Friday, January 28, 2022

"আমি, তুমি ও ঈশ্বর"

"আমি, তুমি ও ঈশ্বর"
- পুলক সাঁপুই।


আমি সত্য আমার কাছে;
তুমি সত্য তোমার মাঝে।
তুমি আমার কাছে বিশ্বাস ও ভরসা মাত্র;
যেমন আমি তোমার কাছে।
আমি কতোটা পারি তোমায় ধারন করতে;
তুমি আমার থেকে কতোটা পাবে!?
আমি অবিশ্বাসী হতে পারি,
তুমি ও তেমন আমাতে।
আমাদের এই বিশ্বাস ও ভরসা-
আনুপাতিক ভিত্তিতে চলে।
ঠিক যেমন আছে ঈশ্বর মানুষের মাঝে। 

ঈশ্বর প্রত্যেকের। - নয় কারোর পিতৃপুরুষের।
কেউ অন্ধ ভক্ত হয়ে, কেউ আংশিক;
কেউ বা ঈশ্বর শূন্য ভাবতে পারে,
যার যেমন মন!
ঈশ্বর হয়ে থাক তেমনই তাহার আপন মনে।
আপন সত্যে সম্পূর্ণ বিশ্বাসে এগিয়ে যাওয়া আপনার পথ।
আমি, ধর্মের রঙের ঈশ্বরকে দিই নির্বাসন;-
বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধের কারণ।
তাই, ঈশ্বরকে পাই কর্ম মাঝে সতত,
ঈশ্বর আমার প্রেম নিরন্তন জীবনে,
ঈশ্বর প্রতিষ্ঠিত আপন অন্তরাত্মায়।

 

Monday, January 17, 2022

"শিশুটি"

"শিশুটি"
- পুলক সাঁপুই 

এক শীতের সকালে চলেছি রাস্তায়
দেখি এক শিশু লেংটা; ছেঁড়া জামা গায়,
ধুলা মাখা সারা দেহে; শীতে কাঁপে থরর থরর!
কাছে এসে ধরে হাত; টানে আমায়।
বলে; "বাবু, কিছু দাও গো আমায়; ক্ষুদা লাগে বড়,
অনেক দিন হতে খাইনি এখনো"।
ঈশ্বরকে দেখি এই শিশুটির রূপে-
মন্দীর, মসজিদ, গীর্জা পেরিয়ে হেথায়;
এমনই করে দেখা দেয়।
ধর্মের রঙে নয়; জাতের তফাতে নয়; মানুষের মাঝে,
এই ভাবে করি ইবাদত মানবের অবয়বে ঈশ্বরে।

 

Friday, January 14, 2022

"প্রেম"

"প্রেম"
-পুলক সাঁপুই

আমার চলার পথ মিলিয়েছি
তোমার পথের সাথে।
তুমি আঁকো হাজার ছবি
আমার ক্যানভাসে।
তুমি লেখো সহস্র কাব্য
আমার হৃদয় মাঝে।
আমার অঙ্গে তোমার ধারা
ধারণ করেছি অনুরাগে।
তোমার হেতু আমার হিল্লোল
তুমি আছো সতত সুন্দর হয়ে।

******************

তুমি আছো প্রতিমুহূর্তে হৃদয় গহনে
অনুরাগে মানবী রূপে,
কামনার পরিপূর্ণতায় আছো তুমি;
তুমি আছো উদ্ভাবনী শক্তি রূপে।
তুমি অদ্বিতীয়া আপন সৃজনে;
অপার আশায় তোমার সম্পূর্ণতা পেতে-
তোমার বিচ্ছুরণ দেখিতে সমাজে।
এই ভূমিতে আছি যতদিন;
আমি তোমারই হয়ে রইবো যতনে,
প্রেমধারা অমর রহিবে তোমাতে-আমাতে।

*****************

তোমার চোখে দেখেছি প্রেম
রেখেছি হৃদয়ে যতনে,
শুনেছি তোমার অন্তরের গান
সুরভিত হয়েছে প্রাণে।
আছো তুমি নিগূঢ় হয়ে
সংযোগে চিত্ত মাঝে,
নিরীশ্বরবাদীর পথে আমি
ঈশ্বর আমার প্রেমে।
******************
"প্রেম"

