Sunday, January 21, 2024

"পাগল ভৈরব -১"

"পাগল ভৈরব - ১"
- পুলক সাঁপুই 

পাগল ভৈরব উঠেছে আজ ক্ষেপে,
পাঁচ মাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে বলছে চেঁচিয়ে,
ওরে শোন তোরা এই দিকে-
তোরা জন্মেছিস কেন?
কি আছে তোদের বেঁচে থাকার মানে?
উত্তর দিয়ে যা রে ভাই; তোদের কাজের মাঝে...
এই ধরণীর কিছু কি উপকার হবে তোদের জনমে?
শুনে চমকাই! রাগ হয় মনে মনে
এমন পাগলের পাগলামীর সীমা নেই দেখি-
চড়িয়ে দিই বুঝি; দুই থাপ্পড় বা কিল-ঘুষি।
শেষে। পাগলের প্রলাপ বলে মৃদু হেঁসে যাই পাস কাটিয়ে। 

ঘরে ফিরি। বসি রকে একা গা এলিয়ে; সন্ধ্যার অন্ধকারে।
দূরে ঝাপসা দেখায় সবকিছু-
চাঁদ ওঠে পূবে নিম গাছের ফাঁক দিয়ে।
ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক ভেসে আসে কানে
পাগল ভৈরবের কথা মনে পড়ে,
তাই; তার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজি মনে মনে। 

"সবই ঈশ্বরের খেলা, সে যেমন চালায় চলছে এই ধরা।"
এটা আমার নয়, ধার্মিকের গলা-
"মানুষ হয়ে জন্ম; কারণ;-
সংসার জীবন, বাচ্চা বিয়ানো, সুখ ও স্বার্থ পূরণ; অবশেষে মৃত্যু বরণ,
মৃত্যুর পরে ও কিছু নির্বোধ পেতে চায় স্বর্গ বা জান্নাতের সুখ। হায়! 

নিরীশ্বরবাদী আমি; তাই বারবার চিন্তা করি,
পাগল ভৈরবের উওর খুঁজি;-
জীব শ্রেষ্ট মানুষ হয়ে জন্ম, বল-বুদ্ধিতে সবই রাখে পদতলে,
মুষ্টিতে করিতে সবকিছু; দাপিয়ে বেড়ায় গ্রহ উপগ্রহ,-
এমন মননে রেখে আপনারে, 
উত্তরণ করিতে প্রেম ধারায় আপন সৃজনে 
মানুষের মাঝে কাজ করতে অভিপ্রায়।
যতটুকু আছে এই ক্ষুদ্র প্রাণে,
আপনার মাঝে জ্বালিয়ে প্রদীপ; ধরিতে আলো,
পুড়িয়ে আগরবাতি ছড়িয়ে সুরভি,
মানুষের মাঝে চলিবার পথে,
রাখিতে দেহ এই প্রকৃতিতে।


 

Wednesday, April 19, 2023

পাগল ভৈরব - ৩৩

পাগল ভৈরব - ৩৩

অনেক দিন পর পাগল ভৈরবের দেখা পাই,
পেঁচা ও বিড়ালের সঙ্গে সন্ধ্যায় বট গাছ তলে।
জিজ্ঞেস করি - এই আঁধারে তিন নিশাচর, কি করো?
পাগল কয়, - পোকা খুঁজি পেঁচার পালকে,
বিড়ালের লোমে ও আমার দাড়িতে। - হা হা হা, 
- তোর প্রশ্ন যদি থাকে বলে, নইলে বিদেয় হ।
আমি পড়ি ধন্ধে, হটাৎ মগজে আসে প্রশ্ন,
বলি - প্রেম সমন্ধে যদি কিছু বলো, রাখবো তাহা স্মরণে।
ভৈরব শুরু করে -

প্রেম একটা আবেগ। যা ঐশ্বরিক।
প্রেম উদযাপনে পূর্ণতা পেতেই জীবন করে আনচান।

মানুষ প্রতিটা সময় একা, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত,
 তাই সাথী খোঁজে প্রেমে নিজেকে রাখতে।

