 
প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বদল করে সে লাঠিকে পুরানো থেকে নতুনে। 
সে জঙ্গলে জঙ্গলে খুঁজে বেড়ায় কোনোও গাছের ভাঙ্গা ডাল। 
সেই ডাল থেকে নতুন লাঠি বানিয়ে নেয় পথ চলার সাথি হিসাবে পুরানো লাঠিকে পরিত্যাগ করে।
সোহানী গল্প করে আর তত্ব কথা কয় লাঠির সঙ্গে। এমন ভাবে দিন যায়। 
কোনো এক দিন সোহানী খুঁজে পায় এক জংলী ও অদ্ভুত গাছের ডাল। সেই ডালকে তার প্রয়োজনের লাঠি হিসাবে ব্যবহার করে।
সেই লাঠি তার জীবনের অনন্য সঙ্গী হিসাবে গড়ে ওঠে। 
সোহানী সেই লাঠির নাম দেয় জাদু লাঠি। এমনই করে দিন, মাস, বছর বছর গড়ায়।
কোন এক দৈবক্রমে সোহানীর জাদু লাঠির খোঁচা লাগে সোহানীর অন্ধ দু'চোখে। 
রক্তের ধারা বহে। 
ব্যথায় অস্থির সোহানী। কান্নায় ভেংগে পড়ে সে।
ত্যাগ করে লাঠিকে। 
সেই জাদু লাঠির খোঁচায় সোহানী চোখের দৃষ্টি পায়। 
আজ সেই লাঠি পরিত্যাক্ত কোনো এক আবর্জনার স্তূপে অন্য লাঠিদের মতো।
আজ সোহানী দু'চোখ চেয়ে চেয়ে দেখে পৃথিবীকে, অবাক দৃষ্টিতে। আজ সে আনন্দে দিশে হারা। 
গ্রাম জঙ্গল ছেড়ে শহরের অভিমুখে সোহানী চলেছে।
সে আজ হেঁটে বেড়াচ্ছে শহরের রাজপথে জীবনসঙ্গীর খোঁজে।



Tuesday, December 10, 2024

কবিতা

'অস্তিত্ব'

মুক্ত মনে চলেছি পথ
টক, ঝাল, মিষ্টি, নোনতা, তিতা,
রেখে যাই স্বাদ রকমারি।
পক্ষান্তরে পাই প্রেম, উপেক্ষা, সৌজন্যতা, দয়া, ক্ষমা ইত্যাদি
আকার, আয়তনে হরেক রঙের হরেক ফানুস।
আত্মঅহংকার শূন্যের প্রচেষ্টায়
মানবের মাঝে এখানে-সেখানে তরল হয়ে বর্তমানে।
নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে সাক্ষী হই অন্তরাত্মার কাছে।

- পুলক সাঁপুই 


Monday, September 16, 2024

পাগল ভৈরব -৩৪

পাগল ভৈরব -৩৪

প্রায় সন্ধ্যা নামে, কেউ কোথাও নেই
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, বালুচর,
বাতাস বহে জোরে, ভাঙা নৌকায় বসে
পাগল ভৈরব গুনগুনিয়ে গান গায়।

অনেক দিন পর পাগলকে পেয়ে পাগল হই 
কাছে গিয়ে বলি; -
কি করিস পাগল এই অন্ধকারে?
খিকখিকিয়ে হেসে আমার দিকে চেয়ে বলে; -
ওহে; বই পোকা নয়, শ্যামা পোকা হ 
অন্ধকারে নয়, আলোর পথে যা।
অবাক হয়ে বলি; -
এ কেমন কথা! বুঝিয়ে বলতো দেখি।

পাগল মাথা ঝাঁকিয়ে দাড়ি নেড়ে দাঁত বার করে বলে; -
শিক্ষার সততা প্রকাশ না করে, ডিগ্রিধারি হয়ে
আপন আত্মাকে অন্ধকারে রেখে সমাজ নষ্ট করে যে,
সেই ই বই পোকা, বইয়ের মহত্ত্ব খেয়ে।

একটু থেমে, পকেট হাতড়ে এক পোড়া বিড়ি বার করে।

পুবের আকাশে সোনালী চাঁদ
জলে সোনা গলে চকচক করে।

জ্বালিয়ে বিড়ি সুখটানে, ধোঁয়া ছেড়ে বলে; -
অনন্ত অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যা
সত্যিকারের মানুষ হতে।
কার্তিক মাসে ঘুটঘুটে অন্ধকারে 
শ্যমাপোকা যেমন আসে ধেয়ে
দীপাবলির আলোর উৎযাপনে।