তোমার নিরবতায় অনুতাপ জাগে
তোমার হিল্লোলে বাসনা পূর্ণ হয়,
শুন্যবাদের শক্তি নিয়ে মনে
সৃজন করি চেতনায়। 

ভালোবাসার বাতাসে উড়িতে প্রাণ
তোমার হৃদয়ে রাখতে মন,
বুঝি তাই বারে বারে করি ছলনা;
করিতে তোমায় নিবিড় আলিঙ্গন। 

বাতাস হইব তোমার নিঃশ্বাসের;
বারি হইব তোমার তৃষ্ণার;
বস্ত্র হইব তোমার অঙ্গের;
প্রেম হয়ে রহিব তোমার হৃদয়।


 

Monday, January 3, 2022

"প্রেম"

"প্রেম"
-পুলক সাঁপুই 

ওগো প্রেম নেবে গো প্রেম...
হাঁক ছাড়ি সারাদিন, বেচি প্রেম।
অনেক সস্তা করে দেবো আমার এ প্রেম।
দুই পোয়া কেনো যদি, ফাউ দিয়ে- দেবো এক সের প্রেম,
প্রেম চাই প্রেম, সস্তায় দিয়ে যাবো প্রেম।
এই স্বার্থের দেশে প্রেমের মূল্য সকলেই বোঝে-
আমি বুঝিতে চাই;- প্রেম আসে হৃদয় থেকে না মস্তিষ্ক থেকে?
আমার প্রেমের মূল্য তাই কানাকড়ি ও নয় বুঝি!
স্বার্থের কারণেই প্রেমের গুনমানের দর কষাকষি।
স্বার্থের ভরের পরিপেক্ষিতে প্রেমের ঘনত্ব কমে বাড়ে।
স্বার্থ ফুরালে প্রেম দেখাবে নৈতিক শিক্ষা;- আকাশে উড়ে।
প্রেম নেবে গো প্রেম! সস্তায় কিছু দিয়ে যেতে পারি।
স্বার্থের বাজারে অধিক মুনাফা পাবে যদি বেচো প্রেম,
স্বার্থ শেষে প্রেম নিছক সঙ্গ অন্ধের রঙিন চশমার মতো।
প্রেম নেবে গো প্রেম, কিছু সস্তায় দিয়ে যেতে পারি।


 

Sunday, January 2, 2022

গল্প: "এসএমএস"