 ভালোবাসায়- মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধু, স্ত্রী, স্বামী, ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন রূপ
বাস্তবতার নিরিখে জীবনে এগীয় চলার পথে।
প্রেম একক ভাবে শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য।

প্রেমহীন মানুষ নেতিবাচক মনোভাবে জীবন যাপন করে অধিকাংশ সময়, 
কারণ তাঁরা হতাশায় ভোগে।
অন্যের সুখে নিজেরাই পীড়িত হয়।

বাঁচার রসদ প্রেম, প্রেম শক্তি, প্রেমেই মুক্তি।
প্রেম কর্ম, প্রেমই জ্ঞান। 
প্রেম ভক্তি, প্রেমই আনন্দ। 
প্রেম এগীয়ে চলার পথ।

প্রেম মানুষকে দিতে শেখায়, কেড়ে নিতে নয়।
           সৎ কর্ম, জ্ঞান ও প্রেম ভক্তির সমাহার সচ্চিদানন্দ।
             প্রেমাময় প্রেম সাগরে প্রেমের মানুষ ভেসে বেড়ায় এই চরাচরে।

এই বলে ভৈরব অন্ধকারে হাঁটা দেয়,
পেঁচা উড়ে যায়, বিড়াল দৌড়ায় পিছে।।

- পুলক সাঁপুই।

Tuesday, April 18, 2023

"চিরবসন্ত বিরাজে হৃদয়ে"

গ্রীষ্মের দুপুরে গাছের আলোছায়া খেলা করে
দমকা হাওয়ায় জানায় বসন্তের রেশ,
বর্ষার গুরুগম্ভীর মেঘেদের সাথে -
ঝরঝর বৃষ্টির আবেশে মন প্রেমের বসন্তে।
শরতের নির্মল নীলিমায় উদাসি মন 
বসন্ত বয়ে যায় দিগন্ত রেখায়,
হেমন্তের শিশিরে ঘাসের আগায় অজস্র বিন্দু -
বিচ্ছুরিত হয় সূর্য কিরণে প্রেম বসন্তে।
শীতের উষ্ণতা পেতে খুঁজি প্রেমিকাকে
কামনায় প্রেমের ছোঁয়া পেতে বসন্ত বেলায়,
বসন্ত, চির যৌবনা তুমি ঋতুরাজ 
বাস্তবে আছ সতত আশাবাদী হৃদয়ে।

- পুলক সাঁপুই

Monday, February 6, 2023

বকলম ৪



#বকলম_৪

এক মোরগ দুপুর বেলা ঝুঁটি নেড়ে গেল মাছ শিকারে বন্দুক নিয়ে তালদীঘিতে। সাথে ছিল পুষি বিড়াল হাতে-হাত ধরে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে ঠোঁটে গোলাপী লিপস্টিক লাগিয়ে হেলতে-দুলতে।

একটা চোখ কানা কাতলা মাছ আড় চোখে দেখছিলো সবকিছুই কচুরিপানার আড়াল থেকে।

মোরগ বন্দুক উঁচিয়ে তাক করছিলো কমলা রঙের সরাল পুঁটির দিকে।
ঠিক তখনই আবদার করে পুষি বিড়াল মোরগের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে - "ম্যাওও"।

মোরগ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ট্রিগার দেয় টিপে,
গুড়ুম শব্দে গুলি যায় ছুটে।
লাগে গিয়ে হলুদ এক কামরাঙায়, গাছ থেকে কামরাঙা মাটিতে পড়ে ছিটকে। থেঁতলিয়ে  হয় রসে চটচটে চারিদিকে।