- পুলক সাঁপুই।



Tuesday, May 14, 2024

মন মাঝি

"মন মাঝি"

মাঝি তুই গেলি চলে অমন করে, একলা পড়ে রই,
সন্ধ্যা নামে, ভাটার টানে, আমার তুই কই?
জানি তুই নয় যে আমার, আমি তোর নই,
আমার আমি নই যে আমি, কেমনে তোর হই!
লোকে বলে - মনটা নাকি দেওয়া নেওয়া যায়,
মিথ্যা কথা! এমনতরো হয় কখনো? কেমন করে বল?
'মনের আমি, মনের তুমি,' ছিঃ ছিঃ একি কথা!
মন কি কারোর কেনা গোলাম! কেনা-বেচা যায়?

ধরেই নিলাম 'মন' বলে সত্যই কিছু থাকে,
তোর মন তুই সাজিয়ে রাখ-
ফুলদানীতে ফুলের সাথে সাথে,
দেখবি তখন, সুগন্ধে মন ভরিয়ে রাখবে তোকে।
আমার মন থাকলে পরে বিদায় দেবো তারে 
পাথর বেঁধে ফেলবো তারে গভীর জলাশয়ে।
একা বসে রইলাম পাড়ে, তোর ফেরার পথ যাচি,
আয়রে ফিরে আমার তরে, ওরে আমার মাঝি।
#পুলক_সাঁপুই 

Sunday, April 28, 2024

"আজগুবি"

"আজগুবি" 

এক গ্লাস জল নিয়ে যেতে 
হঠাৎ হোঁচট খাই, 
টলমল টলমল জল উছলে পড়ে, হায়!
যা হবার হয়েছে; তবে, প্রশ্ন আসে মনে
জলের বদলে থাকলে অন্য কিছু
কেমন হতো তবে?
দুধ কিংবা শরবত বা কফি হতে পারে 
যেটাই হতো সেটাই পড়ত উছলে
হোঁচট খেলে পরে।
আমি যদি গ্লাস হতাম -
কেমন হতো তবে?
আমার মাঝে যাহা রইবে 
তাহাই পড়বে ঝরে।
রেগে থাকলে বিরক্তি প্রকাশ 
দুঃখে থাকলে ভ্যাঁ,
শান্ত থাকলে বলি যা হয়েছে হবার, 
সুখী থাকলে উড়িয়ে দিতাম তা,
কবি হলে লিখে নিতাম এমন কবিতা।

#পুলক_সাঁপুই 

Sunday, January 21, 2024

"পাগল ভৈরব -১"

"পাগল ভৈরব - ১"
- পুলক সাঁপুই 

পাগল ভৈরব উঠেছে আজ ক্ষেপে,
পাঁচ মাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে বলছে চেঁচিয়ে,
ওরে শোন তোরা এই দিকে-
তোরা জন্মেছিস কেন?
কি আছে তোদের বেঁচে থাকার মানে?
উত্তর দিয়ে যা রে ভাই; তোদের কাজের মাঝে...
এই ধরণীর কিছু কি উপকার হবে তোদের জনমে?
শুনে চমকাই! রাগ হয় মনে মনে
এমন পাগলের পাগলামীর সীমা নেই দেখি-
চড়িয়ে দিই বুঝি; দুই থাপ্পড় বা কিল-ঘুষি।
শেষে। পাগলের প্রলাপ বলে মৃদু হেঁসে যাই পাস কাটিয়ে। 

ঘরে ফিরি। বসি রকে একা গা এলিয়ে; সন্ধ্যার অন্ধকারে।
দূরে ঝাপসা দেখায় সবকিছু-
চাঁদ ওঠে পূবে নিম গাছের ফাঁক দিয়ে।
ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক ভেসে আসে কানে
পাগল ভৈরবের কথা মনে পড়ে,
তাই; তার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজি মনে মনে। 

"সবই ঈশ্বরের খেলা, সে যেমন চালায় চলছে এই ধরা।"
এটা আমার নয়, ধার্মিকের গলা-
"মানুষ হয়ে জন্ম; কারণ;-
সংসার জীবন, বাচ্চা বিয়ানো, সুখ ও স্বার্থ পূরণ; অবশেষে মৃত্যু বরণ,
মৃত্যুর পরে ও কিছু নির্বোধ পেতে চায় স্বর্গ বা জান্নাতের সুখ। হায়! 