গল্প: এসএমএস
- পুলক সাঁপুই।
০৩-০১-২০২২ 

প্রচুর অর্কিডের ছবি কিছু দুজনার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের পুরানো ছবি ও একটা বিশাল লম্বা এসএমএস পায় রীমা এক বিদেশী ফোন নাম্বার থেকে।
চমকে উঠে রীমা, হতভম্ব হয়ে পড়ে কিছুক্ষন, শেষে লেখা ইতি তোমার সিদ্ধার্থ।
চোখে ভেসে ওঠে সেই ছয় বছরের রিলেশনশিপ, যা উজ্জ্বল হয়ে আছে চির জীবনের মনের খাতায়। এর পরে ও কেটে গেছে আরো এক যুগ। আজ কেনো এই বিভীষিকা?? এমন তো কখনোই চাইনি রীমা। বারো বছর আগেই পাঠ চুকেছে সিদ্ধার্থের সাথে, সে বোটানিতে research রিসার্চ করতে স্কলারশিপ পেয়ে চলে যায় (Amsterdam) আমস্টারডাম, আর কোনো খবর ছিলনা তার। এর পরেই বাবা মায়ের ইচ্ছায় বাধ্য হয়েই বিয়ে করতে হয় রীমাকে। স্বামী ও নয় বছরে একটি মেয়ে এই সংসার জীবন। চাকরী সূত্রে আছে মুম্বাই। স্বামী, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরী, বিয়ের বছর না কাটতে কাটতে দুজন দুজনকে বুঝে নেয় মানসিক দিক থেকে দুজনেই আলাদা আলাদা, শারীরিক চাহিদার প্রয়োজনেই দুজনে একসাথে হয়।
তাই, সিদ্ধার্থের সাথে সেই ছয় বছর রীমা  স্বর্ণোজ্জল স্মৃতিচারণে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায়। কিন্তু, আজকের এই ঘটনায় রীমা কিংক্তব্যবিমূঢ় হয়।
রীমা এসএমএস পড়ে সিদ্ধার্থের আসল উদ্দেশ্য খোঁজে; অনেক কষ্টেই এক রীমার ক্লাসের বান্ধবীর থেকে ফোন নাম্বার পেয়েছে সিদ্ধার্থ, কোনো এক সেমিনারে মুম্বাইয়ে কিছুদিনের জন্য আসছে সিদ্ধার্থ।
তাই দেখা করতে চায় সিদ্ধার্থ রীমার সাথে।
কিছু প্রজেক্ট করতে চায় রীমার সাথে ভারতে যুগ্ম ভাবে।
লেখার কিছু কিছু অংশ পড়ে রীমা শিহরিত হয়ে ওঠে-
"মনে পড়ে রীমা, আমাদের চিলেকোঠায় প্রথবারের মিলন বৈশাখের দুপুরের"
রীমার মনে পড়ে- সিদ্ধার্থের কাছে সম্পূর্ন অর্পন করে দিয়েছিল, মন ও শরীর। জীবনের প্রথম প্রেমের অন্তিম সুখানুভূতি।
সিদ্ধার্থ ছিলো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট, তার মনোমুগ্ধকর কথায় সম্মোহন হয়ে থাকতো রীমা। তার আদেশে আজ্ঞাবহ হয়ে চলতো রীমা।
রীমা এগারো ক্লাসে যখন, সিদ্ধার্থ এমএসসি শেষ করে পিএইচডি করতে সুরু করেছে। রীমা জানতো আরও একধিক মেয়েদের সাথে সিদ্ধার্থের শারীরিক সম্পর্ক আছে, তবুও রীমা সিদ্ধার্থের কাছে সম্পূর্নতা পেতে চেয়েছিল।
যাই হোক, জীবনে চলার পথে অনেক ঘটনা ঘটে, রীমা খুঁজে বেড়ায় এই সবের মানে:-
-স্বার্থ কি? 
-পাপ, পূর্ণ কাকে বলে?
-সত্য কি? সততা কি?
-মানবিক মূল্যবোধ কি? 
-জীবনের উদ্দেশ্য কি
__________________
-স্বার্থ কি? 
প্রতিটা মানুষ এমন কেন স্বার্থপর হয়?
নিজেদের প্রয়োজনে অন্যকে ব্যবহার করে? 
সিদ্ধার্থ সেই ছয় বছর তাকে নানা ভাবে ব্যবহার করেছে, আর এই বারো বছর পরে তাকে আবার মনে পড়েছে একই কারনে, স্বার্থ।
রীমা সিদ্ধার্থকে এই আরোপ করার পরে নিজেকে নিয়ে ভাবে:- রীমা ই প্রথম প্রপোজ করেছিলো সিদ্ধার্থকে, সিদ্ধার্থের ভালোলাগা গুলোকে স্বপ্নের আঙ্গিকে সাজিয়ে সিদ্ধার্থকে প্রেমে জড়িয়েছে সে নিজেই। দুজনেই আনন্দ নিয়েছে শারীরিক চাহিদার ও মনের চাহিদার। 
আর যখন ছাড়াছাড়ি ও মনোমালিন্য হয়েছে, শুধু তাকে দোষ দিয়ে লাভ ক্ষতির বিচার করছে।
অপরের উপর দোষ আরোপ করে আত্ম সান্তনা পাওয়া ছাড়া আর কোনো ও লাভ নাই। 