মাছরাঙা ঝোপ থেকে উড়ে যায়, চিৎকার করে গালি দিয়ে বলে - "বোকাপাঁঠা"।

সরাল পুঁটি ভেংচি কেটে সড়াৎ করে যায় পালিয়ে।

কোলা ব্যাঙ কোথা থেকে থপ করে লাফ দিয়ে এসে থ্যাতলানো কামরাঙার রস চাটে
চটাস চটাস করে।

তাল গাছের ফোঁকর থেকে হুতুম পেঁচা চোখ মেলে ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ পাকিয়ে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে বলে;-
"হালায় কামডা করলো কেডা?
যেথায় যেমন - কর গা তেমন
আমায় এহন শুইতা দে।"
এই বলে ফট করে চোখ বন্ধ করে ঘড় ঘড় ঘ্যাড়ত ঘ্যাড় করে নাক ডেকে ঘুমাতে লাগলো।

কানা কাতলা ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে মনে মনে বলে - ল্যা হ্যালুয়া বোঝো ঠ্যালা।

#পুলক সাঁপুই।




Wednesday, February 1, 2023

বকলম ৩

#বকলম

আমি কি মানুষ?
প্রয়োজন নেই জানার, হতেও পারি জানোয়ার!
কি বা আসে যায় এতো ভেবে!
আমি কি ভাবতে পারি? আচ্ছা!
জীবজগতে সকলে কি ভাবতে পারে!?
দূর! আমার মগজ নেই;- এটাই নিই ভেবে,
তবে, সব ল্যাঠা যাবে চুকে।
তবুও কেন অসংখ্য প্রশ্ন জাগে মনে?
প্রশ্নের ছত্রাক ভরে যাক দিগন্তে
আমার অনুভবের প্রয়োজনীয়তা নেই-
পৌঁছাতে যে কোন সিদ্ধান্তে।
ভাষা খুঁজি নিজেকে বোঝাতে
কঠিন অভেদ্য শব্দের প্রয়োগে; -
ষড়যন্ত্রে বরাহ নন্দন হইবে নান্দনিক
ধনাত্মক মননের বিশুদ্ধতায় সুচারু অঙ্কনে।

- পুলক সাঁপুই 

Thursday, January 19, 2023

পাগল ভৈরব ৩২

”পাগল ভৈরব - ৩২”

"মানুষের মূল্য"

শহরের অবহেলিত স্থানে  পরিত্যাক্ত গোরস্থান
জনমানব শূন্য, নিস্তব্ধ, গাছগাছালি ভরা অন্ধকার প্রায়।
দুপুর বেলা ঘূঘুর ডাক, পাগল ভৈরব বসে নিম গাছের তলায়।
প্রশ্ন জাগে মনে, ভৈরবকে সুধাই
মানুষের মূল্য কতো এই চরাচরে!?
পাগল বলে; - মানবিক মূল্যবোধের নিরীখে,
মানুষের কাছে মানুষের মূল্য অনন্ত
এখানে নেই ভেদাভেদ শিশু-বৃদ্ধ, নর-নারী পঙ্গু অথবা দীর্ঘ সহনে মৃতপ্রায়।
মানব প্রেমে সর্বদাই মানুষ একে অপরের সাথে।
প্রকৃতির কাছে অতি তুচ্ছ মানুষ এই প্রাণী জগতে,
বিবর্তনে, - ডাইনোসর কিংবা টুনটুনি অথবা মানুষ
একই পদ্ধতিতে গাঁথা এই দুনিয়া।
অলীক ঈশ্বরের নামে হরেক ধর্ম বিষফোঁড়া হয়ে ওঠে মানবধর্মের  মাঝে।
মানুষের মূল্য খুঁজে পাবে প্রেমে-জ্ঞানে বিতরণে মানুষের মাঝে।