নিরীশ্বরবাদী আমি; তাই বারবার চিন্তা করি,
পাগল ভৈরবের উওর খুঁজি;-
জীব শ্রেষ্ট মানুষ হয়ে জন্ম, বল-বুদ্ধিতে সবই রাখে পদতলে,
মুষ্টিতে করিতে সবকিছু; দাপিয়ে বেড়ায় গ্রহ উপগ্রহ,-
এমন মননে রেখে আপনারে, 
উত্তরণ করিতে প্রেম ধারায় আপন সৃজনে 
মানুষের মাঝে কাজ করতে অভিপ্রায়।
যতটুকু আছে এই ক্ষুদ্র প্রাণে,
আপনার মাঝে জ্বালিয়ে প্রদীপ; ধরিতে আলো,
পুড়িয়ে আগরবাতি ছড়িয়ে সুরভি,
মানুষের মাঝে চলিবার পথে,
রাখিতে দেহ এই প্রকৃতিতে।


 

Wednesday, April 19, 2023

পাগল ভৈরব - ৩৩

পাগল ভৈরব - ৩৩

অনেক দিন পর পাগল ভৈরবের দেখা পাই,
পেঁচা ও বিড়ালের সঙ্গে সন্ধ্যায় বট গাছ তলে।
জিজ্ঞেস করি - এই আঁধারে তিন নিশাচর, কি করো?
পাগল কয়, - পোকা খুঁজি পেঁচার পালকে,
বিড়ালের লোমে ও আমার দাড়িতে। - হা হা হা, 
- তোর প্রশ্ন যদি থাকে বলে, নইলে বিদেয় হ।
আমি পড়ি ধন্ধে, হটাৎ মগজে আসে প্রশ্ন,
বলি - প্রেম সমন্ধে যদি কিছু বলো, রাখবো তাহা স্মরণে।
ভৈরব শুরু করে -

প্রেম একটা আবেগ। যা ঐশ্বরিক।
প্রেম উদযাপনে পূর্ণতা পেতেই জীবন করে আনচান।

মানুষ প্রতিটা সময় একা, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত,
 তাই সাথী খোঁজে প্রেমে নিজেকে রাখতে।

 ভালোবাসায়- মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধু, স্ত্রী, স্বামী, ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন রূপ
বাস্তবতার নিরিখে জীবনে এগীয় চলার পথে।
প্রেম একক ভাবে শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য।

প্রেমহীন মানুষ নেতিবাচক মনোভাবে জীবন যাপন করে অধিকাংশ সময়, 
কারণ তাঁরা হতাশায় ভোগে।
অন্যের সুখে নিজেরাই পীড়িত হয়।

বাঁচার রসদ প্রেম, প্রেম শক্তি, প্রেমেই মুক্তি।
প্রেম কর্ম, প্রেমই জ্ঞান। 
প্রেম ভক্তি, প্রেমই আনন্দ। 
প্রেম এগীয়ে চলার পথ।

প্রেম মানুষকে দিতে শেখায়, কেড়ে নিতে নয়।
           সৎ কর্ম, জ্ঞান ও প্রেম ভক্তির সমাহার সচ্চিদানন্দ।
             প্রেমাময় প্রেম সাগরে প্রেমের মানুষ ভেসে বেড়ায় এই চরাচরে।

এই বলে ভৈরব অন্ধকারে হাঁটা দেয়,
পেঁচা উড়ে যায়, বিড়াল দৌড়ায় পিছে।।

- পুলক সাঁপুই।

Tuesday, April 18, 2023

"চিরবসন্ত বিরাজে হৃদয়ে"

গ্রীষ্মের দুপুরে গাছের আলোছায়া খেলা করে
দমকা হাওয়ায় জানায় বসন্তের রেশ,
বর্ষার গুরুগম্ভীর মেঘেদের সাথে -
ঝরঝর বৃষ্টির আবেশে মন প্রেমের বসন্তে।
শরতের নির্মল নীলিমায় উদাসি মন 
বসন্ত বয়ে যায় দিগন্ত রেখায়,
হেমন্তের শিশিরে ঘাসের আগায় অজস্র বিন্দু -
বিচ্ছুরিত হয় সূর্য কিরণে প্রেম বসন্তে।
শীতের উষ্ণতা পেতে খুঁজি প্রেমিকাকে
কামনায় প্রেমের ছোঁয়া পেতে বসন্ত বেলায়,
বসন্ত, চির যৌবনা তুমি ঋতুরাজ 
বাস্তবে আছ সতত আশাবাদী হৃদয়ে।

- পুলক সাঁপুই

Monday, February 6, 2023

বকলম ৪



#বকলম_৪

এক মোরগ দুপুর বেলা ঝুঁটি নেড়ে গেল মাছ শিকারে বন্দুক নিয়ে তালদীঘিতে। সাথে ছিল পুষি বিড়াল হাতে-হাত ধরে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে ঠোঁটে গোলাপী লিপস্টিক লাগিয়ে হেলতে-দুলতে।