-পাপ, পূর্ণ কাকে বলে? 
তবে কি সে পাপী? খুঁজতে থাকে এর উত্তর রীমা। 
- ধর্মিয় রীতি নীতি ও জীবনধারা থেকে মানুষ এক অলীক কল্পনায় নিয়ম বানিয়েছে, সেখানে পাপ ও পূর্ণ-র নাম করে ঈশ্বর জাতীয় কাল্পনিক বস্তুকে সামনে রেখে ধর্মের স্বার্থে সমাজের আদিম প্রথা চলে আসছে এখনো।
যেমন;- হিন্দুদের কাছে গরুর মাংস খাওয়া পাপ, মুসলিমদের কাছে শুয়োর গোশত খাওয়া পাপ, মানবিক মূল্যবোধের দিক থেকে দেখলে গরু ও শুয়োর খেলে পাপ ও পূর্ণ কিছুই হয় না। পাপ ও পূর্ন বলে কিছু নেই।
হিন্দু মেয়েদের বিয়ের পর শাঁখা- সিঁদুর পরতে হয়, নইলে পাপ হয়, মুসলিম মেয়েদের চুল ঢেকে রাখতে হবে, নইলে পাপ হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এইগুলি মূল্যহীন।
এক দেশের মানুষ যাকে পাপ মনে করে, অন্য দেশের মানুষ তাকে পূর্ণ মনে করে। এখানে মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পথ চললে কি কিছু পাপ-পূর্ণর সজ্ঞা পাওয়া যায়? মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উন্নতমানের হলে, ও আত্মজ্ঞান থাকলে পাপ-পূর্ণ মিথ্যা হয়ে যায়। 
রীমা নিজেই স্বীকার করে যে
সত্যি কথা বলতে কি সিদ্ধার্থের কাছে সে ঋণী এই কারণে যে, তার জন্যই বোটানি নিয়ে পড়াশোনা।
গ্র্যাজুয়েশন ও এমএসসি খুবই ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছিল শুধুমাত্র তার জন্যই। তার অগাধ জ্ঞানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পেরেছে। সে বিয়ের পরে পরেই ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে চাকরী করে এবং নিজের কর্মদক্ষতায় পদোন্নতি পেতে থাকছিল; কিন্তু তাঁর স্বামীর কারণেই ছাড়তে বাধ্য হয় চার বছর পরে।
আরো এমন অনেক প্রগতিশীল কাজকর্ম করতে গিয়ে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হতে হয়েছে রীমাকে স্বামীর কাছে। হায়! পাপ-পূর্ণ সত্যিই কুসংস্কার।
-সত্য কি? সততা কি? রীমা নিজেকে জিজ্ঞাসা করে এবং ভাবে সে নিজে কোন রাস্তায়?
নিজের জীবনের সমস্ত কর্মকাণ্ড যা নিজে স্বাক্ষী বহন করে এগিয়ে চলেছে তাহাই সত্য। নিজের সত্য প্রয়োজনে কোথাও প্রকাশ পায়, আবার কোনো সত্য আজীবন কোথাও প্রকাশ করা যায় না। সত্য প্রকাশ করে অন্যের কাছে সততা দেখানোর কোনোও প্রয়োজন নেই। যা সত্য তাহার ন্যায্যতা প্রতিপাদন করা আবশ্যক নয় কখনোই অন্যের কাছে।
তবে, সততা কি? 
মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পথ চলাই সততা।
দেহকে সমজের নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত করতে বাধ্য। দেহ নিজের হয়ে ও নিজের নয় অনেক অংশেই।
কিন্তু মন সম্পূর্ন নিজেরই থাকে, সেই মনের স্বাধীনতাতেই সে উৎজিবিত করে প্রেমের মাঝে এগিয়ে চলতে চায় সারাজীবন। 
এই সত্য তার কাছে একান্ত আপন। জীবন কাটাতে চায় সততা বা মূল্যবোধের মাঝে।
-মানবিক মূল্যবোধ কি? 
কর্তব্যবোধ বা শ্রদ্ধাশীলতার সাথে কাজ সম্পূর্ন করা মানবিকতা।
ব্যাক্তি জীবনে একে অপরের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। - এটা ও মানবিকতার মধ্যেই পড়ে, সেখানে স্বামী বা স্ত্রী বা সন্তান বা প্রেমী যে কেউই হোক না কেন।
  ব্যক্তি জীবন সম্পূর্ন আপন পথে চলে, কেউ কারোর গোলাম নেই সেথায়।
-জীবনের উদ্দেশ্য কি? 
রীমা নিজেকে জানতে চায়। অপরকে দোষ না দিয়ে, কর্তব্যের মাঝে নিজেকে সংগঠিত করে সৃজনশীল কাজে এগিয়ে যাওয়া জীবন, জীবনের উন্নতির পথে যে সাথে থাকবে সেই প্রেম। সেই আপনজন।
মনের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রেমের পথেই আগামী দিনগুলো কাজে লাগাতে চায় রীমা, উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে আবার যোগ দিতে চায় সিদ্ধার্থের সাথে নতুন বোটানি প্রজেক্টে।
জীবনের গতিপথ প্রাকৃতিক নিয়মে এগিয়ে চলা প্রেমের মাঝে, ইহার নাম ই জিন্দেগী।