- পুলক সাঁপুই

Friday, November 4, 2022

"বকলম"-২


"বকলম" -২
মাছ ভাজার গন্ধ ম ম করে। 
চারিধার ঘুর ঘুর করে পুষি খুশি হয়ে।
আড়কাঠ বেয়ে উঁকি মারে ঝুঁকে হেঁশেলে।
শিকেয় মাছভাজা তোলা। 
অনেক চেষ্টায় পেতে ভাজা মাছ। 
না পেয়ে নাগাল, হয়ে নাকাল, শেষে ব্যাথা পায় পুষি। 
মনের দুঃখে যায় বনে, আরো পুষি সেথায় জড়ো হয় হরেক রকমের অ-সুখ নিয়ে।
এখন পুষি একা নয়, দল হয়। 
পুষি-পুষি ছয়লাপ। 
এক পুষি গান গায়, আর এক পুষি বাঁশি বাজায়। 
আরো পুষি মাদল বাজায়, নাচে ধিতাং ধীতাং তালে। 
পুষিদের মাতলামি বাদল দিনে বিয়ার খেয়ে শুরু করে। 
বাদল ঝরে, এই কারণে দ'পড়ে পা পিছলে অতএব দল থেকে বাদ পড়ে 'দ'। 
পড়ে থাকে বাকি কে? খুঁজি তন্ন তন্ন করে।
#পুলক_সাঁপুই। 

Wednesday, November 2, 2022

'বকলম' -১



"বকলম" -১
#পুলক_সাঁপুই।

কাকভোরে কাক ডালে বসে 'কা-কা' ছেড়ে 'কোঁ-ক্যোর-ক্রো' করে ডাক দিতে বৃথা চেষ্টা করে।

আমড়া গাছের ডালে ডালে ঘুঘুর ঘুর-ঘুর বাড়ে বেলা বাড়ার সাথে সাথে।

বেলা দ্বিপ্রহর, বিড়াল বিছানায় মত্ত হয়ে খেলায় তৃপ্তি পেতে চায়।

অন্যদিকে, বেলগাছে পাকা বেল হলুদ হয়ে। নেড়া দাঁড়িয়ে তফাতে; ঢিল ছুঁড়ে কাক তাড়ায় অপ্রয়োজনে।

বিকালে পড়ন্ত আলোয় মাঠে বসে দুই বন্ধু দুই পানে তাকিয়ে ঝগড়া করে।
পূর্বদিকের আকাশে তাকিয়ে খরগোশ বলে; আকাশ ঘন নীল, পশ্চিম দিকে তাকিয়ে সজারু বলে আকাশের রং কমলা।

সন্ধ্যায় ব্যাঙ 'ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ' করে আষাঢ়ে গান শোনায়; বৃষ্টিকে কাছে পেতে।

রাতে চাঁদের আলোয় কিংবা অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে সুখপাখি সুখে ঘুমায় রঙিন স্বপ্ন দেখে। 

Thursday, October 20, 2022

পাগাল ভৈরব -৩১


"পাগল ভৈরব -৩১"

হেমন্তের কুয়াশা গায়ে মেখে
নদীর পাড়ে অশ্বত্থ তলায় বসে আমি আর ভৈরব,
দুরে পালতোলা নৌকা যায় সারি দিয়ে, আবছা দেখায়
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ আর পাখিদের কূজন সুন্দর সকালে।
অন্তর থেকে বুদবুদ ওঠে সহস্র প্রশ্নের,
বিনম্র ভাবে জানতে চাই পাগলের কাছে -
পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্দ কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে মানুষের সাথে?
পাগল বলে শান্ত স্বরে; -
আমরা প্রতিপালিত হই সমাজে,
সমাজ নির্ভর করে ধর্ম ও অর্থনৈতিক আবহে
পাপ-পুণ্যের পরিমাপ হয় বাঁচার তাগিদে অনুমোদিত বিধি পালনে।
এখানে যাহা পাপ অন্য কোথাও তাহা পুণ্য সেথায় যাহা মন্দ হেথায় তাই ভালো,
পাপ-পুণ্যের খেলা খ্যালে ঈশ্বর নামক ধর্মে
মানব ধর্মে পাপ-পুণ্য নেই, আছে জ্ঞান চেতনা মানবিক দর্শন।
নয়তো অমানুষ; - শিক্ষিত হও ধনবান হও অথবা ক্ষমতাবান।
ধর্ম দেখায় কুসংস্কার সমাজ দেখায় লৌকিকতা
রীতি-নীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ সবই আছে প্যাঁচে বাঁধা।
প্রশ্ন করো নিজেকে উচিৎ ও অনুচিৎ কোন ভিত্তিতে গড়ে ওঠে?
সঠিক অনুধাবনে নিজেকে ব্যক্ত করো।
অন্যের প্রতি নয় নিজের প্রতি চেয়ে দেখো
অন্যের প্রতি সমালোচনা নয়; নিজেকে নিজের সমালোচনা করে বিশুদ্ধ হও।
মানব জনম নিয়ে মানবধর্ম প্রতিপালনে
প্রকৃতির প্রেমে প্রেমিক হয়ে আত্মসমর্পণ করো।

