"পাগল ভৈরব- ৫"
- পুলক সাঁপুই।
পূর্ণিমার চাঁদ অপরূপ স্নিগ্ধতায় মায়াময়
শান্ত নদী কলকল শব্দে বয়ে যায়,
মৃদুমন্দ বাতাস, নৈসর্গিক দৃশ্য- আহাঃ!
প্রকৃতির এ রূপে নিজেকে হারাই।
হটাৎ চিৎকার, পাগল ভৈরবের আবির্ভাব,
ছেঁড়া পোশাক যেমন হয়, অতিরিক্ত আজ
হাতে লাঠি ও মাথায় কাগজের তাজ।
লাঠি উঁচিয়ে বলে;-
"আমি এই নদীর বারি বিভক্ত করে রাস্তা বানাতে পারি,
সেই পথ ধরে হেঁটে যা- জনে জনে অনায়াসে অপর প্রান্তে,
হা হা হা আমি ঈশ্বর সমান।"
শান্ত আবার,
নিস্তব্দ আবার ফিরে পাই,
পাগলের কথার সারমর্ম বুঝতে চেষ্টা করি।
কিছু পরে আবার ওঠে রব:-
"চাঁদকে দ্বিখণ্ড করবো এখুনি; আঙুলের ইশারায়,
ওই তোরা দেখে যা আমার ক্ষমতা,
আমি ঈশ্বরের দূত;- হা হা হা..."
আবার সব নিঃশ্চুপ।
এক পেঁচা উড়ে যায় নদী তীরে, হয়তো তৃষ্ণা মেটাতে।
কিছু পরে আবার গুরু গম্ভীর ধ্বনি;-
"আমি বিশ্বরূপে দর্শন দিতে পারি।
অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপ্ত,
আদি অনন্ত রূপ;- হয়ে বিশ্বেশ্বর,
হা হা হা, আমি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান।
আমি অলৌকিক, আমি সর্বজ্ঞানী,
আমার কথা যদি না করিস বিশ্বাস-
এই অধুনিক যুগে হাতে মুঠোফোনে
তোরা মুনাফেক, তোরা জাহান্নামী,
তোরা পাপিষ্ঠ, তোরা নরকগামী।"
এই বলে পাগল থামে,
গিয়ে শুয়ে পড়ে এক ভাঙ্গা নৌকার খোলে।
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক নিস্তব্দ বাড়ায়,
প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরের অস্তিত্ব কোথায়? খুঁজি তাই।
নির্মল নিল আকাশ, কোদাল কাটা সাদা মেঘ
এরোপ্লেন ভেদ করে যায় বিকট শব্দে।
বাড়ী ফেরার সময় উঁকি দেই পাগলের কাছে,
"কিরে ব্যাটা, কি চাই? এখানে কেন?" -
ভৈরব শান্ত স্বরে বলে।
জানতে চাই তার কাছে, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক কি?
"বিশ্ব চরাচর চলে নিজের খেয়ালে,
প্রকৃতি, তোর আমার সকলের সম্পূর্ণতা দেয়।
ঈশ্বরের নামে, ধর্মের ভেক ধরে মানুষ স্বার্থের তাগিদে
কাড়াকাড়ি বাড়াবাড়ি হানাহানি করে মরে।
চেতনার চৈতন্যে মানবতা প্রতিষ্ঠা পায়
ঈশ্বর সেথায় মৃত্যুর পদযাত্রী।