 

Saturday, January 1, 2022

"ধার্মিক"

”ধার্মিক”
- পুলক সাঁপুই। 

ঈশ্বরের ধর্ম ভেদ তোমাদের মনে;
মানবতার কথা বলো কেমনে?
ধার্মিক তুমি হতে পারো,
মানবিক নয় তোমরা তবে।
ছবি তুলতে পারো ক্যামেরায় বিভিন্ন আঙ্গিকে;-
ভিন্ন ধার্মিকের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
প্রয়োজনে তোমরাই বাঁধাও বিভেদ
আগুন জ্বালাও জাত ও ধর্মের নামে,
অন্ধ ভক্ত সব ঘোরে আলিতে গলিতে
মৃত্যুর পরে স্বর্গ ও জান্নাতে উন্নত মানের সেবা পাবার লোভে,
জীবিত থেকে ও মৃত তারা আপন মগজে।


 

Thursday, December 30, 2021

"প্রতিচ্ছবি"

"প্রতিচ্ছবি"
-পুলক সাঁপুই। 

আরশির সামনে দাঁড়াই
প্রতিচ্ছবি দেখার ইচ্ছায়।
খোলা আকাশ নীল-
বিস্তীর্ণ মাঠ সরষে ফুল হলুদ
হলুদ শাড়িতে পেয়ারী ছদ্ম-আবরণ
প্রজাপতি উড়ে বেড়ায় রংবেরঙ।
রজনীগন্ধা ফুলের সুগন্ধ পাই যেন-
পুনর্মিলনের পূর্ণ হলো বছর,
কর্তা সোনার পাথর বাটিতে ক্ষুদা মেটায়।
আরব সাগরের ইলিশ পদ্মায় ধায়,
প্রেমের আঙ্গিকে প্রেমী গোলাপ গোঁজে মাথায়।
অপরাজিতা ফুল ফোটে
মৌমাছি খোঁজ নিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ কর্তার প্রতি রমণী,
আমি ভবঘুরে শূন্যবাদী পথিক ঘুরি দিবারাতি।
লীন হয়ে আছি বিবেকের সাথে
বাড়ী ফিরিবার পথ নাই।

 

Monday, December 27, 2021

"ডাইনোসর"

"ডাইনোসর"
-পুলক সাঁপুই

স্বপ্ন দেখি ডাইনোসরের যুগের-
একা একা হাঁটি কোটি কোটি বছর ধরে।
মাইকোর‍্যাপ্টর, অ্যাপাটোসরাস, এডমন্টোসরাস, অ্যাঙ্কিলোসর, হেররেরাসরাস, দিপ্লোডকাস, স্টেগোসরাস, ট্রাইসেরাটপ্‌স্‌ ইত্যাদি হাজার প্রজাতি,
সেথায় দাপিয়ে বেড়ায় পৃথিবীটারে।
আরো কতো লক্ষ কোটি বছর কেটেছে,
মানুষ এসেছে তার পরে,
ঈশ্বর যদি সত্যিই থাকে? তবে,
মানুষের সৃষ্টি করেছে কেন এতো পরে??
ডাইনোসর ও বিভিন্ন প্রজাতির সাথে হাজার হাজার বছর ঈশ্বর করেছে কি তবে?
অবাস্তব কাল্পনিক কাহিনী আছে ঈশ্বরের নামে ধর্ম পুস্তকে ভরে ভরে।
ধার্মিকেরা তাহা পাঠ করে মোহগ্রস্ত হয়ে
ড্রাগের নেশার মতো বুঁদ থাকে।
এই ভেবেই ঘুম ভাঙে- ডাইনোসর নেই কোনো ধর্ম পুস্তকে।
ধার্মিকেরা হানাহানি করে প্রাগৈতিহাসিক যুগের জানোয়ারের মতো,
মানুষ জন্ম নিয়ে মনুষ্যত্ব হারিয়ে।