- পুলক সাঁপুই।
 

Friday, October 7, 2022

"পাগল ভৈরব -৩০"

পাগল ভৈরব -৩০
- পুলক সাঁপুই।

পাহাড়ের ওপর হতে দেখি আন্তরীক্ষ দৃশ্য -
ভ্রমণ করি ট্রায়াসিক যুগে
প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং লাভা প্রবাহের জন্য সৃষ্ট,
প্রাগৈতিহসিক থেকে বর্তমান সময়ে,
বদলায় ইতিহাস এই পাবাগড়ের।

অনতিদূরে প্রকান্ড পাথরের নিচে পাগল ভৈরব,
শালিক, বন ছাতারে ও কাঠবিড়ালির ঝাঁক তার সাথে।
সন্তর্পণে যাই, পাসে বসি, প্রাকৃতিক মহিমায় উদ্ভাসিত হই।
জানতে চাই পাগল ভৈরবের কাছে -
প্রকৃতির সাথে কেমণ করে রাখি নিজেকে
বাস্তবতার নিরিখে ভিন্ন পরিস্থিতিতে -
পাগল বলে: -
"প্রকৃতি ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে আপন মহিমায়।
প্রকৃতি সুন্দর নিজেই নিজের মাঝে। প্রকৃতির প্রেমে আজ এই পৃথিবীতে কণা থেকে পঞ্চোভূতে মানব,
প্রাকৃতিক প্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করো।
সত্তাকে ইবাদত করো আপন প্রত্যয়ে দৃঢ়তার সাথে কর্মের মাঝে।
প্রাকৃতিক খেয়ালে বিরাজে মন
নিষ্ঠা ও ধৈর্য্য সাথে রাখো কদম
মানবীয় মনে প্রেমকাননে ভ্রমণ করো আপন যতনে,
প্রকৃষ্ট মনে প্রতিপন্ন হও চেতনায় আপন মাঝারে।"

Friday, September 23, 2022

লেখা ইত্যাদি


চঞ্চলা মনে খোশখেয়াল
ভাবের ঘরে ডাকিও না অ-সুখ,
প্রেমাস্পদে অনুভূতি তরঙ্গে
নিজেরে ভাসাও আপন মাঝারে।


🌿
তোমাতে আমার প্রেমে নিরন্তর
তোমার ঐ কালো কেশের সুগন্ধী মেখে -
আমার অধর ছুঁয়ে যায় ললাটে তোমায় চুম্বন এঁকে।
তোমার উজ্জ্বল চপল আঁখিতে আঁখি মেলে 
তোমার ভেজা গোলাপী পাপড়ি ঠোঁটে ঠোঁট ভেজাই। 
তোমার বক্ষ যুগল পদ্ম বৃন্তের স্বাদ নিই প্রাণ ভরে,
এগিয়ে যাই আরো নিচে; নাভি প্রান্তে চুমু ভরে
এগিয়ে চলি নাভির অধোভাগ হতে নিতম্বদ্বয়ে -
যেথায় ওষ্ঠ অপরাজিতার মধুর স্বাদ পাই লোনা মিশ্রণে।
নিগূঢ় আলিঙ্গনে এক হয়ে রই তোমাতে আমাতে
এই ভাবনায় তোমাকে পাই আরো আরো গভীরে।