একটা চোখ কানা কাতলা মাছ আড় চোখে দেখছিলো সবকিছুই কচুরিপানার আড়াল থেকে।

মোরগ বন্দুক উঁচিয়ে তাক করছিলো কমলা রঙের সরাল পুঁটির দিকে।
ঠিক তখনই আবদার করে পুষি বিড়াল মোরগের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে - "ম্যাওও"।

মোরগ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ট্রিগার দেয় টিপে,
গুড়ুম শব্দে গুলি যায় ছুটে।
লাগে গিয়ে হলুদ এক কামরাঙায়, গাছ থেকে কামরাঙা মাটিতে পড়ে ছিটকে। থেঁতলিয়ে  হয় রসে চটচটে চারিদিকে।

মাছরাঙা ঝোপ থেকে উড়ে যায়, চিৎকার করে গালি দিয়ে বলে - "বোকাপাঁঠা"।

সরাল পুঁটি ভেংচি কেটে সড়াৎ করে যায় পালিয়ে।

কোলা ব্যাঙ কোথা থেকে থপ করে লাফ দিয়ে এসে থ্যাতলানো কামরাঙার রস চাটে
চটাস চটাস করে।

তাল গাছের ফোঁকর থেকে হুতুম পেঁচা চোখ মেলে ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ পাকিয়ে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে বলে;-
"হালায় কামডা করলো কেডা?
যেথায় যেমন - কর গা তেমন
আমায় এহন শুইতা দে।"
এই বলে ফট করে চোখ বন্ধ করে ঘড় ঘড় ঘ্যাড়ত ঘ্যাড় করে নাক ডেকে ঘুমাতে লাগলো।

কানা কাতলা ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে মনে মনে বলে - ল্যা হ্যালুয়া বোঝো ঠ্যালা।

#পুলক সাঁপুই।




Wednesday, February 1, 2023

বকলম ৩

#বকলম

আমি কি মানুষ?
প্রয়োজন নেই জানার, হতেও পারি জানোয়ার!
কি বা আসে যায় এতো ভেবে!
আমি কি ভাবতে পারি? আচ্ছা!
জীবজগতে সকলে কি ভাবতে পারে!?
দূর! আমার মগজ নেই;- এটাই নিই ভেবে,
তবে, সব ল্যাঠা যাবে চুকে।
তবুও কেন অসংখ্য প্রশ্ন জাগে মনে?
প্রশ্নের ছত্রাক ভরে যাক দিগন্তে
আমার অনুভবের প্রয়োজনীয়তা নেই-
পৌঁছাতে যে কোন সিদ্ধান্তে।
ভাষা খুঁজি নিজেকে বোঝাতে
কঠিন অভেদ্য শব্দের প্রয়োগে; -
ষড়যন্ত্রে বরাহ নন্দন হইবে নান্দনিক
ধনাত্মক মননের বিশুদ্ধতায় সুচারু অঙ্কনে।

- পুলক সাঁপুই 

Thursday, January 19, 2023

পাগল ভৈরব ৩২

”পাগল ভৈরব - ৩২”

"মানুষের মূল্য"

শহরের অবহেলিত স্থানে  পরিত্যাক্ত গোরস্থান
জনমানব শূন্য, নিস্তব্ধ, গাছগাছালি ভরা অন্ধকার প্রায়।
দুপুর বেলা ঘূঘুর ডাক, পাগল ভৈরব বসে নিম গাছের তলায়।
প্রশ্ন জাগে মনে, ভৈরবকে সুধাই
মানুষের মূল্য কতো এই চরাচরে!?
পাগল বলে; - মানবিক মূল্যবোধের নিরীখে,
মানুষের কাছে মানুষের মূল্য অনন্ত
এখানে নেই ভেদাভেদ শিশু-বৃদ্ধ, নর-নারী পঙ্গু অথবা দীর্ঘ সহনে মৃতপ্রায়।
মানব প্রেমে সর্বদাই মানুষ একে অপরের সাথে।
প্রকৃতির কাছে অতি তুচ্ছ মানুষ এই প্রাণী জগতে,
বিবর্তনে, - ডাইনোসর কিংবা টুনটুনি অথবা মানুষ
একই পদ্ধতিতে গাঁথা এই দুনিয়া।
অলীক ঈশ্বরের নামে হরেক ধর্ম বিষফোঁড়া হয়ে ওঠে মানবধর্মের  মাঝে।
মানুষের মূল্য খুঁজে পাবে প্রেমে-জ্ঞানে বিতরণে মানুষের মাঝে।

- পুলক সাঁপুই

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...