"পাগল ভৈরব - ১"
- পুলক সাঁপুই
পাগল ভৈরব উঠেছে আজ ক্ষেপে,
পাঁচ মাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে বলছে চেঁচিয়ে,
ওরে শোন তোরা এই দিকে-
তোরা জন্মেছিস কেন?
কি আছে তোদের বেঁচে থাকার মানে?
উত্তর দিয়ে যা রে ভাই; তোদের কাজের মাঝে...
এই ধরণীর কিছু কি উপকার হবে তোদের জনমে?
শুনে চমকাই! রাগ হয় মনে মনে
এমন পাগলের পাগলামীর সীমা নেই দেখি-
চড়িয়ে দিই বুঝি; দুই থাপ্পড় বা কিল-ঘুষি।
শেষে। পাগলের প্রলাপ বলে মৃদু হেঁসে যাই পাস কাটিয়ে।
ঘরে ফিরি। বসি রকে একা গা এলিয়ে; সন্ধ্যার অন্ধকারে।
দূরে ঝাপসা দেখায় সবকিছু-
চাঁদ ওঠে পূবে নিম গাছের ফাঁক দিয়ে।
ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক ভেসে আসে কানে
পাগল ভৈরবের কথা মনে পড়ে,
তাই; তার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজি মনে মনে।
"সবই ঈশ্বরের খেলা, সে যেমন চালায় চলছে এই ধরা।"
এটা আমার নয়, ধার্মিকের গলা-
"মানুষ হয়ে জন্ম; কারণ;-
সংসার জীবন, বাচ্চা বিয়ানো, সুখ ও স্বার্থ পূরণ; অবশেষে মৃত্যু বরণ,
মৃত্যুর পরে ও কিছু নির্বোধ পেতে চায় স্বর্গ বা জান্নাতের সুখ। হায়!
নিরীশ্বরবাদী আমি; তাই বারবার চিন্তা করি,
পাগল ভৈরবের উওর খুঁজি;-
জীব শ্রেষ্ট মানুষ হয়ে জন্ম, বল-বুদ্ধিতে সবই রাখে পদতলে,
মুষ্টিতে করিতে সবকিছু; দাপিয়ে বেড়ায় গ্রহ উপগ্রহ,-
এমন মননে রেখে আপনারে,
উত্তরণ করিতে প্রেম ধারায় আপন সৃজনে
মানুষের মাঝে কাজ করতে অভিপ্রায়।
যতটুকু আছে এই ক্ষুদ্র প্রাণে,
আপনার মাঝে জ্বালিয়ে প্রদীপ; ধরিতে আলো,
পুড়িয়ে আগরবাতি ছড়িয়ে সুরভি,
মানুষের মাঝে চলিবার পথে,
রাখিতে দেহ এই প্রকৃতিতে।