❤️
ভোর সকালে শীতল বাতাসে 
তুমি মনে মোর বেলিফুলের সুগন্ধ ভরে,
মধ্যাহ্নে আমোদে হৃদয়ে তুমি আছো 
জুঁইফুলের সুরভি নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে।

বিকালের আলোয় তুমি আমায় -
চাঁপাফুলের পরিমল ছড়াও অন্তরে অন্তরে,
সন্ধ্যার ঝাপসা আলোয় আসো কামনায়
কামিনীফুলের সুবাসে জড়িয়ে আদরে।

তুমি আছো প্রণয়ে নিশীরাতের রজনীগন্ধার মধুগন্ধে আলিঙ্গনে,
আমার প্রকৃতি তুমি প্রেমে বিবিধ সৌরভে
আছো অনুরূপে আমার হৃদয়ে নিগূঢ় ভাবে। 
🌿


#গল্প #স্বপ্ন
#pulaksanpui 

নীল আকাশ চারিদিকে, যেথায় দিগন্ত বিস্তৃত ছুঁয়ে যায় লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি, কমলা, - সবুজ পাতার মাঝে আরো কতো হাজার রঙের ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে, সেথায় তুমি আমি দুজনে প্রকৃতির সাথে এক হয়ে, প্রাকৃতিক বেশে সবুজ ঘাসের উপর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের অনুভূতি পাই এ'কে-অন্যের, শোভা দেখি প্রকৃতির নানা রঙের প্রজাপতি ও গঙ্গা-ফড়িং উড়ে বেড়ায় ফুলে ফুলে ঘাসে ঘাসে। - মুগ্ধ হই।
মুগ্ধ হই তোমার প্রাকৃতিক রূপে, বসন্ত বয়ে যায় আকাশে বাতাসে, বসন্ত বহে তোমার আমার মনে-দেহে কামনা-বাসনা জাগে পলাশ ফুলে ফুলে, তোমার চুলের স্পর্শ আমার মুখে-গায়ে সুগন্ধি কামিনী ফুলরে সাথে, তোমার চোখের তারা আমার নয়নতারা ফুলে, তোমার ঠোঁটে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ে,
তোমার বাহুতে বাঁধি গাঁদা ফুলের মালা, হাতে পরাই বেলিফুলের মালা,
পায়ে বাঁধি জুঁই ফুলের মালা, তোমার গলায় কাঞ্চন ফুলের মালা পরাই নিখুঁত ভাবে বক্ষের দুই পদ্ম কুঁড়ির মাঝে ঝুলিয়ে, তোমার পিঠে হাতটি আমার ঘোরে চারিধারে, তোমার নাভি হতে জঙ্ঘা দ্বয়ে সুড়সুড়ি দিই শিরীষ ফুল দিয়ে, তোমার অপরাজিতার লাগলো নেশা আমার হৃদয় জুড়ে, আমি সুগন্ধ নিই, স্বাদ নিই জিহ্বা দিয়ে, স্পর্শ করি তোমায় সুখ কামনায়, বাসনায় দেখি রহস্য কোথায় আছে। আমার ধুতরা মিলন ঘটায় তোমার অপরাজিতার সাথে তোমার ইচ্ছার সাথে। প্রেমরসে মধুমাখা হই পরস্পরে প্রেমের অন্তিম সুখে। এমন করে স্বপ্ন কাটে আমার প্রেমের সাথে। ঘুম ভাঙে বাস্তবতার মাঝে সময়ের সাথে, সময়ের হাতে। বয়ে নিয়ে চলি এমন করে একা একা ভালোবেসে।



 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...