 

Thursday, December 23, 2021

"দম্পতি"

"দম্পতি"
- পুলক সাঁপুই
২৪-১২-২০২১

শুভ বিবাহ বন্ধনে জুড়ি বাঁধে সারাজীবনের জন্যে-
এমন ধারা চলছে ভবের হাটে,
দিবা রাত করিতে ঈশ্বরের ইবাদত সুখের তরে।
শুভ পরিণয় হয়-
ঈশ্বর সাক্ষী রেখে, ধর্মের রীতি অনুসারে, ধর্মগুরুর প্রতিনিধিত্বে, অসংখ্য মানুষের দোয়া ও আর্শীবাদে।
এর পরে ও;-
যদি দেখ ঘরে ঘরে, নব্বুই ভাগ দম্পতি আছে-
একে অপরের প্রতি হৃদয় ছেঁড়া বিতৃষ্ণা সম্পর্কে।
আজ যারা অসুখী, বেদনায় নিরবে অশ্রু ঝরায়- কোন সে ঈশ্বরের কৃপায়!?
হায় ধার্মিক! আপন আত্মবিশ্বাস অলীক ঈশ্বরের নামে হারায়।
ঈশ্বর শূন্য;- শুধুমাত্র ধর্মের নামে ঠকায়।
ধার্মিক নয়;- হয়ে মানুষ। ঈশ্বরের বিশ্বাস নয়;- আত্মবিশ্বাস। অন্যের করুণায় নয়;- আত্মনির্ভরে;-
জীবনধারা হউক বহমান।

 

Tuesday, December 21, 2021

Linocut Print

কথা
- Pulak Sanpui
#linocut
22-12-2021

মন ও শরীর
এক ও ভিন্ন,
মন অনন্ত, শরীর ধারা,
মন সত্য ও জটিল, শরীর বাস্তব ও সাধারণ
মন বাহক, শরীর ধারক।

 

Sunday, December 19, 2021

"মানবতা"

"মানবতা"
- পুলক সাঁপুই।
২০-১২-২০২১

ধার্মিকেরা যেমন ঈশ্বরের উপাসনা করে,
"ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়"- বলে, আমি বলি তা নয়।
প্রতি ধর্মেই আছে ঈশ্বর; তবে এক কেন হয়?
ধার্মিকেরা প্রয়োজনে পরিবর্তন করে ধর্ম-
এক ঈশ্বর হতে অন্য ঈশ্বরের করতে ইবাদত,
রীতি নীতি প্রথা- সবই পাল্টায় সেথায়;
দেখি এক কুসংস্কার থেকে অপর কুসংস্কারে পতিত হয়।
মানবতার অঙ্ক নেই সেথায়, কারণ-
মানবতার নাই পরিবর্তন; মানবতা সত্য সতত।
হরেক ধারায় ধর্মের ব্যাখ্যা চলে মিথ্যার বুনোটে,
কল্পনা ও বাস্তবের মিথ্যা নিয়মে বিষ ঢালে মানুষের মনে।
মানবতা রহে বিবেগের পথে নিত্য হয়ে।

 

"প্রেম ধারা"

"প্রেম ধারা" রেখেছি খুলে প্রেমাঙ্গনের দুয়ার তোমারই জন্য, এসো দেখো চেয়ে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ। পারলে কুড়িয়ে নতুবা ছিঁড়ে ...